চট্টগ্রাম-৯ আসন: ভিআইপি আসনে ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৫৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-৯ আসন: ভিআইপি আসনে ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ৫:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ৫:০২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

‘ভিআইপি আসন’ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-৯ আসনকে নিজেদের দখলে নিতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ভোটারদের মন জয় করতে তারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে ভূমিপুত্র হিসেবে ভোটারদের আবেগ কাজে লাগাতে এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন ইসলামিক ফ্রন্ট তথা বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী। এই আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থীও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কোতোয়ালি-বাকলিয়া থানা এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসন। এই আসনের ঘনবসতিপূর্ণ বাকলিয়ায় রয়েছে বিশাল ভোটব্যাংক। তারা ভোটের ফলে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাদের ভোট যেদিকে যায়, সেই প্রার্থীই আসনটিতে জয়লাভ করেন। এখান থেকে যে দলের এমপি নির্বাচিত হন, সেই দল সরকার গঠন করে– এমন একটি কথাও প্রচলিত রয়েছে। এখান থেকে বিজয়ী প্রার্থীরা মন্ত্রিত্ব পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবু সুফিয়ান। তিনি কিছু সময়ের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। কোতোয়ালিতে এলাকায় জামায়াতে ইসলামী গত ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রচার-প্রচারণায় নামে। দলটির প্রার্থী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক পুরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী প্রচারে নেমেছেন মাস দেড়েক আগে। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রচার চালিয়েছিলেন।

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমি কোনো শিল্পপতি কিংবা ধনাঢ্য ব্যক্তি নই। শৈশব থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি করে বড় হয়েছি। দল যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েও তা পালন করেছি। দীর্ঘ প্রায় চার যুগের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, তীতিক্ষা, দলের প্রতি কমিটমেন্টের ফলস্বরূপ দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এই আসনে যারা আমার সঙ্গে মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় ছিলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি কখনো হারেনি।’ সেই ধারাবাহিকতা এবারও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক জানান, স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ বেশ কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। জানাচ্ছেন, তার দল ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। যেখানে থাকবে না কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি। থাকবে সবার বাকস্বাধীনতা। দলের সেই বার্তাটিও তিনি সংসদীয় আসনের জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লার ওপর আস্থা রাখবে।

বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, ‘জোটের কারণে সর্বমহলে আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সুন্নি জনতার মাঝে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পরিষদের বৈঠকও হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভূমিপুত্র হিসেবে, বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রত্যাশা করছি। সব সময় বাইরের লোক নির্বাচিত হওয়ার কারণে বাকলিয়াবাসী আজীবন বঞ্চিত হয়েছে। এবার স্থানীয়রা ভূমিপুত্রকে বেছে নিতে চায়। অতীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামী সব দলেরই প্রার্থী ছিলেন বাইরের। যতজনই নির্বাচন করেছেন এবং এবার যারা করবেন তারাও চট্টগ্রাম-৯ আসনের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাই বাকলিয়াবাসী নিজের সন্তানকেই বেছে নেবেন। জয়ের ব্যাপারে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী।’

এই আসনে এবি পার্টি থেকে নির্বাচন করছেন দলটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সহসম্পাদক হায়দার আলী চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাকলিয়াবাসী অতীতে অনেক এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছেন। কিন্তু তারা বাকলিয়াবাসীকে কিছু দেয়নি। এই আসনে বেশির ভাগই রাউজান থেকে এসে এমপিগিরি করে চলে গেছেন। সামান্য বৃষ্টিতে বাকলিয়ায় জলাবদ্ধতা হয়। আমার জন্ম আন্দরকিল্লায়। আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বিশাল সম্পত্তি থেকে গরিব-দুঃখী মানুষকে জমি দিয়ে ঘর করে দেব। তাতে দুনিয়া এবং আখেরাত দুটিই পাব ইনশাআল্লাহ।’

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে এই আসনে এমপি হন বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান। বিএনপি সরকার গঠন করায় তিনি মন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে আবদুল্লাহ আল নোমানকে হারিয়ে নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এম এ মান্নান জয়ী হন। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনিও মন্ত্রী হন। ২০০১ সালে মান্নানকে পরাজিত করেন নোমান। বিএনপি সরকার গঠন করলে নোমান আবারও মন্ত্রিত্ব পান। আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি ২০০৮ সালে বিএনপির শামসুল আলমকে হারিয়ে এমপি হয়ে মন্ত্রী হন। এরপর আরও তিনটি নির্বাচন হয়। ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলু এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দুই মেয়াদের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা উপমন্ত্রী, দ্বিতীয় মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান নওফেল।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ