জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন : বুলু - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন : বুলু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৩:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২২ ৩:২৫ অপরাহ্ণ

 

বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম‌্যান বরকত উল্লাহ বুলু ব‌লে‌ছেন, ‘তিনবা‌রে প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে সরকার মিথ্যা মামলায় জেলে রেখেছে। আমি শেখ হাসিনাকে বলেছি আপনাকে একদিন এভাবে জেলে যেতে হবে। সে সময় বেশি দূরে নয়।

শুক্রবার (২৩ ডি‌সেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের আয়োজনে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

প্রধান অতিথি বক্তব‌্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধে পাঁচটি স্তম্ভ ছিল কিভাবে দেশ পরিচালিত হবে। কিন্তু সেই পাঁচটি শর্তকে আওয়ামী লীগ সবই ভুলুন্ঠিত করেছে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘আগামীকাল আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলর হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আগামীকাল একটি কর্মসূচি ছিল কিন্তু আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের জন্য আমরা সেই কর্মসূচি বাতিল করেছি। কারণ বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো গণতন্ত্র বলতে কোনো কিছু নাই।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা বলে জিয়া নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন। তিনি যদি পাকিস্তানি চর হবেন তবে আওয়ামী লীগের সরকার কেন তাঁকে বীর উত্তম খেতাব দিয়েছিলেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাকে সরকার মিথ্যা মামলায় জেলে রেখেছে। আমি শেখ হাসিনাকে বলেছি আপনাকে একদিন এভাবে জেলে যেতে হবে। সে সময় বেশি দূরে নয়।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে আতঙ্ক তারেক রহমান। আমাদের আগামীতে রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান। কিন্তু শেখ হাসিনার পরে আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন। দুর্নীত লুটপাটের মধ্যে দেশ চলছে। ৩০ দিনে আওয়ামী লীগের নেতারাও আমলারা ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে‌‌ তার হিসাব কেন দেন না। দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ঊর্ধ্বগতি। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চাউলের দাম প্রতি কেজিতে ৩০/৩৫টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকারের আমলারা। আমাদের দশটি বিভাগীয় সমাবেশ এবং ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশেই জানান দিয়েছে এ সরকার ক্ষমতায় থাকার অধিকার আর নাই। এরা দুর্নীতিবাজ সরকার। দেশের মানুষের শুধু একটি কথা আমার ভোট আমি দিবো।’

বুলু ব‌লেন, ‘সরকার পুলিশ বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়ে ফেলেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। আগামী আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে। এই সরকারের পতন না ঘটিয়ে আমরা ঘরে ফিরব না। এ সরকারের পতন ঘটিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ভাবে জাতীয় সরকার গঠন করব। আমাদের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। তাই আগামীতে যে আন্দোলন হবে সে আন্দোলনে উপস্থিত সবাইকে শরীক হওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।’

বিএন‌পির যুগ্ন মহাস‌চিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো এত সহজ নয়। সেই জন্যই তো আমরা মাঠে নেমেছি। আন্দোলনের জন্য। দেশের এমন কোন একটি জিনিসপত্র নাই যে দাম না বেড়েছে। দেশের অবৈধ এমপি মন্ত্রীরা বলে বিশ্বে বাজারে জিনিসপত্র দাম বেড়েছে। তাই বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। এদেশের জনগণের দুঃখ-কষ্ট শুধু বেগম খালেদা জিয়াই বুঝে। আওয়ামী লীগে আর বেশিদিন ক্ষমতা রাখা যাবে না। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল আলমগীর, বিএনপি নেতা আবাস ও সকলকে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের নেতা কমিটির মুক্ত করবো এবং এই সরকারকে পতন ঘটাবো। আগামী যে আন্দোলন কর্মসূচি হবে সে আন্দোলনে সবাইকে শরিক হওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।’

বিএন‌পির নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস‌্য আবু নাসের মো. রহমতউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি বাংলাদেশ সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। সেই দলের পার্টি অফিসে গিয়ে পুলিশ যে তান্ডব চালিয়ে প্রায় ৬০০ শত নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করছে। বিএনপি’র বিভাগীয় দশটি সমাবেশে জনগণের জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপির সবগুলি সমাবেশ কে সরকার বানচাল করতে চেয়েছিল কিন্তু মানুষের যে আন্দোলনের স্রোত কেউ ঠিকই রাখতে পারেনাই। গত দশ তারিখে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং পুলিশ বিএনপি নেতা কর্মীদের মোবাইল চেক করার নামে শত শত মোবাইল এখনো ফেরত দেয়া হয় নাই। তারেক রহমান নির্দেশে আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন চলমান থাকবে ।এ গণতন্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকার এরপতন হবে। নায়ক তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবে। ফিরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।’

স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি ড: কাজী মনিরুজ্জামান এর সভাপ‌তি‌ত্বে আরও বক্তব‌্য রা‌খেন এন‌ডি‌পির চেয়ারম‌্যান কারী আবু তাহের, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ