গাজীপুর ৩:বিএনপিতে অভিজ্ঞ তরুণের মিশ্রণ একজনেই ভরসা জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বেজে গেছে। এরই মধ্যে দিনদিন তৃণমূল মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে চতুর্দিকে। বাদ পড়েনি গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদরের আংশিক) আসন। নতুন তথা তরুণ ভোটারদের আগ্রহের কথা বেরিয়ে আসছে সবার মুখে। স্বাধীনতার পর আসনটিতে দু’বার সংসদ সদস্য হন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। এ ছাড়া প্রতিবারই দখলে রাখে আওয়ামী লীগ। এবার বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, একক প্রার্থী নিয়ে জামায়াত জেতার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সাধ্যমতো প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ-তরুণের মিশ্রণে বিএনপি অন্যান্য দলগুলো থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কথা হয় ভোটারদের সঙ্গে। শ্রীপুরে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা রোকন মিয়া (৪৫)। তিনি বলেন, অন্যান্য সময়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি ভোট দেয়া হয়ে গেছে। কিন্তু এ বছর প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ এবং নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ভোট দিতে পারবো বলে আশাবাদী। কেওয়া গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান শেখ বলেন, এবার মানুষের মধ্যে ভোটের প্রতি আগ্রহ বেশি। তাদের আশা এবার সুন্দর এবং নিরাপদ পরিবেশে ভোট হবে। সাধারণ মানুষ এ আশার কারণেই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে উৎফুল্ল মন নিয়ে ভোট প্রদান করবেন। পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও। এখন পর্যন্ত বিএনপি থেকে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় তারা নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা হলেন- বিএনপি’র সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. সফিকুল ইসলাম সফিক, জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল আলম মাস্টার এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু। ডা. অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু দীর্ঘদিন থেকেই প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আমল থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী কর্মসূচি পালন করে আসছেন। মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। চিকিৎসক পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। নির্বাচনী মাঠে পেশাগত জীবন তাকে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও তিনি তৃণমূল বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, নতুন ভোটারদের বিএনপি’র প্রতি বেশি আগ্রহী। যারা এতদিন ভোট দিতে পারেনি তারা এবার বিএনপিকে ভোট দিতে প্রস্তুত। সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত শ্রীপুর গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় হাঁটছি।
গত ১৮ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিএনপি এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ময়দানে নিয়োজিত ছিলেন আক্তারুল আলম মাস্টার। তিনি বলেন, দলের ক্রান্তিকালে শক্ত হাতে ভূমিকা পালন করেছি। ক্রান্তিকালে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলার বিএনপি কর্মী হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলার শিকার হয়েছি। একাধিকবার জেল খেটেছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিএনপিকে স্থানীয় পর্যায়ে আরও গতিশীল করতে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত জনকল্যাণমূলক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো, ইনশাআল্লাহ।
তবে, বিএনপি’র তরুণ নেতৃত্বের ভাবনায় এগিয়ে আছেন ছাত্রদল নেতা রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু। তরুণ ভোটারদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। আওয়ামী আমলে একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা তথা তরুণ ভোটাররা দীর্ঘ সময় ভোট দিতে পারিনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে মূল তৎপরতা চালিয়েছে তরুণরাই। নতুন ভোটাররা বিএনপি’র প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী। তারা উন্মুখ হয়ে রয়েছে কবে তারা বিএনপিকে ভোট দিতে পারবে। আর বিএনপিও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চিন্তা করছে। সে হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। এদিকে, জামায়াত থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর এবং কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সদস্য ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারেনি। মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। ভোটের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। পেশীশক্তি, কালোটাকার দৌরাত্ম্য এখনো আছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন বলেন, বিগত পৌর, উপজেলা, জাতীয় নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের নির্বাচনী কমিটি রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অবস্থান অনেক ভালো। আমরা আশা করি আমাদের বিজয় নিয়ে আমরা ঘরে ফিরতে পারবো।
জনতার আওয়াজ/আ আ