ড. মোমেনের যে কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হন মুক্তাদির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:১৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ড. মোমেনের যে কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হন মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
ছবি : প্রতিনিধি
অন্তত পুণ্যভূমি সিলেটে তেমনটি আশা করেননি তখনকার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আশা ছিল- সিলেটের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না হাই-প্রোফাইল পারসন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। কিন্তু তিনিও সেই কাজ করলেন। দিনের ভোট রাতে করে তিনিও ভোটের মাঠে নজির সৃষ্টি করলেন। আর ভোটের দীর্ঘ সাত বছর পর এসে ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার মুক্তাদির। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে ‘নীতি প্রণয়নে তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচনায় এক তরুণকে প্রশ্নের উত্তরের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই ক্ষোভ ঝাড়েন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা জোটগতভাবে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী ছিলেন জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আর ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই প্রার্থীই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তখন ভোটের পরিবেশ উল্টো ছিল মুক্তাদিরের। তার কর্মীদের ধরপাকড় সহ নানা ঘটনা ঘটানো হয়। এমনকি ভোটের দিনও ভয়-ভীতি দেখিয়ে মুক্তাদিরের কর্মী সমর্থকদের সরিয়ে দেয়া হয়। দুপুরের পর একা হয়ে যান মুক্তাদির। তার সঙ্গে যারাই ছিলেন, তাদের গ্রেপ্তারে বারবার হামলা দেয় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শেষ বিকালে একা একাই সিলেটের রাজপথে হাঁটেন মুক্তাদির। সিলেটবাসীর কাছে বিচার দেন রাতের ভোটের। একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষপাত সহ আওয়ামী লীগের সেন্টার দখলেরও অভিযোগ করেন। কিন্তু তার কোনো অভিযোগই সরকার আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের কোনো তদন্তও হয়নি। এদিকে, ভোটের ফলাফলের পর জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ছুটে গিয়েছিলেন খন্দকার মুক্তাদিরের বাসায়। সেখানে গিয়ে তিনি ফটোসেশন করেন। পরবর্তীতে সেটি মিডিয়ায়ও প্রচার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সাত বছর পর এসে মুখ খোলেন খন্দকার মুক্তাদির। ঝাড়লেন ক্ষোভও। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে আমি বিএনপি’র প্রার্থী ছিলাম। আমার বিপক্ষে যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের মোমেন সাহেব। তিনি পরবর্তীতে হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০১৮’র ভোট হয়ে গেছে আগের রাতে। পরের দিন তো আর কোনো বিষয় নেই। ফলাফল তো আগের রাতে। এই ভদ্রলোক নির্বাচনের পরের দিন সকালে আমার বাসায় এসে হাজির। কেন? উনার প্রয়োজন হলো আমার সঙ্গে একটি ভিডিও ক্লিপ। যেটা পেপারে যাবে। উনি বলবেন যে, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছি। মুক্তাদির বলেন, নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক হয়েছে এটাতে আমি যতটা কষ্ট পাইনি, উনার এত নিষ্ঠুুর আচরণে আমি তার থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছি। কেন জানেন? কারণ নামের সঙ্গে ডক্টরেট লাগানো। ডক্টর মোমেন। এতটুকু লেখাপড়া করার পরে একটা মানুষ আগের রাতে ভোট ডাকাতির নেতৃত্ব দিয়ে, সে জানে এখানকার সাড়ে পাঁচ লাখ ভোটারের আমানত হাইজ্যাক করেছে। এরপরও তিনি নিজে এসেছেন আমার সঙ্গে ছবি তুলে পেপারে দেয়ার জন্য। যাতে উনি উনার নির্বাচনের একটা স্বীকৃতি নিয়ে যেতে পারেন।

আমি যদি আপনার বাসায় ডাকাতি করে সব জিনিসপত্র লুট করে আবার পরের দিন এসে আপনার সঙ্গে একবেলা খাওয়ার জন্য বায়না ধরি- কী দাঁড়াবে, আপনার কী মনে হবে! দিন-দুনিয়া বলতে তো আর কিছু নেই। তার এই নিষ্ঠুরতা আমাকে তার চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে। একটা লোক কতো অস্বাভাবিক হলে এ রকম নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারে। মতবিনিময় সভার প্রশ্নের উত্তরে মুক্তাদির আরও জানান, ‘আমরা ধরে নিচ্ছি, যারা রাজনীতি করেন, তারা খারাপ লোক। এখন আপনারা যারা ভালো লোক, তারাও আসবেন না রাজনীতিতে। তাহলে পরিণামটা কী দাঁড়ালো? আপনি এমন ব্যবস্থায় অ্যাগ্রি করে ফেললেন যে আপনার থেকে কম মানের, কম গুণের, কম বুদ্ধির লোকরা আপনাকে শাসন করবে। এর লাইসেন্স কিন্তু আপনারা দিয়ে দিলেন। দিয়ে দিলেন না? তো, এই লাইসেন্স না দেয়ার মানে হচ্ছে, আপনি রাজনীতিতে অংশ নেবেন অথবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আপনার একটা বলিষ্ঠ কণ্ঠ থাকবে, যেন আপনার মতামতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতায় থাকে। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের পরিবহন সংকট থেকে শুরু করে সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নানা বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যাবতীয় সমস্যা দূর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ