জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘ডোর-টু-ডোর’ পরিকল্পনা বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৩৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘ডোর-টু-ডোর’ পরিকল্পনা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ৮:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ৮:২৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ফাইল ছবি

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের ‘ডোর-টু-ডোর’ যাওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলটি বলছে, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনের মাঠে কীভাবে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা যায় এবং জনগণকে কীভাবে নির্বাচনমুখী করা যায়, সেটিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। কারণ দলটি দেখছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নানামুখী প্রোপাগান্ডা চলছে। ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলও যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে বিএনপি এখন মাঠে থাকার পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে যেতে চায়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি চালু এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ কয়েকটি অভিন্ন দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নামছে জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের দুই অংশ। এরপর মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনও ৭ দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচিতে আরও কয়েকটি দল যোগ দিতে পারে।

প্রাথমিকভাবে দলগুলো ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। এরপর নতুন কর্মসূচি দেবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

দলটি মনে করছে, দলগুলোর এই কর্মসূচি রাজনৈতিক অধিকার। নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের দলীয় দাবি-দাওয়া আদায় করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের একটা কৌশল। তবে বিএনপিও নিজস্ব কর্মসূচির চিন্তাভাবনা করছে। জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিয়ে তারাও মাঠে নামতে চায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই আন্দোলন কাদের বিরুদ্ধে, সেটা দেখতে হবে। এটা কি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে, না কি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরুদ্ধে, না বিএনপির বিরুদ্ধে? এটা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার কোনো কৌশল কিনা, সেটাও দেখতে হবে। যারা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করার অধিকার আছে। তারা যদি রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কর্মসূচি দেয়, তাদের মাঠের রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব বিএনপি মাঠেই বক্তব্যের মাধ্যমেই দেবে।

সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনকে বিএনপিও উৎসবমুখর ও ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হিসেবে দেখতে চায়। এ লক্ষ্যে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে দলটি। এর অংশ হিসেবে বিএনপি এখন নির্বাচনমুখী কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশে নির্বাচনি ঢেউ তুলতে চায় দলটি। জনগণকে নির্বাচনমুখী করতে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে; অর্থাৎ ‘ডোর-টু-ডোর’ যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন নীতিনির্ধারকরা। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে দলের মহিলা নেতাকর্মীদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। কেন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন প্রয়োজন; নির্বাচন বিলম্বিত হলে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগও পিছিয়ে যাবে; একথা তারা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করবে। তুলে ধরবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বিএনপির দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসও।

একই সঙ্গে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই ৩১ দফার ভিত্তিতে যে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই প্রতিশ্রুতির কথাও বলা হবে। সূত্রমতে, এভাবেই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণকে নির্বাচনমুখী করার পাশাপাশি দলকেও পুরোপুরি নির্বাচনমুখী করতে চায় বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে দেশের চলমান পরিস্থিতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচনি ইশতেহার, প্রার্থী বাছাই নিয়েও আলোচনা হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সবশেষ অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়বস্তু স্থায়ী কমিটিকে অবহিত করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। জুলাই সনদের যে কটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে, সেগুলো সংসদের ওপরই নির্ভরশীল থাকার পক্ষে মত দেয় স্থায়ী কমিটি। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং আইনি ভিত্তি নিয়ে যদি দলগুলো একমত হতে না পারে তাহলে শেষ মুহূর্তে সরকারের ওপর দায়ভার ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। দলটি মনে করে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে যাতে পরে কেউ প্রশ্ন বা আদালতে রিট করতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার কথা আলোচিত হয়। সেক্ষেত্রে বিএনপি মনে করে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো আইনি পথ থাকলেও তাকে স্বাগত জানাবে বিএনপি। যেসব বিষয় সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে। আর সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ বিবেচনা করে বাস্তবায়িত করবে।

চলমান পরিস্থিতিতে কীভাবে নির্বাচনের দিকে জনগণকে মনোযোগী করা যায়, সে ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির নেতারা আলাপ-আলোচনা করেছেন। বৈঠকে কোনো কোনো নেতা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে এখনো পাঁচ মাস বাকি। এ অবস্থায় দলকে পুরোপুরি নির্বাচনমুখী করতে হবে, প্রস্তুত করতে হবে। এ লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শেষ করতে হবে বলেও কেউ কেউ অভিমত দেন। জানা গেছে, ৩১ দফার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন নিয়ে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। আগামী নির্বাচনে প্রতিটি আসনে দলীয় একক প্রার্থী দেবে বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে যাতে দ্বন্দ্বে না জড়ায়, কোনো গ্রুপিং সৃষ্টি না করে, সে জন্য কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জনগণের পাশে আরও বেশি করে কীভাবে থাকা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের ইতোমধ্যে জনগণের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির ইমেজ কিছুটা সংকটে পড়েছে। এ ব্যাপারে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে। বিএনপি এখন মনে করছে, এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার ফলে সারা দেশে সংগঠনে শৃঙ্খলা এসেছে। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। তারা সবাই জনগণের পাশে থাকার দলীয় নির্দেশনা মেনে চলছে। বিএনপি আগামীতে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। এ ব্যাপারে দলটির কমিটমেন্ট (দায়বদ্ধতা) আছে। জনগণ সেটা যাতে বোঝে, জনগণের সামনে দৃশ্যমান হয়, বিএনপি সেই ধরনের কাজ আগামীতে অব্যাহত রাখবে।

এই সভা রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১১টার দিকে। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ভার্চুয়ালি), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ