দেশের সবাইকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মান্নার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৩৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশের সবাইকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মান্নার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে”গণতন্ত্র মন্ত্র” এর আয়োজনে,”সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সরকারি মদদে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে”বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, ছাত্ররা মিছিল বের করেছিল, রাজাকার তুই রাজাকার,কেন তারা এই ধরনের কথা বললেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাজাকারের সন্তান, নাতিপুতি বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক হন, তার বিচার করতে পারেন না,তার লজ্জা হয় না। আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। ছাত্ররা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। হাসিনা সরকার মেধার ভিত্তিতে দেশ চালাতে চান না। এই সরকার ভোট বিহীনভাবে তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন। যারা সারা বাংলাদেশে ছাত্রদের উপর তান্ডব চালালো তাদের পরিচয় আপনারা জানেন, তাদের হাতে ছিল রামদা, পিস্তল। তারা কারা তারা ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মী।

তিনি বলেন, ছাত্ররা কি রাজাকার, যার মাথা গরম তিনিই এ ধরনের কথা বলতে পারেন, ছাত্ররা রাজাকার। লক্ষ লক্ষ ছাত্ররা রাজপথে নেমে এসেছেন তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য, কোন ভয় দেখিয়ে তাদেরকে আপনি দমিয়ে রাখতে পারবেন না। আমরা তো পাকিস্তানের সময়ও দেখিনি যে, মেডিকেল কলেজের ভিতরে ঢুকে ছাত্রদের ভয় দেখানো হয়। অথচ মেডিকেল কলেজে ঢুকে যারা আহত ছাত্রদের দেখতে গিয়েছিল, তাদের উপর হামলা চালিয়েছেন, এই সরকার পাকিস্তান যুগকেও হার মানিয়ে দিয়েছেন। খুনিদের হাত রক্তে রঞ্জিত করে আপনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে পারবেন না। সরকার কাঁচা মরিচের দাম কমাতে পারেন না, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমাতে পারেন না, সাবেক আইজিপি বেনজির ও সেনাপ্রধান আজিজের দুর্নীতি কমাতে পারেন না, অথচ তারা মুখে মুখে বড় বড় কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আপনারা শুধু বাংলাদেশ উন্নয়নের কথা বলেন, কিন্তু দেশের পিছিয়ে পড়া রাজপদগুলো কেন উন্নয়ন হলো না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আছে, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করি, কিন্তু ছাত্রদের মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। আমাদেরকে ভুয়া মামলায় আদালতে লাইন ধরে দাঁড়াতে হয়, আপনাদের কেও আদালতে দাঁড়াতে হবে। হাসপাতালে ছাত্ররা রক্তের উপর শুয়ে আছেন, যেই লড়াই করতে গিয়ে পুলিশ ছাত্রদের বুকে গুলি করছেন, ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রদের হামলা করছেন, এর পরিণতি ভালো হবে না। ছাত্ররা হাসপাতালে রক্তের উপর শুয়ে বলছেন, দল মত নির্বিশেষে সকলেই আমাদের পাশে দাঁড়ান, আমরা আমাদের দাবি আদায় করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে শেষ লড়াই করতে চাই।

মান্না বলেন, ছাত্রদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে দেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গুলোকে ছাত্রদের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে একমত পোষণ করছি,আমরা তাদের সঙ্গে আছি। সারাদেশ ব্যাপী ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগের হামলায় যে সকল ছাত্র মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের স্মরণে আগামীকাল সারাদেশ ব্যাপী গণতন্ত্র মঞ্চের সকল নেতাকর্মীদের কালোব্যাস ধারণ আহ্বান জানাচ্ছি।

জুনায়েদ সাকি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ আজকে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে,সারা দেশে ছাত্রদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পারছি, সরকারের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী ছাত্রদের উপর গুলি করছে। ছাত্রদের উপর হামলার দায় ও হত্যার দায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিতে হবে। সংবিধানে দেশের সকল নাগরিকদের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেমেয়েদের নাতিপুতিদের কোথা দিয়ে সংবিধান বিরোধী কাজ করছেন। দেশকে যারা বাবার সম্পত্তি মনে করেন, নিজের সম্পত্তি মনে করেন তারা এ ধরনের কাজ করতে পারেন। আপনি যখন ছাত্রদের বলেছেন রাজাকারের,তারা সঠিক জবাব দিয়েছেন আপনি স্বৈরাচার। সরকার বিভাজনের রাজনীতি করে ক্ষমতা পুঞ্জীভূত করে রাখতেন চান। বাংলাদেশের ছাত্ররা ন্যায়ের জন্য লড়ছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লড়ছেন। ছাত্ররা ইতিপূর্বে চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন করেছিলেন,তারা এবারও তাই আন্দোলন করছেন। আপনি সংবিধান লংঘন করে শপথ লংঘন করে ক্ষমতায় আছেন। সরকার সিস্টেমকে এমন ভাবে রেখেছেন, যাতে করে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোঠা পুনর্বহাল করা যায়। সরকার কমিটি গঠন না করে, উস্কানি দিয়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ যুবলীগকে লেলিয়ে দিয়েছেন। কারণ তারা এই দেশটাকে লুট করতে চান। তারা বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, তারা এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ছাত্রদের উপর হামলা করছেন। বিনা ভোটের মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসে দেশকে বিদেশের নিকট বিক্রি করতে চান। আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে এই সরকারকে প্রতিহত করব।

সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরা খুবই ভারাক্রান্ত,কারণ রংপুরে বেগম রোকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। গুলিতে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছন। এ ধরনের ঘটনার পর বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসেছেন। ছাত্র আন্দোলন করছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে, তাদের দাবি ন্যায্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগুনের মধ্যে ঘি ঢেলে দিয়েছেন তিনি বলেছেন আন্দোলন রত শিক্ষার্থীরা রাজাকারের সন্তান ও নাতিপুতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দুঃখ প্রকাশ করে, আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আপনাদের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন তাতে তারা বলেছেন,সরকার ইচ্ছা করলে কোটা কমাতে কিংবা বাড়াতে পারেন,তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন ছাত্ররা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। ইসরাইল বাহিনী ফিলিস্তিনের একটি হাসপাতালও হামলা থেকে রেহাই পাইনি, তেমনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজগুলো তো হামলা করা হয়েছে। পুলিশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার কে বলব আপনারা চিহ্নিত অস্ত্রধারী দেরকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনবেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে, আমরা বুঝে নিবো তাদের ইন্ধন যোগাচ্ছে সেই সরকার তাই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই অস্ত্রধারীর কারণে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে হুকুম দাতা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। সারাদেশব্যাপী ছাত্ররা বিক্ষোভ করছেন, তারা সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছেন, দেশের সব বুদ্ধিমান মানুষ, দেশের শ্রমজী বী মানুষদের এই দাবিকে সমর্থন দিয়েছেন। সরকার মুক্তিযোদ্ধার কথা বলে আওয়ামী লীগ কোটা সৃষ্টি করতে চান। যদি ছাত্রদের দাবি না মেনে নেন, আর এই মরণ খেলা বন্ধ না করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য হবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম এর সভাপতিত্ব আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু,জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সহ-সভাপতি তানিয়া রব প্রমখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ