বরিশা ল ৩-মাঠে বিএনপি’র দুই প্রভাবশালী গোছালো ইসলামী দলগুলো - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশা ল ৩-মাঠে বিএনপি’র দুই প্রভাবশালী গোছালো ইসলামী দলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ২:১৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জিয়া শাহীন, বরিশাল থেকে

বরিশাল-৩ আসনটি বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপি’র দখলে ছিল। এরপর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের অন্যতম অংশীদার ওয়ার্কার্স পার্টি দখলে নেয়। এবার বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আশায় বুক বেঁধেছেন আসনটি পুনঃদখলের। তবে এ আসনে দুই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মনোনয়নের জন্য প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে। একদিকে আছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিক বেগম সেলিমা রহমান। অন্যদিকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। ওদিকে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে ইসলামী দলগুলো।
এর আগের ১১টি সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি চারবার জয়লাভ করে। চারবারই বিএনপি’র মোশাররফ হোসেন মঙ্গু এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ জিতে সাংগঠনিকভাবে আসনটিতে বিএনপি’র ব্যাপক সমর্থক সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় ২০০৮ সাল থেকে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কাছে। ২০০৮ সালে এ আসনে জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু। ২০১৪ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান। ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে আবার গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি নির্বাচিত হন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের আসনটি পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। তবে, গোল বেঁধেছে দলের দুই প্রভাবশালী নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। দু’জনেরই রয়েছে দলে দীর্ঘদিনের অবদান। স্বীকার করেছেন ত্যাগ-তিতিক্ষা। তাদের ঘিরে বরিশাল-৩ আসনে বিএনপি এখন কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত। বিএনপি’র দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত সেলিমা রহমান আগে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস-চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে বারবার ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়েছেন। গাড়ি পোড়ানো, পুলিশকে মারধরের মতো ‘ভৌতিক’ মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাস করেছেন। বাবুগঞ্জের সন্তান হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গেও রয়েছে তার নাড়ির টান।
মনোনয়ন দৌড়ে থাকা আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান, আইন অঙ্গনের পরিচিত মুখ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামেরও সভাপতি। আইনি লড়াইয়ে বিএনপি’র অন্যতম প্রধান ভরসা জয়নুল আবেদীন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে অসংখ্য নেতাকর্মীর মামলা তিনি লড়েছেন সামনে থেকে। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেও সরকারকে চাপে রাখতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০১৮ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে জয়নুল আবেদীন ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
এই দুই হেভিওয়েট নেতার পক্ষে-বিপক্ষে বাবুগঞ্জ-মুলাদী বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে, একই দিনে একই উপজেলায় পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন এ দুই নেতা। তাদের অনুসারীরা মনে করে নিজেদের নেতাই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে। অপরদিকে, বরিশাল-৩ আসনে জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এ আসনে অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর হলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। এলাকায় তার সমর্থক রয়েছে অনেক। ভোটারদের সঙ্গে চলছে নিয়মিত গণসংযোগ। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম প্রতিদিনই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দু’টি দলই নীরবে তাদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। ইসলামী এ দল দুটো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে বিএনপি’র জন্য এ আসনটি ফিরে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ