পটুয়াখালী ৪-একক আধিপত্য বিএনপি’র, সক্রিয় ইসলামী আন্দোলন-জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:০০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পটুয়াখালী ৪-একক আধিপত্য বিএনপি’র, সক্রিয় ইসলামী আন্দোলন-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ২:২৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ ২:২৯ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠে। যত দিন যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ ততই বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের জেলার মধ্যে অন্যতম সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি। রয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা সমুদ্রবন্দর, তিনটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। যা আসনটির গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক জোন ও পর্যটন এলাকা হিসেবে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এখানে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। হাসিনা সরকারের পতনের পর এ আসনেও সরব হয়ে উঠেছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিস ও আম-জনতা পার্টি। ভোটের মাঠ গোছাতে মরিয়া তাদের নেতাকর্মীরা। আসনটিতে সাংগঠনিক দিক বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। এরপরেই ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। যদি সেটি হয়, তাহলে এখানে জোটের প্রার্থী হবেন ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। ‘অর্থনৈতিক ঘাঁটি’ খ্যাত এ আসনটিতে ভোটযুদ্ধে লড়বেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। ভোটের মাঠে সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। মাঠের রাজনীতিতে তার একক আধিপত্যই দৃশ্যমান। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দুই স্তরেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় এবিএম মোশাররফকে ঘিরেই বিএনপি’র নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি, কর্মীদের সুসংগঠিত রাখা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অবস্থান তাকে ভোটের মাঠে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। বিএনপি’র ভেতরেও শোনা যাচ্ছে মোশাররফ ছাড়া আর কারও অবস্থান নেই বললেই চলে। তবে, বিএনপি’র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এক সময় বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে দলবদল করে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তিনি। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জোরে ইসলামী আন্দোলনের হয়ে মাঠে নেমে বিএনপি’র জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারেন তিনি। এ আসনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কলাপাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নামই যৌথভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যদি ইসলামী দলগুলো জোট না হয়, তাহলে ইসলামী ধারার ভোট দু’ভাগ হয়ে গেলে বিএনপি’র জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ও আয়কর আইনজীবী মনিরুজ্জামান মনিরের নামও শোনা যাচ্ছে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের জহির উদ্দিন আহম্মেদ ও আম-জনতা পার্টির সেক্রেটারি ফাতিমা তাসনিম এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল ইসলামও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভোটের মাঠে তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পার্টি বা এনসিপিও এ আসনে সক্রিয় নয় বললেই চলে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত বছরের ৫ই আগস্ট দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির কোনো সক্রিয়তা নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাদের নীরব ভোটাররা ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন। ফলে আসনটি এখন মূলত বিএনপি ও ইসলামী ধারার দলগুলোর প্রতিযোগিতায় থাকছে আওয়ামী লীগের নীরব ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী যদি শেষ পর্যন্ত জোট করে তাহলে বিএনপি’র জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে তারা আলাদা পথে হাঁটলে এবিএম মোশাররফ হোসেনের একক আধিপত্যে ফলাফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে আসনটির জয়-পরাজয়ের বড় চাবিকাঠি কলাপাড়া উপজেলায়। রাঙ্গাবালীর তুলনায় কলাপাড়ায় ভোটার সংখ্যা বেশি। এজন্য এখানকার ভোটারদের মন জয় করাই প্রার্থীদের জন্য প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হবে বিএনপি বনাম ইসলামী দলগুলোর। আওয়ামী লীগ কার্যত অনুপস্থিত থাকায় সরাসরি লড়াই হবে মূলত এবিএম মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের। তবে শেষ মুহূর্তে জোট রাজনীতি ও প্রার্থীদের প্রচারণাই ঠিক করে দেবে কে পাবেন এ আসনের অভিভাবকের দায়িত্ব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ