জুলাই আন্দোলনে কি প্রবাসীদের অংশগ্রহন ছিল না ? - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৩১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই আন্দোলনে কি প্রবাসীদের অংশগ্রহন ছিল না ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৬, ২০২৫ ১১:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৫ ৯:২৯ অপরাহ্ণ

 

আব্দুল আজিজ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র ও নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অসাম্য, সাংস্কৃতিক সংকোচন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বহীনতার এক গাঢ় প্রতিক্রিয়া। এটি কোনো একক নেতৃত্বাধীন বিপ্লব ছিল না, বরং এক বিপুল সামাজিক উত্তেজনার স্ফুরণ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে এই শ্রেণিকে দেখতে পাওয়া যায় দ্বিধান্বিত—কেউ সহানুভূতিশীল, তো কেউ চুপ, আবার কেউ বিভ্রান্ত।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের ১ বছর হয়ে গেলো। জুলাইয়ে লড়াইয়ের ময়দানে জনগণের মাঝে যে অভূতপূর্ব ঐক্য তৈরি হয়েছিল সেটাই শেখ হাসিনার দানবীয় ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাজিত করেছিল,দেশ ছেড়ে ভারতে যেতে হয়েছে হাসিনাকে । ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, আহতদের সুচিকিৎসা, বিচার, সংস্কার ও যথাযথ সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। অনেক সংকটের মাঝেও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে শক্তির জায়গা ছিল তার জনসমর্থন।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের জনগণ বুঝেছিলেন বর্তমান স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন, নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া তাদের আর মুক্তির কোনও পথ নেই।
৫ ই আগস্ট ২০২৫ ইংরেজি প্রকাশ হলো বহুল প্রত্যাশিত জুলাই সনদ, কিন্তু জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্ল্যেখ নাই । জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস থেকে প্রবাসীদের অবদানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদে রাজনৈতিকদের কথা বলা হয়েছে ছাত্র জনতার কথা বলা হয়েছে।জুলাই সনদে প্রবাসীদের ত্যাগ আর সাহসী ভূমিকার কথা উল্যেখ করে প্রবাসী সুরক্ষা আইন সংযোজন করা হউক।

কারন প্রবাসীরা রেমিটেন্স যোদ্ধা বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল করার কারিগর। প্রবাসীরা প্রবাসে থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ লিখনি ও অনলাইন একটিভিস্ট দের মাধ্যমে ইতিহাসের স্মরণ কালের মার্চপর ডেমেক্রেসি লন্ডনের হাইডপার্ক থেকে দীর্ঘ ৭ মাইল মার্চ করে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হাসিনা সরকারের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে স্মারকলিপি দেওয়া হয় । আলতাব আলী পার্ক স্টাফলগার স্কয়ার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সহ ইউরোপ আমেরিকা ,কানাডা,মধ্যপ্রাচ্যের ভিবিন্ন দেশে রাজনৈতিক দলের ও মানবাধিকার সংস্থার ব্যানারে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলন গড়েউঠে।

দেশে যখন ফ্যাসিস্টদের ভয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ লিখতে প্রিন্ট মিডিয়া ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিউজ করতেন না তখন বিদেশ থেকে নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন চালিয়ে যান । কেউবা মিছিল মিটিং করে জুলাই আন্দোলনে বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ফলে দেশে বিদেশে আন্দলনের জন্য হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ইউনাইটেড আরব আমিরাতে জুলাই আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য ৫৭ জন শ্রমিকের চাকরি হারাতে হয় শুধু তাই নয় তাদের সেখানকার সরকার অপরাধী হিসাবে কারাগারে নিক্ষেপ করে পরে তাদের মধ্যে কতজনকে দেশে প্রেরণ করে ।
প্রবাসীদের অবদান বাদ দিয়ে জুলাই সনদ শুধু অসম্পূর্ন থাকলো না প্রবাসীদের অবদানকে অবমুল্ল্যান করে হলো জুলাই আন্দোলনে তাদের কি ভূমিকা ছিল না ?

জুলাই আন্দোলনে কোনো একক অথবা একটা গোষ্ঠীগত কোনো নেতৃত্ব ছিল না। , জুলাই আন্দোলনে কোনো একক অথবা একটা গোষ্ঠীগত নেতৃত্ব ছিল না, একক কোনো নেতা ছিল না। এ আন্দোলন ছিল সারা দেশের ছাত্রজনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। কিন্তু এখন আমরা কি দেখছি- এ আন্দোলনের ক্রেডিট নেওয়ার জন্য নানাজনের নানা পাঁয়তারা।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের জনগণ বুঝেছিলেন বর্তমান স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন, নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া তাদের আর মুক্তির কোনও পথ নেই।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের ১ বছর হয়ে গেলো। জুলাইয়ে লড়াইয়ের ময়দানে জনগণের মাঝে যে অভূতপূর্ব ঐক্য তৈরি হয়েছিল সেটাই শেখ হাসিনার দানবীয় ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাজিত করেছিল, দেশ ছেড়ে ভারতে যেতে হয়েছে হাসিনাকে ।
৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, আহতদের সুচিকিৎসা, বিচার, সংস্কার ও যথাযথ সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানতম কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। অনেক সংকটের মাঝেও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে শক্তির জায়গা ছিল তার জনসমর্থন।

লেখকঃ আব্দুল আজিজ
সম্পাদক জনতার আওয়াজ ডটকম
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সহ সভাপতি জাতীয় মানবাধিকার সমিতি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ