প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৩৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

 

অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে সূচিত মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরব দীপ্ত উজ্জ্বলতা আর নয় মাস ব্যাপী রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় উচ্ছ্বাস ম্লান হতে শুরু করে স্বাধীনতার পর পরই। আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার দাপট, অবাধ দখল আর লুটপাট, রাষ্ট্র পরিচালনায় নিদারুণ ব্যর্থতা, দ্রব্য মূল্যের অসহনীয় উর্ধগতি আর চরম নিরাপত্তাহীনতায় জনগণের সকল স্বপ্ন পরিনত হয় এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে।

এর সাথে যুক্ত হয় রক্ষীবাহিনীর নির্মম নির্যাতন আর নির্বিচার হত্যাকান্ড। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্তম্ভিত জনগণ পরিচিত হয় গুমের সংস্কৃতির সাথে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরউত্তম মেজর জলিলকে অপহরণের মাধ্যমে এর সূচনা করে আওয়ামী লীগ আর বিচারাধীন বন্দী সিরাজ শিকদারকে হত্যার মাধ্যমে তথাকথিত ক্রসফায়ার নাটক মঞ্চস্থ করার কৃতিত্বও সেই আওয়ামী লীগের।

তিয়াত্তর আর চুয়াত্তরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল আওয়ামী ব্যর্থতার অনিবার্য পরিণতি। ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্টের জন্য মানুষ কুকুরের কাড়াকাড়ি আর অভাবের তাড়নায় জালবন্দী বাসন্তীদের লজ্জা নিবারণ নির্লজ্জ আওয়ামী সরকারকে সেদিনও বিচলিত করতে পারেনি। ফলে দুঃশাসনের পরের আঘাত হয়ে সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করে আবির্ভূত হয় একদলীয় বাকশাল। সেই স্বৈরদানবের থাবায় কন্ঠরুদ্ধ হয় মতপ্রকাশের, বন্ধ হয় সংবাদপত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পিষ্ট হয় স্বৈরাচারের পদতলে।

ক্রমাগত বঞ্চিত, লাঞ্ছিত আর অধিকারহীন বাংলাদেশের জন্য তখন অপেক্ষমান ছিল এক অনিবার্য পরিবর্তনের। আগষ্ট ১৯৭৫ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় অতি দ্রততায় একের পর এক পরিবর্তনের বার্তাবাহক হয়ে এলো। সেদিনের দিশাহীন বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর সিপাহি জনতার বিপ্লব আরেকবার তাদের ভালোবাসায় অভিষিক্ত করলো মহান স্বাধীনতার ঘোষক, প্রমানিত দেশপ্রেমিক বীর উত্তম জিয়াউর রহমানকে এক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায়।

জিয়া হতাশ করলেন না দেশবাসীকে। দুর্ভিক্ষ কবলিত বাংলাদেশকে দিলেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বস্তি, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করে দেশকে মুক্ত করলেন বাকশালের শৃঙ্খল থেকে। বন্দীদশা থেকে মুক্ত হলো কন্ঠরোধ করা সংবাদপত্র, বাংলাদেশের বন্ধুত্বের দিগন্ত প্রসারিত হলো মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পশ্চিমের উন্নত বিশ্বে, পুবের প্রতিবেশীদের সাথে সৃষ্টি হলো হৃদ্যতার সেতুবন্ধন।

তরুণ আর যুবকের হলো কর্মসংস্থান আর কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ, শিক্ষাঙ্গণে ফিরে এল পড়াশোনার পরিবেশ আর জ্ঞান চর্চার আবহাওয়া, নারীরা হলেন স্বমর্যাদায় স্বাবলম্বী। শিশু-কিশোর উদীপ্ত হলো প্রতিভার বিচ্ছুরণে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হলো আধুনিক আর জন-কল্যাণকর।

দেশ গড়ার মহান প্রত্যয়ে স্বতঃস্ফূর্ত খাল খননে একদিকে বাংলাদেশের চিরচেনা বিবর্ণ ধূসর চৈত্র মাস বদলে গেল বোরো মৌসুমের সবুজ ফসলের সমারোহে আর অন্যদিকে হাজার হাজার বছরের ঊষর আরব মরুভূমির আরাফাত প্রান্তর রুপান্তরিত হলো ‘জিয়া ট্রি’র সবুজ ছায়াতলে।

দেশের সকল মানুষের মাঝে সৃষ্টি হওয়া ঐক্য আর সম্প্রীতির এমন অসাধারণ পরিবেশে আর শান্তিময় বাংলাদেশে ভবিষ্যৎদর্শী গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার অপরিহার্য প্রত্যাশাও পূরণ হলো জিয়াউর রহমানের সুদূর প্রসারী দূরদর্শী সিদ্ধান্তে।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় যাত্রা শুরু হলো এক প্রকৃত উদার গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় ভাবাদর্শের প্রতি অনুগত, সকল মত ও পথের মানুষের অন্তর্ভুক্তিতে মত-প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এক নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’। যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং ৭৫ জন প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য। জিয়াউর রহমান সেদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মত এক অসাধারণ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়ের ধারণা উপস্থাপন করেন বিশ্ববাসীর সামনে। যা সকল ভৌগলিক অবস্থান, কৃষ্টি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মহামিলনে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি হয়ে সবাইকে এক ও অভিন্ন পরিচয় ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’ এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

স্বনির্ভরতা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন আর ঐক্যের মূলমন্ত্রে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তিনি তাঁর দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবে ঘোষণা করেন ঐতিহাসিক ১৯ দফা। যার মূল কথা ছিল সর্বশক্তিমান আল্লাহ’র প্রতি সর্বাত্মক বিশ্বাস আর গণতন্ত্র, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ন্যায় বিচারের প্রত্যয়। সাথে ছিল সুশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, গৃহ সংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, সমতার পররাষ্ট্র নীতি, ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে সমান নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা।

প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের প্রশ্নহীন সততা, দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস আর দেশ গঠনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা তাঁকে দেশের প্রতিটি গৃহকোণে পৌঁছে দেয় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যুগান্তকারী খাল খনন, নিরক্ষরতা দূরীকরণের মত কল্যাণমুখী পদক্ষেপ উজ্জীবিত করে সারাদেশকে। ফলশ্রুতিতে ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল বিএনপি ২০৭ আসনের নিরঙ্কুশ বিজয় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা আর সংবিধানে বহুল প্রত্যাশিত ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ সংযোজনের সুযোগ করে দেয়।

সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা এই মহামানবের জীবনাবসান হয় শাহাদাতের মাধ্যমে ৩০ মে ১৯৮১ সালের বর্ষন-মুখর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য বস্তু হয়ে। শোকে মুহ্যমান দেশবাসী ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার মাধ্যমে তাঁকে জানায় শেষ বিদায়।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রপতির উপ-নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডক্টর কামাল হোসেনকে পরাজিত করেন বিপুল ভোটে।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ১৯৮২ সালে বন্দুকের নলের মুখে অপসারণ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।

এরশাদের সামরিক শাসনের প্রতিবাদ আর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ সমুন্নত রাখতে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন আনুষ্ঠানিকভাবে এবং ১৯৮৩ সালে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অসুস্থ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের স্থানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বে বিএনপি এরশাদ পতনের আন্দোলনে অগ্রনী ভ‚মিকা পালন করে। ১৯৯০ এর গণআন্দোলনে স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করেন ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রবর্তন করেন সংসদীয় গণতন্ত্র, ১৯৯৬ সালে আরেক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে তিনি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযুক্ত করেন। তাঁর নেতৃত্বে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সামগ্রিক পরিচালনায় অবিশ্বাস্য সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমান। অসংখ্য তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক ঐক্যকে এক অনন্য মাত্রায় উপনীত করেন।

এরপর এলো সূদুর প্রসারী ষড়যন্ত্রের ফসল কুখ্যাত এক-এগারো ২০০৭, দেশ আবারও অবরুদ্ধ হলো স্বৈরতন্ত্রের এক দীর্ঘ বেড়াজালে। ২০০৮ সালের নীল নকশার নির্বাচন, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নৈশ ভোটের নির্বাচন আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের আমি ডামির নির্বাচন। দুঃখজনক হলেও সত্যি এই সবকয়টি বিতর্কিত অবৈধ নির্বাচনে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবীদার আমাদের প্রতিবেশী দেশের সরকার।

এক এগারোর ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল বিএনপি বিশেষ করে জিয়া পরিবার। দেশ থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নিশ্চিহ্ন করতে একে একে আঘাত আসে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এমন কি বাদ যাননি রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা আরাফাত রহমানও। সাজানো মিথ্যা মামলায় কারা অন্তরীন হন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার তারেক রহমানের উপর চালানো হয় উপর্যুপরি নির্যাতন- শুধুমাত্র অবিশ্বাস্য মানসিক শক্তিই সেই বিভীষিকাময় দিনে বাঁচিয়ে রাখে তাঁকে। তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতে করা হয় দেশান্তরি। নাটকের মঞ্চ সাজিয়ে তথাকথিত এক এগারো সরকার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে।

আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে বিএনপি’র আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শত বাঁধার মুখেও অবিচল থেকে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছিলেন আপোষহীন।
ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার আর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের কুমতলবে এই অশুভ চক্র প্রথম সুযোগেই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর গণভোট ব্যবস্থা বাতিল করে। বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে মিথ্যা মামলার জালে জড়ানো হয় বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে। একপর্যায়ে এই সংখ্যা ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে। প্রায় দেড় লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হয় প্রায় ৬০ লক্ষ মামলা। প্রতিদিন আদালত প্রাঙ্গণ আর পুলিশি নির্যাতন এড়াতে মাঠে জঙ্গলে কাটে তাদের বেশির ভাগ সময়। একপর্যায়ে মিথ্যা সাজানো মামলায় ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে চিকিৎসাহীন বন্দীত্ব বরণ করতে হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।

এমনি কঠিন বাস্তবতায় আট হাজার কিলোমিটার দূরে থেকে আট ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেন জনাব তারেক রহমান। শুরু থেকেই তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য ছিল নেতাকর্মীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখা, দলের ঐক্য ধরে রাখা আর সর্বোপরি এমন কঠিন সময়ে সবার পাশে থাকা। তাঁর দিন-রাতের বেশির ভাগ সময় কেটেছে শুধুমাত্র বিএনপি’র জন্য। আর সেটার সাফল্য হিসাবে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে যেমন হয়েছে শক্তিশালী তেমনি শত নির্যাতন প্রলোভনেও দল ছাড়েননি একজনও। দল আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয়েছে, হয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ, তাঁর প্রত্যক্ষ তদারকিতে মূল, অঙ্গ আর সহযোগী সংগঠন ছাড়াও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ দাঁড়িয়েছে সহযোগিতার নাম হয়ে, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ হয়েছে শিক্ষা আর প্রযুক্তির পৃষ্ঠপোষক, ‘জাসাস’ হয়েছে উদ্দীপনার নাম, মিডিয়া সেল হয়েছে যোগাযোগ আর সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে।

স্বৈরাচারের নগ্ন থাবা থেকে জনাব তারেক রহমানের মেধাবী চিকিৎসক স্ত্রী পর্যন্ত রক্ষা পাননি। একমাত্র ভাইয়ের বিনা-চিকিৎসায় মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থ মা- এতো সবকিছুর পরে তাঁর অগ্রাধিকারে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও আর তাঁর প্রাণের দল বিএনপি।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে মর্যাদার সাথে কেমন ভাবে টিকে থাকবে এই সূদুর প্রসারী দূরদর্শী ভাবনা থেকে আর সাথে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রত্যয়ে জাতির উদ্দেশ্য ২০২২ সালে উপস্থাপন করেন ২৭ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কালজয়ী কর্মসূচি; যা পরে সমমনা রাজনৈতিক দল ও সুধিজনের অভিপ্রায়ে ৩১ দফায় পরিণত হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী অপশক্তি আর তার দোসরদের বিরুদ্ধে বিরামহীন আন্দোলনের সফলতা আসে আগষ্ট ২০২৪ সালে, বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে বিএনপি’র নেতৃত্বে যে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ক্রমাগত উত্তপ্ত হচ্ছিল- এক অনিবার্য বিস্ফোরণের জন্য সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সেটা সফলতায় রুপান্তরিত হয় আগষ্ট ২০২৪-এ, অপমানজনক ভাবে পালিয়ে যায় ফ্যাসিষ্ট নেত্রী আর তার লুটেরা সাগরেদের দল।

আজ দেশে মুক্তির সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশকে নিশ্চহ্ন করার ষড়যন্ত্র থেমে নেই, আমাদের যাত্রা পথের গন্তব্য এখনো অনেকদূরে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটা সরকার আর জনগণের আস্থা- যার ভিত্তি হলো আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য, এটাই হলো এই সময়ের প্রধান জন-আকাঙ্খা। বিএনপি দেশের সূচনা থেকেই জন-আকাঙ্খা পূরণের বিশ্বস্ত দল হিসাবে সব-সময়ই জন সমর্থন পেয়েছে, সেকারণেই এই দলের প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও অনেক।

গত দেড় যুগে এই প্রত্যাশার গন্তব্যে পৌঁছতে দলের প্রায় ২০০০ নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছে, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে অগনিত, গুম আর বিচারহীন হত্যার শিকার হয়েছে শত শত। এমন কি গত জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুথানেও বিএনপি আর অঙ্গ সহযোগী দলের শাহাদাত বরণকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। এতো বৃহৎ ত্যাগের লক্ষ্য এক আর অভিন্ন, জনগণের বাংলাদেশক জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়া।

শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র মমতায় সিক্ত আর দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত এই কোটি কোটি মানুষের দল তার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছবে জন-মানুষের সমর্থনে। আজ সেই প্রত্যয়দীপ্ত শপথ নেয়ার দিন। সুদৃঢ় ঐক্য আর অনুকরনীয় শৃঙ্খলাই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করেছে বারবার, আজ আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর অপার সম্ভবনা আমাদের সামনে। জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি, তাদের আস্থা অর্জনেই বিজয়। ষড়যন্ত্রের সকল শৃঙ্খল ছিন্ন করে স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে বিজয় আমাদের নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

▪ লেখক : অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল
আহবায়ক, মিডিয়া উপ-কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন কমিটি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ