ঢাকায় কর্মসূচি নিয়ে তৎপর হচ্ছে আওয়ামী লীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:২২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকায় কর্মসূচি নিয়ে তৎপর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৬, ২০২৩ ১:২২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৬, ২০২৩ ১:২২ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন সামাল দিতে এবার রাজধানী ঢাকায় তৎপর হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি জুলাই মাস থেকেই এই তৎপরতা শুরু করবে দলটি। দলটির প্রায় প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে রাজধানীতে সমাবেশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চলতি জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদেরকে সফল সমাবেশের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এসব সমাবেশে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকতে পারেন। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- দেশ এখন নির্বাচনমুখী। সব দল নির্বাচন নিয়ে এগোচ্ছে। আমাদেরও এগোতে হবে।

দলীয় প্রধানের সে ধরনের নির্দেশনা আছে। পাশাপাশি সরকারের পতন ঘটাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।

শিগগিরই হয়তো তাদের আন্দোলনের মাত্রা আরও বাড়বে। তাই এখন থেকেই আমাদেরও রাজনীতির মাঠে থাকতে হবে। নেতারা জানান, রুটিন কর্মসূচির বাইরেও কর্মসূচি বিস্তৃত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন আছে তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাবেশের আয়োজন করতে হবে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। আপাতত নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচির বাইরে থাকা যাবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, তরুণ প্রজন্মের যারা সারথী বিশেষ করে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ তাদের জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমাবেশ করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই তারা নিজেরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবে। তিনি বলেন, জুলাই মাসেও পেশাজীবী ও কৃষকদের নিয়ে সমাবেশ করা নিয়ে চিন্তা আছে। সামনে উপজেলা পর্যায়েও সমাবেশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনে ভোটারদের ভোট চাওয়ার জন্য সমাবেশ চলতেই থাকবে। সমন্বিতভাবে তৃণমূল পর্যায়েও বড় ও মাঝারি আকারে সমাবেশ করা হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বৈঠকে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সব কর্মসূচি যেন ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমন্বিতভাবে হয় সে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতা মানবজমিনকে বলেন, আগস্ট মাস হচ্ছে শোকের মাস। এই মাসে আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। সেসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে থাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিরোধীরা আন্দোলন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাই এ নিয়ে আমরা সব সময় সতর্ক রয়েছি। তবে এবার আর সতর্কতার মধ্যে আমাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ থাকছে না। কর্মসূচির মাধ্যমে এবার রাজপথে থাকবো।

তারা জানান, বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় সভাপতির পক্ষে আমাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা জানান, নির্বাচন পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই সমাবেশের মতো বড় কর্মসূচি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন, এডভোকেট আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী অঙ্গন ক্রমশ সংঘাতময় করে তোলার চক্রান্ত চলছে: কাদের
এদিকে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, বিএনপিসহ তাদের সমমনা দলগুলো ক্রমশ নির্বাচনী অঙ্গনকে সংঘাতময় করে তোলার চক্রান্ত করছে। তারা ব্যস্ত গুজব ও ষড়যন্ত্র নিয়ে। সেতুমন্ত্রী বলেন, গুজবে, গুঞ্জনে, ষড়যন্ত্রে আজকে নির্বাচনী অঙ্গন ক্রমশ সংঘাতময় করে তোলার চক্রান্ত চলছে। তারা সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে, দিয়েছে। এই মুহূর্তে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো ভোটারদের কাছে যাচ্ছে না, তারা যাচ্ছে বিদেশিদের কাছে কখন কোন প্রতিনিধি আসে, বাংলাদেশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিবে, ভিসা নীতি দিবে-এমন স্বপ্নে নালিশের মধ্যে তারা নিমগ্ন। তাদের নালিশটা জনগণের কাছে নয়, বিদেশিদের কাছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা আমাদের বন্ধু। এখানে প্রভুত্বের কিছু নেই। বিএনপির বিদেশে অনেক প্রভু আছে। প্রভুদের কাছে নালিশ করে, বন্ধুদের কাছে নয়।

নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আরপিও সংশোধন যুক্তিসঙ্গত। বিশৃঙ্খলা হলে ১/২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল হতে পারে, গোটা নির্বাচন কেন বাতিল হবে? এই আইনে এটা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে কেন ভিন্নরকম চালু করতে হবে? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি বন্ধুরা বন্ধুর মতো থাকুন। বিএনপি ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে। যেভাবেই হোক ক্ষমতা পেতে হবে। আওয়ামী লীগ হারলেই কেবল বিএনপির দৃষ্টিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন মানেই বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল, এসব অপপ্রচারগুলো বাস্তবে সদ্য অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটেনি। সেদিক থেকে বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে আশার আলো দেখতে পাই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও গণতান্ত্রিক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেটার বড় প্রমাণ আইন করে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, গুজব ছড়ান, ষড়যন্ত্র করেন তাদের এ বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচন, নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি নজর রাখা দরকার। ওবায়দুল কাদের বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেভাবে হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু ও অবাধ। আগামী জাতীয় নির্বাচনও এভাবে সম্পন্ন হবে। এখানে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। শেখ হাসিনার সরকার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে যারা অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের অপপ্রচার একেবারেই সত্য নয়। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অন্যান্য দল, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ভোটার উপস্থিতি ভালো ছিল। অনেকে অপপ্রচার করেছে যে, ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। নির্বাচন মানেই বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, এসব অপপ্রচার চালানো হয়, যা বাস্তবে ঘটেনি। সেদিক থেকে আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনের আশার আলো দেখতে পাই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ