টেক ব্যাক বাংলাদেশের নামে বিএনপি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়, প্রশ্ন হানিফের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০৬, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

টেক ব্যাক বাংলাদেশের নামে বিএনপি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়, প্রশ্ন হানিফের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০২২ ১০:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০২২ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

 

টেক ব্যাক বাংলাদেশের নামে বিএনপি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়? এমন প্রশ্ন করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখলে তা আপনাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হবে। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি ধ্বংস করার জন্য নয়। এমন কোনো শক্তি নেই বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে পারে। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা প্রমাণ করেছি, আবারও করবো।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে এক নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের স্ত্রী-সন্তানের রাজনীতি নিষিদ্ধ, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যমূলক কর্মকাণ্ড, জঙ্গি মদদ ও নাশকতার প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে ‘অপরাজেয় বাংলা’ ঢাকা মহানগর উত্তর।

নাগরিক সমাবেশে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, পাকিস্তানের দোসর বিএনপি-জামায়াত সরকারে বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তাদের নেতা লন্ডনে বসে বলেছেন- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশ মানে তো পেছন দিকে নিয়ে যাওয়া। মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চাই আপনারা কোন পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান? ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল? নাকি একাত্তরের আগের পাকিস্তান। কোনটায় নিয়ে যেতে চান, এটা আগে জাতির কাছে পরিষ্কার করুন। আপনারা এখনো মনে-প্রাণে আদর্শ ধারণ করেন।

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নিয়ে যেতে চান। এদেশের মানুষ ২০০১ থেকে ২০০৬ দেখেছে। কী ছিল? কী করেছিলেন আপনারা? বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। ৬০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকতো, শিক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি খাতকে ধ্বংস করেছিলেন। সেই বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চান?

হানিফ বলেন, হাওয়া ভবন বানিয়ে আপনাদের নেতা তারেক রহমান কমিশন বাণিজ্য করেছেন। আর সন্ত্রাসীদের দিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল। আপনাদের তিন-চারজন যুবদল নেতা মারা গেছেন বলে আন্দোলন করেন, অথচ আপনাদের হাতে আওয়ামী লীদের ২৬ হাজার নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার, কোথায় ছিল গণতন্ত্র, আইনের শাসন? উগ্রবাদী, জঙ্গি বাংলা ভাই পুলিশ প্রহরায় সশস্ত্র মিছিল করেছিল। আপনারা ওই বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চান? সেই বাংলাদেশ এ দেশের মানুষ দেখতে চায় না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে সব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের সেই স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর ৪৭ বছর পার করেছে। অনেকে উথাল পাতাল হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে যুদ্ধাপরাধীর দল স্বাধীনতার পরে সেই দেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই, দেখা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনীতি করে যাচ্ছে। এই সুযোগ কারা করে দিয়েছে। জিয়াউর রহমান জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সমাজকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে গেছেন। এক পক্ষে জাতির পিতার হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ। আরেক দিকে বিএনপির নেতৃত্বে স্বাধীনতার বিরোধী পক্ষ।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জামায়াত এখনো এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ২০১৩ সালে তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসিতে দেশের মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়েছিল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আহমদ বলেছিলেন, কাদের মোল্লা, নিজামী, মুজাহিদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর তারা কীভাবে পাকিস্তানের সৈনিক থাকেন? এদেশে তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না। আমরা আশা করি, সর্ব্বোচ্চ আদালত থেকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ হবে।

নাগরিক সমাবেশে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বিএনপি সেই সময়ে আন্দোলন শুরু করেছে। তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার জন্য নীলনকশা করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যতদিন থাকবে ততদিন আলোকিত থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা আর কোনো বিকল্প নেই।

অপরাজেয় বাংলা’র প্রধান উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পরে কুখ্যাত রাজাকারের ছেলেদের এত বড় স্পর্ধা কোথা থেকে এসেছে? জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এদেরকে রাজনৈতিক, আর্থিকভাবে বহাল করেছিলেন। যার কারণে তারা আবার ধর্মীয় রাজনীতি শুরু করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাকিস্তান ভালো ছিল। আপনারা কেউ বাংলাদেশ চাননি, আপনারা পাকিস্তানে চলে যান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হুমকি দেবেন না। আপনারা গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন, আমাদের ভালো লাগে কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু আপনাদের দেউলিয়াপনা এত দূর গেছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বাচ্চাকে মঞ্চে তুলে স্লোগান দেন। এটা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। যারা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিরুদ্ধে গিয়েছে তাদের নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তাও করবেন না, চোখ উপড়ে ফেলবো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ‘অপরাজেয় বাংলা’ ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ফরিদুর রহমান খান ইরান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অপরাজেয় বাংলা’র যুগ্ম আহ্বায়ক শিল্পী মনিরুজ্জামান মুনির, অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য রাশেক রহমান, যুবলীগের নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন প্রমুখ। নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অপরাজেয় বাংলার সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ