তারেক রহমানের হাত ধরেই আসবে গণতন্ত্র ও সুশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। শহিদ জিয়া মানুষের কাছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী একটি দর্শন ও আদর্শ দিয়ে গেছেন। এই দর্শন ও আদর্শ হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। দেশের মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে এগিয়ে চলেছেন। এই আদর্শ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তারেক রহমান শহিদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনে যোগদানের পূর্বেই তিনি রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারাদেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান মা বেগম জিয়ার প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে। ২০০২ সালে তারেক রহমান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্মপ্রাপ্ত হন। দলের উর্দ্ধতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠনসহ সহযোগী সংগঠন যেমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল কর্তৃক আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময়সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। মূলত এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মাঝে তারেক রহমান শুধুমাত্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিতি থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রীমহল ও নিন্দুকরা তখন থেকেই উনাকে দল ও রাজনীতি থেকে দুরে রাখার জন্য সুপরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। ২০০৭ সালের এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এর মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সেই অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে-বিদেশে জিয়া পরিবার ও বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টার্গেট করে এগোতে থাকেন। দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন কল্পকাহিনী তৈরির মাধ্যমে তারেক রহমান ও বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং চরিত্র হনন করেন এক এগারোর সরকার। তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান ভোটারবিহীন অবৈধ সরকার ও তার দোসরা জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে জনগণের কাছে হেয়প্রতিপন্ন ও ধ্বংস করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া্র বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
তারেক রহমান দেশের বৃহৎ জনপ্রিয় দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের যোদ্ধা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সন্তান। তিনি পিতা শহিদ জিয়ার আদর্শ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। জেল-জুলুম, নিপীড়ন, নির্যাতনের ও শত বাধা-বিপত্তির মধ্যে থেকেও তিনি যেটা অন্যায় মনে করেন তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। তিনি কখনোই অন্যায়ের সাথে আপস করেননি এবং করবেনও না। সবাইকে এই ভোটারবিহীন সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার নোংরা কৌশল হতে সজাগ থাকতে হবে। অবৈধ অনির্বাচিত এ সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
লেখক সিনিয়র সাইন্টিস্ট, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।
জনতার আওয়াজ/আ আ