ফরিদপুর সংসদীয় আসন-১ভোটারদের মন যোগাতে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফরিদপুর সংসদীয় আসন-১ভোটারদের মন যোগাতে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:১৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

 

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) থেকে
ছবি : প্রতিনিধি
ফরিদপুর সংসদীয় আসন-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতারা নিয়মিত এলাকায় আসছেন। ভোটারদের মন জোগাতে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সভা-সমাবেশ করছেন। সেইসঙ্গে দলীয় প্রতীকে ভোট পেতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। একই দলের কেউ কেউ সভা-সমাবেশে দলীয় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াতেও দেখা যাচ্ছে। আবার সহিংস ঘটনাও ঘটছে মাঝেমধ্যে।

আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সর্বশেষ সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় মন্ত্রী আব্দুর রহমান নিজ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনকে পরাজিত করেছিলেন। ৫ই আগস্টের পর দেশের প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনে আসনটিতে এবার বিএনপি সামনে মহাসুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দলটির প্রার্থীদের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মাশুল গুনতে হতে পারে বলে এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন।

এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রের নজর কাড়তে এ পর্যন্ত মাঠে যাদের নাম শোনা যাাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি খন্দকার নাসির। তিনি ফরিদপুর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও এলাকার নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির আহ্বায়ক। এ ছাড়া, নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন বোয়ালমারী বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, ফরিদপুর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও মধুখালী বিএনপি’র উপদেষ্টা মনিরুজ্জামান মনির। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফাত হোসাইন ও এনসিপি’র ফরিদপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. বায়োজিদ আহমেদ শাহেদ।

সরজমিন গিয়ে জানা গেছে, আসনটি আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী তিনটি অংশে বিভক্ত। যার একটি অংশ বোয়ালমারী পৌর এলাকা। এখানে এককভাবে সকলের কাছে সমাদৃত বিএনপি নেতা সামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু। আর মধুখালী অংশে খন্দকার নাসির, তার সঙ্গে রয়েছে মনিরুজ্জামান মনিরের অবস্থান। আসনটিতে আলফাডাঙ্গায় যিনি বেশি প্রভাব খাটাতে পারবেন, জয়ের ঝুলি তার দিকেই থাকবে। খন্দকার নাসির বলেন, ১৭ বছর দলের জন্য যুদ্ধ করেছি। মার খেয়েছি, জেল খেটেছি, ফ্যাসিস্টরা আমার বাড়ি-গাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিপদে কর্মীদের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়েছি। এসব বিবেচনা করলে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।

অপর প্রার্থী সামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু বলেন, ১৯৭৯ সালে পিতা মৃত আব্দুস সামাদের হাত ধরে বিএনপিতে আসি। এরপর বোয়ালমারী কলেজের ভিপি ও ছাত্রদলের সভাপতি থানা যুবদলের আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মিথ্যা মামলাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের পরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা সকল কর্মসূচি এলাকায় পালন করেছি। এ সময় তিনিই দলের একমাত্র নিবেদিত বলে দাবি করেন। আর দলীয় মনোনয়নের আশায় তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিতভাবে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন দল তাকে মূল্যায়ন করবে।
এ দলের অপর প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপি’র সঙ্গে আছেন। বহু ঝড় তার ওপর দিয়ে গেছে। দুদকের মামলা পর্যন্ত হয়েছে। কারাবাস করতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ফ্যাসিস্টদের নির্যাতন সইতে না পেরে দলও করতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে আনেকদিন দল থেকে দূরে ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশাবাদী।

এনসিপি নেতা বায়োজিদ আহমেদ শাহেদ বলেন, এখন তারুণ্যের বাংলাদেশ। তরুণরা এখন দেশের হাতিয়ার। আমি তরুণ, তাই মনে করি, আসনটিতে তরুণরা আমাকে বিজয়ী করবে। এ সময় তিনি বলেন, আমি আসনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদকসহ সকল ধরনের অপরাধ নির্মূল করতেই প্রার্থী হয়েছি। খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফাত হোসাইন বলেন, এবার দেশের মানুষ হকের পথে, ইসলামের পথে, সত্যের পথে এবং যোগ্য ব্যক্তিকেই রায় দেবে। তিনি ক্ষমতায় গেলে দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের আলোতে দেশ পরিচালনা করবেন বলে জানান।

জামায়াতে ইসলামী নেতা ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে কাজ করছে। তিনি মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার নাম-ডাক এখন মানুষের মুখে মুখে। তার এলাকার মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে এবং তিনিই বিজয়ী হবেন বলে আশা তার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ