দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সরকারের কালো থাবায় বিপর্যস্ত: রিজভী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:২৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সরকারের কালো থাবায় বিপর্যস্ত: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০২৪ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ১২, ২০২৪ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘রাজসিংহাসন দখলে রেখে অনন্তকাল অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার অসৎ অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান, আইন আদালত, পুলিশ, সিভিল প্রশাসন সবকিছু মুঠোই পুরে দুমড়ে মুচড়ে ফেলেছে। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পাঠিয়েছে কবরে।

তিনি বলেন, ‘যেখানেই ভোট, সেখানেই আওয়ামী ভোট ডাকাত—সেখানেই সন্ত্রাস! দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠনও তাদের কালো থাবায় বিপর্যস্ত। এভাবে চলতে থাকলে দেশকে ভয়ানক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয় রয়েছে ধ্বংসের শক্তি। লণ্ডভণ্ড নির্বাচনী ব্যবস্থা ও পেশী—শক্তির উন্মত্ততার হিংস্র প্রতিফলন দেশের জনগণ অবলোকন করলো সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনেও।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ যে সকল কুটকৌশল অবলম্বন করছে তার সব কিছুই তারা সদ্য সমাপ্ত সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে প্রয়োগ করেছে। গত ০৬ এবং ০৭ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সাথে যুবলীগের কামড়া—কামড়ি, হাঙ্গামা, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মুখে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথিকে সম্পাদক পদে নির্বাচিত ঘোষণা, পরে আবার শেখ হাসিনা ও মেয়র তাপসের প্রার্থীকে সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আইনাঙ্গনের আইনজীবীদের মর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে দিয়েছে। ওরা হিংসা—প্রতিহিংসার পথে দেশের রাজনীতিকে উপসংহারহীন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘এই ভোট জালিয়াতি ও নিজেদের অপকর্মের ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের জনপ্রিয় সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত মিথ্যা সাজানো মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। ফলাফল গণনা নাটকের নামে জালিয়াতি করে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা ও যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশের আপন ভাই মেয়র তাপসের প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হককে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনে ভোটে যার সেক্রেটারি নির্বাচিত হওয়ার কথা তাকে পুরা হয়েছে জেলে! আর যার নিশ্চিত পরাজিত হওয়ার কথা তাকে শেখ হাসিনার নির্দেশে বসানো হয়েছে সম্পাদকের চেয়ারে। ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে যে মামলায় আটক করা হয়েছে সেই মামলায় এক নম্বর আসামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী নাহিদ সুলতানা যুথিকে গ্রেফতার তো দুরের কথা তার নাম নিতেও ভয় পাচ্ছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, ‘গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেছেন, যুথিকে খুঁজে পাচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ মামলার পর সেই রাতেই বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর যুথিকে খুঁজে পাবে কিভাবে? এ্যাডভোকেট যুথি হয়তো গণভবনেই অবস্থান করছে। পুলিশ শুধু বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার আগেই খুঁজে গ্রেফতার করে। না পেলে বিএনপি নেতাদের মা—বাবা—স্ত্রী—সন্তান পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে যায়। ২০ জনের নামে করা এজাহারে যুথি শুধু এক নম্বর আসামী—ই নয়, দৃশ্যমান আক্রমণকারিদের একজন পৃষ্ঠপোষক।

নির্বাচন সাব কমিটির কো—অপ্ট সদস্য সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ গত শুক্রবার রাতে দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, এক নম্বর আসামির (যুথী) নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নিচ তলার শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে অস্ত্র হাতে ঢুকে বাদীসহ নির্বাচন সাব—কমিটির অন্য সদস্যদের গালিগালাজ করেন আসামিরা। দুই আসামি লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশে মাথায় আঘাত করতে গেলে বাদী বাধা দেন। এতে তিনি বাঁম কানের উপরে মাথার অংশে মারাত্মক জখম হন। অন্য আসামিরা লাঠি ও চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর এবং লাথি দিয়ে বাদীর শরীরে জখম করেন। তার পরনের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এজাহারে আরো বলা হয়, “নির্বাচন সাব—কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আবুল খায়েরকে অস্ত্রের মুখে ভোট গণনা ছাড়াই সম্পাদক হিসেবে নিজেকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে বাধ্য করেন এক নম্বর আসামি। নির্বাচন সাব—কমিটির সদস্যরা জীবন বাঁচাতে ভোট গণনার কাজ না করেই চলে যেতে বাধ্য হন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার সবকিছু ধারণ করা আছে।’
অথচ মামলার পরদিন শনিবার গ্রেফতার করা হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলকে। পরশ—তাপস দুই ভাইয়ের মারামারি এবং পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সামাল দিতে এবং সম্পাদক পদ দখলের জন্য কারারুদ্ধ করা হয়েছে কাজলকে। এতো সহিংস ঘটলেও বিচারপতিরা নিশ্চুপ।

রিজভী বলেন, ‘গত ৬ এবং ০৭ মার্চ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে ২০২২ ও ২০২৩ সালের সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের কলঙ্কজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। ব্যাপক জনপ্রিয় ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার কারণে ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে তাদের ভয়।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া সত্ত্বেও ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ’ নিজেদেরকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এ সবই আওয়ামী লীগের অতীত চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের ভোট জালিয়াতি ও ডাকাতির মাধ্যমে সম্পাদকসহ ১০ পদ দখল করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও ফল ঘোষণা হলে সবগুলো পদে বিএনপির প্রার্থীরা নিশ্চিত জয় লাভ করতেন।

রিজভী আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্র—ছায়ায় দেশের কোথাও কোন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটারাধিকারে বিশ্বাসী নয়, বিগত ২০১৪, ২০১৮ এবং গত ৭ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরণের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশের সাধারণ মানুষের আইনের আশ্রয় নেওয়ার শেষ ভরসাস্থল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের সমিতিতে তারা নগ্ন হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু আওয়ামী প্রভুত্ববাদের অধীনতা থেকে মুক্তির সন্ধান একদিন মিলবেই।

এ পরিস্থিতিতে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি’র পক্ষ থেকে ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছি এবং অবিলম্বে সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তথাকথিত নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ