তিন ধারায় বিভক্তির মধ্যে ৩৮ বছরে পা রাখছে জাপা - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:২২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তিন ধারায় বিভক্তির মধ্যে ৩৮ বছরে পা রাখছে জাপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৩ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৩ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

 

তিন ধারায় বিভক্তির মধ্যে ৩৮ বছরে পা রাখছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এবারও দলের জন্ম আয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্বে থাকছে কোন্দল। যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূলেও। টানা ১৪ বছর সরকারের সঙ্গে থেকেও দিন দিন ছোট হয়ে আসছে দলটি। কমছে জনসমর্থন। বছরের পর বছর সম্মেলন হচ্ছে না জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে মহানগর কমিটি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর।

ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ কার্যত নামেমাত্র। এরশাদের মৃত্যুর পর সংগঠনের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এ বছর একেবারে নামমাত্র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছে।

দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে প্রকাশ্যে জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরাও কার্যত দুই ধারায় বিভক্ত। পার্টির নেতৃত্বের কোন্দল মেটাতে কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক হলেও সংকট রয়েই গেছে। বসে নেই এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সিদ্দীকও। তিনিও এরশাদের বারিধারার বাসা প্রেসিডেন্ট পার্কে ছেলে এরিখের সঙ্গে থেকে দলবঞ্চিত নেতাদের নিয়ে নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।

এ প্রেক্ষাপটে সামনের দিনগুলোতে জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বা সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে— এমন আশা ছেড়েই দিয়েছেন প্রবীণ নেতারা। তারা বলছেন, নব্বইয়ের দশকে ক্ষমতাচ্যুতির পর মামলা ইস্যুতে এরশাদ সবসময় নমনীয় ছিলেন। যে কারণে তিনি রাজনীতিতে আপস করেছেন বেশি। একবারও দলের প্রয়োজনে ঝুঁকি নেননি। মূলত জোটের রাজনীতি ও সকাল-বিকেল মত পরিবর্তনের কারণে জাপা ছেড়ে গেছেন পরীক্ষিত নেতারা। বারবার ভাঙন হয়েছে দলে। তা ছাড়া গত ১৪ বছর মহাজোটের রাজনীতি বা গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকাকে ভালো চোখে দেখেননি পার্টির বেশিরভাগ নেতাকর্মী। সব মিলিয়ে জনসমর্থন নেমে গিয়ে ঠেকেছে তলানিতে।

জাপার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৯ সালের দিকে দলের নিজস্ব জরিপে দেখা যায়, প্রতিটি সংসদীয় আসনে লাঙ্গলের সমর্থক সর্বোচ্চ ৫ হাজার। নতুন করে এ রকম জরিপ না হলেও ওই বিভাগের দায়িত্বশালীদের ধারণা, এখন তা কমে গিয়ে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজারের কোঠায় নেমেছে। নতুন প্রজন্মের জন্য দলটির কোনো কর্মসূচি না থাকায় অনেকেই জাতীয় পার্টির নামের সঙ্গেও পরিচিত নয়। বর্তমানে জাপার ২৬ জন সংসদ সদস্য থাকলেও তা মহাজোটের সঙ্গে আপসের মাধ্যমে। রংপুর ছাড়া কার্যত কোথাও দলের অবস্থান উল্লেখ করার মতো নেই। কারও কারও মতে, জাপা এখন জাতীয় কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, এটা আঞ্চলিক বা জেলাভিত্তিক দলে পরিণত হয়েছে।

দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এরশাদ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিচারপতি সাত্তারকে বাধ্য করেন ক্ষমতা ছাড়তে। একপর্যায়ে ১৯৮২ সালে এরশাদের কাছে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন বিচারপতি সাত্তার। সামরিক আইন জারি করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন এরশাদ।

১৯৮৪ সালে ১৮ দফা ঘোষণা করে বাস্তবায়ন পরিষদ তৈরি করেন তিনি। সে বছরই সিনিয়র রাজনীতিকদের নিয়ে গঠন করেন ‘জনদল’। সেনাপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা দখল করে এরশাদ তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করেন। গণঅভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা হারানোর পর ওই দশকেই দলে প্রথম ভাঙন ধরে। যদিও ১৯৮৬ সালের পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। তখন বিরোধী দল হয় আওয়ামী লীগ। ১৯৮৮ সালে ওই সংসদ ভেঙে দিয়ে আবারও নির্বাচন দেন এরশাদ। কোনো দল ওই নির্বাচনে অংশ না নিলে অনুগত বিরোধী দল বানান আ স ম আবদুর রবকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে এরশাদের বিরুদ্ধে। নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেল থেকে অংশগ্রহণ করে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেন সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ।

১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট গঠন করে জাপা। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপিসহ অন্য অনেক দল বয়কট করলে এরশাদের জাতীয় পার্টি হয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল। এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। আর ২০১৮-এর নির্বাচনের পরে তিনি হন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। ২০১৯ সালের ১৪ জুন এরশাদের মৃত্যুর পর বিরোধী দলের নেতা বানানো হয় রওশনকে। যদিও অনেকে একে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বলেও কটাক্ষ করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি : দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রোববার দুপুর ২টায় রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হবে। শ্যামপুর-কদমতলী থানা জাপার উদ্যোগে এ আয়োজনে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। বিকেল ৩টায় কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। সভায় উপস্থিত থাকবেন পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি। এতে বক্তব্য দেবেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, এবারের আয়োজন খুবই ছোট। ঢাকায় সমাবেশ ছাড়াও জেলা-উপজেলায় কর্মসূচি রয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ