তেলসংকট: বন্ধ থাকছে অনেক ফিলিং স্টেশন - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তেলসংকট: বন্ধ থাকছে অনেক ফিলিং স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

সরকার বলছে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তারপরও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চালকদের লাইন ছোট হচ্ছে না। কেউ কেউ তেল পেলেও অনেকেই তা পাচ্ছেন না। অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে বলে গুঞ্জন উঠলেও আপাতত সরকার দাম বাড়াচ্ছে না। এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এপ্রিল মাসেও ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে মজুত থাকা জ্বালানি তেলের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। তবে সংকট মোকাবিলায় আরও ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। এটি বহুজাতিক কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ। কল্যাণপুরের সোহরাব ফিলিং স্টেশন, কমফোর্ট ফিলিং স্টেশন, খালেক ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিস্টরা জানান, ডিপো থেকে যে তেল দিচ্ছে তা ৩/৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

সোহরাব ফিলিং স্টেশনের পাম্প অপারেটর সুমন খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন দিন ধরে অকটেন নেই। ডিজেল কিছু পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হয়ে গেছে। তাই পাম্প বন্ধ।’

এ সময় দেখা যায় অনেক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালক মন খারাপ করে চলে যাচ্ছেন। এর পাশে খালেক ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় একই দৃশ্য। ‘অকটেন নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এ সময় অনেক চালক জড়ো হয়ে জানতে চান তেল নেই কেন?

মো. মানিক নামে এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘৪ থেকে ৫টা ফিলিং স্টেশন ঘুরে এখানে এসেছি। দেখি অকটেন নেই লেখা। দেখে মন আরও খারাপ হয়ে গেছে। যাব কোথায়?

প্রাইভেটকারের মালিক খলিলও অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে পাম্পেই যাচ্ছি দেখছি তেল নেই। তাহলে আমরা কিভাবে গাড়ি চালাব।’

খালেক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. তোফাজ্জাল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, কিভাবে তেল থাকবে। চাহিদার ধারেকাছে নেই সরবরাহ। দিনে যা তেল পাচ্ছি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য পাম্প বন্ধ থাকছে। দিনে অকটেন পাচ্ছি মাত্র ৪ হাজার লিটার, ডিজেল ৯ হাজার লিটার। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি।

অন্য ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা একই তথ্য জানান। এ জন্য চালকরা তেল পাচ্ছেন না। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দুই টাকা কমে হয় ১০০ টাকা। এ ছাড়া দুই টাকা কমে প্রতি লিটার অকটেন ১২২ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং পেট্রল ১১৮ টাকা থেকে ১১৬ টাকা হয়।

কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমে হয় ১১২ টাকা। মার্চ মাসেও সেই দাম বহাল থাকে। এখন এপ্রিল মাসও একই দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

কয়েকজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী লবিস্ট ছিলেন
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু কাজ করবে, কিছু গণতান্ত্রিক সংস্কার করবে বলে সবার ধারণা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করাতে লবিস্টদের আরও বেশি তৎপরতা দেখা গেছে। কয়েক জন উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী ছিলেন নামে। কিন্তু কাজে তারা করপোরেট লবিস্ট ছিলেন। জ্বালানি নিয়ে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, সেটি নীতির কারণে। আমদানিনির্ভর, বিদেশি ঋণনির্ভর, বিদেশি কোম্পানিমুখী যেসব চুক্তি বিগত সময়ে হয়েছে এবং তার পেছনে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলে এখান থেকে বের হওয়া যাবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ