বড় চুরি করে কেউ পার পাবে না: ড. মুশতাক হুসেন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বড় চুরি করে কেউ পার পাবে না: ড. মুশতাক হুসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং দুদক সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মুশতাক হুসেন খান বলেছেন, “বড় বড় অলিগার্ক কোথায় কোথায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে, তা প্রমাণসহ আমাদের দেখানো উচিত ছিল। বড় বড় অলিগার্কদের সম্পদ ক্রোক হয়নি। তাদের টাকা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ খাতের চুরি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি প্রমাণসহ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারব। বড় চুরি করে কেউ পার পাবে না। কোনো অলিগার্ককে ক্ষমা করা যাবে না।”

রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাড. হাসনাত কাইয়ূম।

ড. মুশতাক হুসেন খান বলেন, “আমাদের আস্থা, নৈতিকতা, ক্ষমতা ও নতুন বন্দোবস্ত আছে। অভ্যুত্থানের পর সবাই সমাজের আমূল পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই পরিবর্তন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সমঝোতার মাধ্যমে হবে না। একটা কামরায় বসে সবাই নিয়ে কোনো কিছুতে স্বাক্ষর করে হবে না। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা কী কী, তা বিন্যাস করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আস্থা ও ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আমাদের দেশে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কারও ওপর আস্থা নেই। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সবাইকে খুব তাড়াতাড়ি ক্ষমা করে দিয়েছি। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ— এদের কোনো শাস্তি হয়নি। তাদের শাস্তি হওয়া দরকার ছিল। আজ আমরা কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা চাই— সত্যিকার অর্থে নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে। যারা ভয়ে বিক্রি হবে বা অনাস্থার কারণে বিক্রি হয়ে যায়, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না এবং তাদের ক্ষমা করা যাবে না। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। নির্বাচন হোক বা না হোক, তবে যারা দেশের টাকা পাচার করেছে, সেই সব অলিগার্কদের শাস্তি দিতে হবে।”

“বাংলাদেশে পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে এবং এই পরিবর্তনটি করতে হবে। অলিগার্ক শাসিত সমাজ আমরা চাই না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মুশতাক হুসেন বলেন, “নির্বাচনে দলগুলোকে এমনভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এমন কিছু কথা বলতে হবে, যেগুলো জনগণ শুনতে চায়।”

এ সময় হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “আজ আমরা একটা জটিল সময়ের মধ্যে আছি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আসলে তেমন স্বস্তি পায়নি। এরপর ২৪-এ যে বিজয় এসেছে, এক বছর আলোচনা করার পরও কোনো কিছুই হয়নি। ২৪-এর বিজয় এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যাদের আমরা পরাজিত করেছি, তারা যেকোনো সময় উল্টো কামড় দিতে পারে।”

তিনি আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য প্রসঙ্গে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “কমিশনে কথায় কথায় তিনি সংবিধান, আর্টিকেল ও অনুচ্ছেদ টেনে কথা বলতেন। কিন্তু তাকে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের শিলংয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হলো, সেটা কত নম্বর আর্টিকেলে লেখা ছিল? কোন আর্টিকেল অনুসারে আপনাকে বিনা ভিসায়, বিনা ভাড়ায় পরিভ্রমণ করানো হলো? সেটাও যদি আপনি কখনো বলতেন, তাহলে ভালো হতো।”

তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র ও সংবিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দুমড়ে-মুচড়ে হত্যা করেছেন। রাষ্ট্রকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যার জন্য আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এখন সংকটটা কোথায়? দল যদি সংস্কার না হয়, রাজনীতি কীভাবে সংস্কার হবে?”

মঞ্জু আরও বলেন, “রাষ্ট্র এখন তিনটি সংকটে ঘনিভূত হয়েছে। প্রথমত— গণভোট আগে না পরে বা একসঙ্গে, দ্বিতীয়ত— নোট অব ডিসেন্টের কী হবে, তৃতীয়ত— আগামী দিনের নির্বাচন কিসের নির্বাচন? এই অন্তর্বর্তী সরকার তার কোনো নীতিগত অবস্থান নিতে পারছে না। বিএনপির চাপে তারা কিছুক্ষণ ডানে ছুটে, আবার জামায়াতের চাপে কিছুক্ষণ বামে ছুটে। এনসিপির চাপে তারা মাথার ওপর থেকেও একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করে।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে আমাদের অনুরোধ— আপনারা আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। আপনারাও যদি রাষ্ট্রের মালিক সাজার চেষ্টা করেন, তাহলে হবে না। আপনাদেরকে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও প্রয়োজনের কথাগুলো শুনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারকে বলব— কয়েকটা রাজনৈতিক দলের মন জুগিয়ে চলার রাজনীতি বাদ দিন। না হলে আপনারা যে একটা সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সুযোগ হাতছাড়া করার দায় আপনারাই চিরস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে দায়ী থাকবেন। এই দায় থেকে আমাদের শহীদদের রক্ত, আহতদের রক্ত আপনাদের কখনো মুক্তি দেবে না।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, “দেশে আইনের শাসন না থাকলে, সেখানে আস্থার শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদকে আমরা তাড়ালেও, ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত এখনো রয়ে গেছে।”

ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ক্ষমতার কথা ভেবেছে, জনগণের কথা ভাবেনি। সংস্কারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণ এমন বাংলাদেশ চায়— যেখানে শেখ হাসিনার মতো কেউ আর ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে। গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলছে। জনগণ শান্তির রাষ্ট্র চায়, নিরাপত্তার রাষ্ট্র চায়। আপ বাংলাদেশ এমন রাষ্ট্র চায়— যেখানে জনগণের কাছে দেশের মালিকানা থাকবে।”

এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা রাখতে পারছে না। সেজন্য তাদের ভোট চুরি করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বন্ধু বা মিত্র এখন শত্রুতে পরিণত হচ্ছে।”

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের রাষ্ট্র এই মুহূর্তে খুবই দুর্বল। এ কারণেই দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে দেশে একটা নির্বাচন হওয়া খুব জরুরি।”

আপ বাংলাদেশ-এর সদস্য সচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ বলেন, “কাঠামোগত ফ্যাসিবাদ এখনো বাদ দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো সেটা করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মধ্যে ঐক্যের যে সম্ভাবনা ছিল, সেটা হয়নি। জনগণ এখন হতাশার মধ্যে আছে।”

আপ বাংলাদেশ-এর মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন ভূঁইয়া, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ