বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো : তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে বিচার বিভাগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বিগত স্বৈরাচারের সময়। আমি আমার মা, আমার পরিবার, আমরা এই বিচার বিভাগের নির্যাতনের ভেতর দিয়ে গিয়েছি।
শুক্রবারা (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁয়ে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একজন মানুষ হিসেবে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যে কোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সেটিকে নিশ্চিত করা। কারণ আমি নিজে ভুক্তভোগী। কীভাবে বিচার বিভাগ একজন মানুষের জীবন, একটি সংসার ধ্বংস করে দিতে পারে। সেজন্য আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যে কোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, এরপরে আপনাদে আমি অনুরোধ করব রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের শেষ যেই ঘরটি স্থানীয় সরকার সেখানে যদি আপনারা একটু দৃষ্টি দেন। বিএনপি বিশ্বাস করে স্থানীয় সরকার হল গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের প্রাণ কেন্দ্র। আমাদের এখানে অনেকেরই অভিজ্ঞতা আছে বিভিন্ন দেশ দেখার বিশেষ করে ইউরোপের উন্নত দেশগুলো দেখার। আমি নিজেও অনেকদিন ইউকেতে থাকতে বাধ্য হয়েছি। আমি সেখানে যতটুকু দেখেছি, আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বলতে যেই সরকারটিকে বোঝায় এটিকে যদি আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে সক্ষম হই, এটিকে যদি আমরা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান করা স্থানীয়ভাবে সম্ভব হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি ধীরে ধীরে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে অবশ্যই এমনও পরিস্থিতি দাঁড়াবে যে কোনো একটি মানুষকে তার প্রয়োজনের জন্য, ছোটোখাটো প্রয়োজনের জন্য হয়ত ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে না। সে স্থানীয়ভাবেই তার সমস্যার সমাধান করতে পারবে। শুধু তাই নয় স্থানীয় সরকারকে যদি আমরা শক্তিশালী করতে পারি তাহলে আমরা গণতন্ত্র নিজেই কথা বলছি, গণতন্ত্রের ভিত্তিটাকে শক্তিশালী করার জন্য যে কথাটা বলছি সেটিও করতে আমরা সক্ষম হব। কারণ জবাবদিহিটা স্থানীয় পর্যায় থেকে তৈরি হবে। জবাবদিহিতা যখন স্থানীয় পর্যায় থেকে তৈরি হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হতে তখন বাধ্য। দুর্নীতি কমে আসতে তখন বাধ্য। প্রকৃতি উন্নয়ন বলতে যা বোঝায়, আইন-শৃঙ্খলা বলতে যা বোঝায় সব কিছু তখন ধীরে ধীরে ভালোর দিকে এগোতে থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই স্থানীয় সরকারগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ প্রদান করা এবং সেটির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত করা। আমরা ২০ কোটি মানুষের দেশ ঢাকা থেকে কখনোই সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়ন করতে সক্ষম হব না। আমাদের যে কোনো মূল্যে চেষ্টা করতে হবে যাতে করে আমরা স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে পারি, জবাবদিহিতা তৈরি করতে পারি এবং লোকাল যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো যাতে স্থানীয় পর্যায়ে আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করতে পারি।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে চাই : তারেক রহমান
গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি যে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করতে চাই। যেটির কাজ হবে ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এবং বিগত ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বহু মানুষ যারা খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। এই মানুষগুলোকে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি, কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায় সেই ব্যাপারে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে।
এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পালা : তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পালা। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পালা। বাংলাদেশকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিএনপি কতগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনগণের সুদৃশ্য রিকল্পনাকেই আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি, সেই পরিকল্পনায় দেশের চার কোটিরও বেশি তরুণ, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা যারা নারী, কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিকের জন্য দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানসহ একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করার জন্য প্রতিটি সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ