প্রিয় শখের পুরুষ, তুমিই করো তোমার বিয়ে’ লিখে আত্মহত্যা - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রিয় শখের পুরুষ, তুমিই করো তোমার বিয়ে’ লিখে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৮, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৮, ২০২৪ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক রুপ নেয় বিয়েতে। দুই পরিবারের সম্মতিতে ধার্য হয় বিয়ের দিনক্ষণ। কিন্তু যৌতুকলোভী প্রেমিকের চাহিদার কাছে হেরে গেলেন রীমা আক্তার। ক্ষোভে, রাগে, দুঃখে যৌতুকের কাছে মাথা না নুইয়ে নিজের জীবনকে বির্সজন দিয়ে চলে গেলেন পরপারে। বিয়ের মেহেদি লাগানো অবস্থায় বেঁছে নিলেন আত্মহত্যার পথ।

রীমার আক্তার (২০) চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় হাইদগাঁও এলাকার হীরু তালুকদার বাড়ির বাচা মিয়ার মেয়ে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় হাইদগাঁও এলাকার হীরু তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৮ জুন) মিজানুর রহমান মোরশেদ নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ের কথা ছিল।

মৃত্যুর আগে হবু স্বামীর উদ্দেশে চিরকুটে লিখেছেন, ‘প্রিয় শখের পুরুষ, তুমি করো তোমার বিয়ে। অনেক ভালোবেসেছ এবং অতিরিক্ত যন্ত্রণাও দিয়েছ। আমি পারছি না এত যন্ত্রণা নিতে। বাকি জীবনটা সুন্দর করে উপভোগ করতে পারলাম না। ভালো থেকো। আজকের দিনেও তোমার যন্ত্রণা নিতে পারছি না। আমার পরিবার থেকে যে যৌতুকের টাকা তোমাদের দিয়েছে, সেগুলো শোধ করে দিও। তুমি আমাকে বাঁচতে দিলে না।’

চিরকুটে তিনি আরও লিখেন, আমি বাঁচতে পারতাম যদি আমি বেশি মান সম্মানওয়ালা পরিবারে জন্মগ্রহণ না করতাম। সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমার সব যন্ত্রণা ধুয়ে মুছে আমাকে কবরে পাঠাইও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত মিজানুর রহমান নামে এক যুবকের সঙ্গে রীমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে ঠিক হয়। হবু স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। রীমা পটিয়া সরকারি কলেজে অর্নাসপড়ুয়া ছাত্রী ছিল।

রীমার ভাই আজগর হোসেন বলেন, ‘আমার বোন পটিয়া সরকারি কলেজে অনার্সের ছাত্রী ছিল। ছেলের পক্ষের আগ্রহে আমরা বিয়েতে রাজি হয়েছি। আমার বোনের কাছে যৌতুক হিসেবে ফুলসেট ফার্নিচার, টিভি, ফ্রিজ এবং বিয়ের খরচ হিসেবে নগদ টাকা দাবি করা হয়। উভয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যৌতুক দাবি করায় আমার বোন অপমানিত হয়ে রাগে আত্মহত্যা করে।’

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ