চুয়াডাঙ্গায় কেন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৩ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৩ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

‘ছোট ছোট মুরগির বাচ্চা পর্যন্ত হাঁপাচ্চে, হাঁপাতে হাঁপাতে এ্যামনে অটো মারা যাচ্চে। মুরগির বাচ্চা আমার সামনে মারা গেল। ইস্টক করে, হাট ইস্টোক (হার্ট স্ট্রোক) করে মনে হয়, যথাসম্ভব।’
দুপুর রোদের উত্তাপের তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে এই কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলার জিরাট গ্রামের বাসিন্দা শাহানুর ইসলাম।
তিনি বলেন, রোদের তাপমাত্রা এত বেশি যে সকাল দশটা-সাড়ে দশটা নাগাদই ভরদুপুরের উত্তাপ ছড়াতে থাকে রোদ।
‘এতো তাপ যে মাঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই।’ গরমে পশুপাখিদেরও ত্রাহি অবস্থা বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদফতরও বলছে যে শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। আর এর মাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, টানা প্রায় ১৩ দিন ধরেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙায় রেকর্ড করা হচ্ছে। আর এটি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর আশপাশেই থাকছে।
এরমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এবং আজ শুক্রবার এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষিকাজই শাহানুর ইসলামের জীবিকার উৎস। তিনি জানান, প্রচণ্ড তাপের কারণে পানের বরজের মাথা কালো হয়ে যাচ্ছে। পাটের যে ছোট চারা সেগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সেচও সেভাবে দেয়া যাচ্ছে না কারণ দিনে দুই-তিনবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। আর সেচের উপর নির্ভরতা বাড়ায় পানির স্তরও আগের তুলনায় নিচে নেমে গেছে বলে জানান শাহানুল ইসলাম।
শাহানুর ইসলামের মতোই আরেক কৃষক মান্নান মন্ডল। তার বাড়ি একই উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। শুক্রবার দুপুরে যখন মান্নান মন্ডলের সাথে কথা হয় তখন তিনি খোলায় ভূট্টা শুকিয়ে নিচ্ছিলেন।
গরমের কথা জিজ্ঞেস করতেই টানা একটা শ্বাস নিয়ে জানালেন ‘গরমে টেকাটা’ মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০টার পর রোদের উত্তাপে আর মাঠে থাকা যায় না বলে জানান তিনি।
রোদের উত্তাপ বোঝাতে গিয়ে মন্ডল বলেন,’আগলা গায়ে (খালি গায়ে) তো থাকাই যাবে না এমন তাপমাত্রা, কিন্তু গায়ে জামা থাইকলে ভালো হচ্ছে। খালি গায়ে থেকে মাঠে কাজ করা যাবে না, পিঠে ফোসকা পইরে যাবে।’
মন্ডল বলেন, ক্ষেতের ধানগাছগুলো তাজা রাখতে জমিতে পানি দিয়ে রাখতে হচ্ছে। আর মানুষের খাওয়ার পানি আসছে চাপকল বা গভীর নলকূপ থেকে। তবে সেখানে রোদের তাপে পানি গরম হয়ে গেছে। ঠান্ডা পানি পেতে হলে বেশ কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে আগে কিছু পানি ফেলে দিতে হয়। তারপর গিয়ে মেলে ঠান্ডা পানি।
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার নুরনগর এলাকার বাসিন্দা শামীম সরদার। গাড়ি ধোয়া-মোছা ও মেরামতের ব্যবসা তার। শামীম সরদারের সাথে কথা বলার সময় গরম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গায়ে কাপড় রাখা যাচ্ছে না।
জনতার আওয়াজ/আ আ