পদত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার!
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং দলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিরোধিতার মুখে লেবার পার্টির এই সরকার চরম সংকটে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার তার ঘনিষ্ঠ মহলকে জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করে বিদায় নিতে চান। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয়, ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং দলীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগের পর স্টারমারের ওপর চাপ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র রাজনৈতিক গোলযোগ ও তুমুল সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল ইউকে’ দেশটির মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এনেছে। ওই ক্যাবিনেট সদস্য জানিয়েছেন, কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। তবে তিনি এটি নিজের শর্তে করতে চান। সূত্রটি সংবাদমাধ্যমটিকে বলে, ‘তিনি (স্টারমার) বুঝতে পেরেছেন যে বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে এবং নিজের পছন্দমতো সময়ে বিদায় নিতে চান। খুব শিগগিরই তিনি তার বিদায়ের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।’
লেবার পার্টির এই সরকারের সংকট সাম্প্রতিক সময়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের দূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্টারমারকে এই দ্রুত নিয়োগের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির অত্যন্ত দুর্বল পারফরম্যান্স স্টারমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী হতে চান ওয়েস স্ট্রিটিং
সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ক্যাবিনেটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে। গত শনিবার এক বক্তৃতায় স্ট্রিটিং সরাসরি ঘোষণা দেন, তিনি ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। নিজেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করে সাবেক এই স্বাস্থ্য সচিব স্টারমারকে দ্রুত বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানান। ব্রেক্সিট-বিরোধী হিসেবে পরিচিত স্ট্রিটিং মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া একটি মারাত্মক ভুল ছিল।
এদিকে জনমত জরিপেও কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। ‘ইউগভ ইউকে’র সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৬৯ শতাংশ নাগরিক লেবার পার্টির এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ও ‘অপ্রীতিকর’ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ইউগভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্টারমার বর্তমানে ব্রিটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। অনেকেই তার এই পরিস্থিতিকে লিজ ট্রাসের ৪৯ দিনের সংক্ষিপ্ত ও বিপর্যয়কর মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন অজনপ্রিয়তা এখন লেবার পার্টির ভেতরেও তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। দলের অনেক সংসদ সদস্য (এমপি) আশঙ্কা করছেন, স্টারমারের এই ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে লেবার পার্টির সরকার গঠনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে এই রাজনৈতিক শূন্যতা ও জন-অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থিরা দেশটির ক্ষমতায় চলে আসতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ