বিএনপি রোজার মাসেও নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে থাকার ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ২৭, ২০২৩ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ২৭, ২০২৩ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
সরকার পতনের লক্ষ্যে আন্দোলনরত বিএনপি রোজার মাসেও নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল সমালোচনা করলেও বিএনপি বলছে, দেশের যে অবস্থা, তাতে বাধ্য হয়ে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত একগুচ্ছ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, সরকারের দুর্নীতির প্রচারপত্র বিলি এবং দুস্থ, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।
জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত ও মনোবল চাঙ্গা রাখতেই রোজার মাসেও মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। রোজার পর সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনকে এক দফার আন্দোলনে রূপ দিতে এবার কৌশলী বিএনপির হাইকমান্ড। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কঠোর আন্দোলনের পরামর্শ দিলেও সেই পথে এখনই হাঁটছে না তারা। যে কারণে রমজানে ইফতার মাহফিল, গণঅনশন, অবস্থান ও মানববন্ধন এবং প্রচারপত্র বিলির মতো নরম কর্মসূচি বহাল রাখা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তে এবার তৃণমূলে জেলা, উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে
ইফতার মাহফিল আয়োজনে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন বিভাগ এবং জেলায় ইফতার মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিকে হঠাৎ করেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংলাপের জন্য যে চিঠি দিয়েছে, সে বিষয়ে আজ সোমবার দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।
অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবিতে টানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বিএনপি। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে সমমনা দল ও জোটগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎভাবে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে অব্যাহতভাবে মাঠে রয়েছে দলটি। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ সমাবেশ করে বিএনপি সমমনা দল ও জোটগুলো। আন্দোলন অব্যাহত রাখতে আগামী ১ এপ্রিল ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোজার মধ্যে নতুন কর্মসূচি :
সরকারের পদত্যাগসহ যুগপৎ আন্দোলনে ১০ দফা দাবি এবং রাষ্ট্র মেরামত বা সংস্কারের লক্ষ্যে ২৭ দফা প্রস্তাব করেছে বিএনপি। এই দাবিতে ণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি, ১২ দলীয় জোট, সমমনা গণতান্ত্রিক জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণফোরাম, পিপলস পার্টিসহ ১৫টি সংগঠনও আন্দোলন করছে। সেইসঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১৪ দফা দাবি ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের মতো ১০ দফা দাবি ঘোষণা দিয়ে পৃথকভাবে রাজপথের আন্দোলনে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং পূর্বঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত অবস্থান-গণসংযোগের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচিগুলো হলো—১ এপ্রিল শনিবার সারা দেশের সব মহানগর ও জেলায় দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি। ৮ এপ্রিল শনিবার সব মহানগরের থানা ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দুপুর ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি। ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পর্যায়ে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০ দফার প্রচারপত্র, রাষ্ট্র মেরামতের প্রচারপত্র এবং আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি। ইউনিয়ন পর্যায়ের এই কর্মসূচি বিভাগ অনুযায়ী হবে—৯ এপ্রিল রংপুর বিভাগে, ১০ এপ্রিল রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে, ১১ এপ্রিল খুলনা ও কুমিল্লা বিভাগে, ১২ এপ্রিল ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে এবং ১৩ এপ্রিল ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে হবে। এ ছাড়া আগামীকাল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব মহানগর-জেলা-উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, দুস্থ অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।
রোজার মধ্যে কেন কর্মসূচি—এমন এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু আজ দেশের যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে আমরা বাধ্য হয়েছি এই রমজান মাসেও কর্মসূচি দিতে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সর্বোপরি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন তা চলমান রাখতেই এই কর্মসূচি দিয়েছি। আশা করব, কর্মসূচিতে আপামর জনসাধারণ অংশগ্রহণ করবেন। তাদের ভোটাধিকার, কথা বলার অধিকার বাস্তবায়িত করবার জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার ও পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।
ইসির চিঠি নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ :
এদিকে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের চিঠির বিষয়ে আজ দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। জানা গেছে, আজ রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আবারও ভোট ডাকাতি করতে নতুন নতুন কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। তার মধ্যে লেটেস্ট কৌশল হচ্ছে, আমাদের নির্বাচন কমিশনের একটা চিঠি দেওয়া। সোমবার আমাদের স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ডিও পত্রের মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিবকে আলোচনা ও মতবিনিময়ের আমন্ত্রণ জানান। যদিও গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিল। তখন ৩৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ২৭টি দল সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিল। তবে বিএনপি ও এর মিত্র রাজনৈতিক দলসহ ১২টি রাজনৈতিক দল সেই সংলাপে যায়নি। বিএনপি ছাড়াও মুসলিম লীগ (বিএমএল) বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জেএসডি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি ও বিজেপি ইসির সংলাপ বর্জন করেছিল।
জনতার আওয়াজ/আ আ