জামায়াত জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জামায়াত জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে তারা নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নতা আনছে। স্থানীয় বাস্তবতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গেলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটি করপোরেশনে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি।

এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছু জায়গায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করলেও বড় সিটিগুলোতে একক প্রার্থী দেবে।
ঢাকা উত্তর–দক্ষিণসহ কয়েকটি সিটিতে এনসিপি ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় দলটি।
বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনপ্রিয়তা ও ভোটের অবস্থান যাচাই করতে চায় এনসিপি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহানগরে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের কাজও শুরু করেছে দলটি। এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ও এনসিপি জোটভিত্তিক রাজনীতির পথে হাঁটা শুরু করেছে। শুরুতে এটিকে ‘নির্বাচনি সমন্বয়’ বলা হলেও দুই দলের একসঙ্গে পথচলা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কারণ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই কৌশলেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে জামায়াতের সঙ্গে জোটগত বৈঠক করছে এনসিপি, অন্যদিকে কৌশলগত কারণে দলীয়ভাবেও অভ্যন্তরীণ সভা করছে তারা।

এ বিষয়ে দলটির নেতারা জানান, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে কয়েকটি মহানগরে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব এলাকায় সরকারদলীয় বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী থাকবে, সেখানে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা রাখা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আলোচনার মাধ্যমে জোটের একক প্রার্থী নির্ধারণ হতে পারে।

বড় মহানগরে নিজেদের প্রার্থী
এদিকে রাজধানীসহ বড় মহানগরে নিজেদের প্রার্থী দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে এনসিপির। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার নেতা-কর্মীদের এনসিপিতে যোগদানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জোটের হিসাব মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত হবে। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা প্রবল। তবে তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনেও শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্যও এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলটির বর্তমান মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম। পাশাপাশি দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন মহানগর ও উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিচ্ছে এনসিপির নির্বাচনি বোর্ড। একই সময়ে জামায়াতও তাদের নিজস্ব প্রার্থী প্রস্তুত করছে বলে জানা গেছে।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব নেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঢাকা-১৮ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দলীয় এক সভা শেষে গত ২৯ মার্চ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে বের হতে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব এবং সেটিই হওয়া উচিত। যাঁদের স্থানীয় সরকারের প্রশাসক করা হয়েছে, তাঁরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে ধরনের বিধিবিধানও থাকা প্রয়োজন।

যেভাবে জামায়াতের সঙ্গে জোট
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। দুই দলের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এনসিপির ভেতরে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা ও নেত্রী পদত্যাগ করেন। পরে জোটগতভাবে ৩০টি আসনে নির্বাচন করে এনসিপি। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনে সমঝোতা হলেও কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। এরপরও দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ছয়টি আসনে জয় পায় এনসিপি। দুটি আসন ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই জামায়াতের সমর্থন পেয়েছিল দলটি। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দলটির ভেতরে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। কৌশলগতভাবে জোটে থাকলেও এনসিপি নিজস্ব প্রার্থী দিচ্ছে। জামায়াতও তাদের প্রার্থী দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নিজেদের সক্ষমতা দেখতে চাই। অন্তত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম ছাড়া প্রায় সব সিটি করপোরেশনেই প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ