ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:১৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ২:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ২:০৬ অপরাহ্ণ

 

ব্যারিস্টার রফিক আহমেদ, লন্ডন

“এভাবে আর কত মানুষ নিহত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে রাষ্ট্র?”

গত কয়েক বছরে মানহোল, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা অবহেলায় সৃষ্ট দুর্ঘটনায় শিশুসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর শোক প্রকাশ, তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের সমাজকে ক্রমাগত পঙ্গু করে তুলছে। প্রশ্ন হলো—এসব প্রাণহানির দায়িত্ব কার? কবে নাগাদ ক্ষতিপূরণ ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশ?

মানহোল ও নির্মাণ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: একটি পরিসংখ্যান

গত এক দশকে শুধু মানহোলের incidents-এ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। ২০২২ সালে ঢাকার মতিঝিলে মানহোলে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু জাতিকে স্তম্ভিত করেছিল। ২০২৪ সালে নারায়ণগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে ২৩ শ্রমিক নিহত হন। এছাড়াও, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ড্রেনেজ সিস্টেমের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে প্রাণহানির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

কে নেবে দায়?

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে ব্যস্ত থাকে। স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন, ইউটিলিটি সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা—সবাই একে অপরের দিকে দায় চাপিয়ে দেয়। কিন্তু মৃতের পরিবার পায় না ন্যায্য বিচার, ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকে অপ্রতুল।

ক্ষতিপূরণ ও বিচার: একটি জরুরি দাবি

১. দ্রুত বিচার ও জবাবদিহিতা: মানহোল বা নির্মাণ দুর্ঘটনায় দোষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ: নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. আইন সংস্কার: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় Building Code এবং স্থানীয় সরকার আইন-এ দুর্বলতা রয়েছে। নির্মাণ ও নাগরিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি।

৪. জনসচেতনতা: সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকার ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবীদের প্রতি অনুরোধ

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আদালতের ভূমিকা অপরিসীম। মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবী সমাজের উচিত এই বিষয়গুলোকে জোরালোভাবে আদালতে তোলা। পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (PIL) এর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।

শেষ কথাঃ

প্রতিটি অকাল মৃত্যু আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে উন্নয়নের সকল দাবিই অর্থহীন। আইনজীবী, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের একত্রিত হয়ে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে—যাতে আর কোনো পরিবার নির্মম মৃত্যুশোক বহন না করে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ