দলীয় সরকারের অধীনে ভোট ডাকাতি হবেই - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দলীয় সরকারের অধীনে ভোট ডাকাতি হবেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ১১:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ১১:১২ অপরাহ্ণ

 

আমিরুল ইসলাম কাগজী
রাজনীতি আর খেলা এক কথা নয়। রাজনীতি হলো মেধা মনন এবং সংগঠন গড়ে তোলার সক্ষমতা। আর খেলা হলো পেশী শক্তির প্রদর্শন। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ‘খেলা হবে বলে’ মাঠ মাতানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি তজবি টেপার মতো বলেই চলেছেন, খেলা হবে… ভোট চুরির বিরুদ্ধে, খেলা হবে… লুটপাটের বিরুদ্ধে, খেলা হবে… হাওয়া ভবনের দূর্নীতির বিরুদ্ধে।
শ্লোগান তিনটি নিয়ে আলোচনার দাবি রাখে।
এক।
তিনি বলেছেন, খেলা হবে ভোট চুরির বিরুদ্ধে। আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া টাটকা দু’টো ভোট নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের ভোটই করতে হয়নি। বিনা ভোটে ১৫৪টি আসনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় প্রার্থীদের। বাকী আসনগুলোত জনগণ ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যে কারণে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়ে সেখানে। আওয়ামী লীগ দাবি করে থাকে তাদের ৪২শতাংশ ভোট রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটারগণ কেন্দ্রে গেলে এত কম ভোট পড়ার কথা নয়। তাহলে কেন এমন হলো? দলীয় সরকারের অধীনে ভোট ডাকাতি হয়, এটা জেনে বুঝে তারা ভোট থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে।
এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই বাক্স ভরা হয় নৌকায় সিল মারা ব্যালট দিয়ে। কোনোমতে ৬টা আসন দেওয়া হয় বিএনপিকে। সেসময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেছিলেন, ‘দিনের ভোট যাতে রাতে না নিতে পারে সেজন্য ইভিএম এ ভোট নিতে চাই।’ দিনের ভোট রাতে হওয়ার প্রবাদ বাক্য বিশ্বময় চাউর হয়ে আছে। সর্বশেষ জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলে গেলেন, দিনের ভোট রাতে হয় এমন কথা তিনি জীবনেও শুনেননি। এটাকে ভোট চুরি বলা হবে, নাকি ভোট ডাকাতি বলা হবে সেটা নির্ণয় করা কঠিন। ওবায়দুল কাদের ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে খেলা খেলবেন, সেটা তো তার দলের বিরুদ্ধেই খেলতে হবে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলীয় সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ। সে নির্বাচনে সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোট কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে পরের দিন দৈনিক সংবাদের প্রথম পৃষ্ঠাজুড়ে ছিলো সেই খবর। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩ আসনে বিজয়ী হয়। মোট ৭টি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বহু বিতর্ক আাছে। কিন্তু এর বিপরীতে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে- মোট চারবার। কিন্তু সেখানে ভোটারের উপস্থিতি এমন হয়েছিলো যে, কোনো রাজনৈতিক দল তার বিরুদ্ধে জোরালো কোনো আপত্তিও তুলতে পারে নাই।
যে কোনো ভাবেই বলা হোক না কেন- নির্বাচন কালে দলনিরপেক্ষ সরকার থাকলে ভোটারের আস্থা বাড়ে এবং সেটা অংশগ্রহণমূলক হয়।
দুই।
শ্লোগানের দ্বিতীয় অংশ হলো লুটপাটের বিরুদ্ধে খেলা। গত ১৫ বছর যাবৎ আওয়ামী লীগ এমন কোনো লুটপাটের চিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে হাজির করতে পারে নাই, যেটা নিয়ে মামলা করা যায়। তবে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি বানোয়াট “জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট” মামলা দিয়ে নানান ফন্দি ফিকির করে একটা সাজা দিতে সক্ষম হয়েছে। এ মামলা চলার সময় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া এতীমের টাকা চুরি করেছেন।এটা বলতে বলতে তারা মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। এটা হিটলারের তথ্যমন্ত্রী গোয়েবলসের থিওরি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের কল্যাণে দেশের মানুষ বুঝতে সক্ষম যে, টাকা চুরি দূরে থাক, সেই ট্রাষ্টের আড়াই কোটি টাকা ফুলে ফেপে দ্বিগুন হয়েছে।
এক-এগারোর সরকারের সময় সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি করে মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মামলা বহাল থাকে, কিন্তু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধের সব মামলা কোয়াসমেন্ট (বাতিল) করা হয়।
আর যে হাওয়া ভবনের দূর্নীতির কথা বলে তারা আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বেড়ায়, তার ব্যাপারে একটি মামলাও রুজু করতে পারে নাই গত ১৪ বছরে। অর্থ পাচারের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা হলেও চূড়ান্ত বিচারে তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে মামলার রায় ঘোষণার পর সেই বিচারক দেশে থাকতে পারেননি।
ইদানীংকালে বিএনপির সোচ্চার নেতাদের মুখ বন্ধ করতে নতুন করে দুর্নীতির মামলা সাজানো হচ্ছে। ২০২৩ সালে আন্দোলন জোরদার হতে পারে। সেজন্য তাতে পানি ঢেলে দিতে বলা যেতে পারে সরকারের এটা এক নব্য কৌশল।
বিপরীতে আওয়ামী লীগের এই ১৪ বছরে যা লুটপাট হয়েছে তা রীতিমতো বিশ্ব রেকর্ড। এর কিঞ্চিত চিত্রটা এরকম ———
১। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা।
২। ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে ৮০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের ৫০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য যোগ করে।
৩। প্রশান্ত কুমার ওরফে পিকে হালদার ৩, ৫০০ কোটি টাকা লুট করে চলে গেছে ভারতে।
৪। বেসিক ব্যাংক থেকে আবদুল হাই বাচ্চু ৪, ৫০০ কোটি টাকা আপন মনে করে তুলে নিয়েছে।
৫। জনতার মঞ্চের হোতা মহিউদ্দিন খাস আলমগীর ফার্মাস ব্যাংক থেকে ১, ৮০০ কোটি টাকা নিয়েও বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেই ব্যাংক মরে ভুত হয়ে গেছে।
৬। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮ দশমিক ২৭ বিলয়ন ডলার পাচার হয়। সে হিসেবে ১০ বছরে মোট পাচার হয়েছে ৮২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
৭। হলমার্ক ২০১১ সালে মাত্র এক মাসের মধ্যে ৪৫০০ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছিল।
৮। এনন টেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে লুটে নিয়েছে ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা।
৯। বিসমিল্লাহ্ গ্রুপের খাজা সোলেমান আনোয়ার ২০১২ সালে জনতা ব্যাংক থেকে লুটে নেন ১, ২০০ কোটি টাকা।
১০। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্ট থেকে ৩৩০ কোটি টাকার সোনা চুরি হয়েছে।
১১। রপ্তানি উন্নয়ন ফান্ডের ৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে মাত্র তিন বছরে।
১২। যুবলীগ নেতা এক জিকে শামীম ৩৫ হাজার কোটি টাকা কিভাবে বানালো?
১৩। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে পছন্দের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোকে বসিয়ে রেখে গত ১০ বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা নিশ্চয়ই হবে। কারণ জনগণ এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেগে উঠছে। ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। তাদের কাছে এই মুহুর্তে জরুরি দাবি হচ্ছে, একটি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। জনগণই দেশের মালিক, তাদের রায়ে গঠিত হবে সরকার- যাকে বলা যাবে জনগণের সরকার। নতুন বছর ২০২৩ সালে সেই সোনালি সূর্য বাংলাদেশের আকাশে উদিত হবেই হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ