চা বুকিংয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অনীহা সুন্দরবন কুরিয়ার এজেন্সির - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৫০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চা বুকিংয়ের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অনীহা সুন্দরবন কুরিয়ার এজেন্সির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:৪৯ অপরাহ্ণ

 

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ছবি: প্রতিনিধি
উত্তরের চায়ের দেশ পঞ্চগড়ে চা পাচার এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্গো কিংবা পিকআপে করে অবৈধ চা পরিবহনে নানা সময়ে ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হওয়ায় বিভিন্ন কুরিয়ারের স্থানীয় এজেন্সিগুলোকে এখন চা পরিবহনের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন কারখানা মালিকরা।

সম্প্রতি এই বিষয়ে স্থানীয় এক কুরিয়ার এজেন্সির তথ্য প্রদানে অনীহা সেই বিষয়টিকে আবারো সামনে এনেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দেবীগঞ্জ এজেন্সির মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চা বুকিং নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য মেলে। এরপর সত্যতা যাচাইয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে উপস্থিত হয়ে সেখানে পপুলার টি ফ্যাক্টরির ১২ বস্তা চা দেখা যায়, যার প্রতিটিতে ৫০ কেজি চা ছিল।

পরে এজেন্সিতে কর্মরত মামুন নামে এক কর্মচারীর কাছে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে গোপনীয় বলে এড়িয়ে যান। এরপর এজেন্সি প্রতিনিধি মো. মিলনকে মোবাইলে বিষয়টি জানালে তিনি পরে ডেকে কাগজপত্র দেখাবেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

তাৎক্ষণিকভাবে চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের বিষয়টি মুঠোফোনে এজেন্সি প্রতিনিধিকে জানান।

তবে কিছুক্ষণ পরে এজেন্সি প্রতিনিধি মো. মিলন ঘটনাস্থলে এসে বলেন, “আমিও একসময় সাংবাদিকতা করতাম। হয়তো আপনার মতো বড় সাংবাদিক হতে পারিনি। কিন্তু হালাল রুজি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি।”

এক পর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় অনেক বিষয় অনেক সময় অভারলুক করতে হয়।”

চা বুকিংয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র দেখাব।”

পঞ্চগড় চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খান নিজের দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “এই বিষয়টি দেখভাল করবে কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট ডিপার্টমেন্ট। আপনি আমার নলেজে দিয়েছেন, আমি আমার গতিতে সুযোগমতো বিষয়টি তাদের জানাব। এরপরও আমরা খোঁজখবর নেব, তদন্ত করব।”

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, “চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।”

এদিকে, চা বোর্ড ও কাস্টমসের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে প্রতিনিয়ত দেবীগঞ্জসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার কুরিয়ার এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে কয়েক টন চা পাচার হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই আঞ্চলিক চা বোর্ড কুরিয়ারে চা পাচার ঠেকাতে বুকিংয়ের সময় ৫ ধরনের কাগজ জমা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় স্থানীয় কুরিয়ার এজেন্সিগুলোকে। এর মধ্যে রয়েছে চা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী খুচরা–পাইকারি বা বিডার লাইসেন্সের ফটোকপি, ব্রোকার্স হাউসের ডেলিভারি অর্ডার, ওয়্যারহাউসের ভ্যাট চালান (মূসক ৬.৩), বিডার থেকে চা ক্রয়ের প্রমাণপত্র এবং প্রেরিত চায়ের গন্তব্য ও বিবরণসহ ব্যবসায়িক প্যাডে বিস্তারিত তথ্য।

সেই সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসসমূহকে প্রতিদিনের বুকিংয়ের তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে মেইলে পাঠাতে বলা হয়।

যদিও চা শিল্প সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের দাবি, নির্দেশনা জারি করেই চা বোর্ড ঘুমিয়েছে। নির্দেশনা পালন করছে কিনা, সে ব্যাপারে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। একই সঙ্গে দায়ী কারখানা ও কুরিয়ার এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ