বিলুপ্ত সংগঠনের অপতৎপরতায় আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ণ

আরব আমিরাত (ইউএই) প্রতিনিধি,
ছবিঃ প্রতিনিধি
দূতাবাস-কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপ চান কমিউনিটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেওয়া বিলুপ্ত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগের কিছু নেতা-কর্মীর সাম্প্রতিক অপতৎপরতায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা।
প্রবাসীদের অভিযোগ, ওই নেতা-কর্মীরা দুবাই, শারজাহ ও আজমান সহ বিভিন্ন প্রদেশে ঘরোয়া পরিসরে এবং কখনও রেস্টুরেন্টে সভা-সমাবেশ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবাসী জানান, এসব বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা মূলক বক্তব্য প্রচার করা হয়।
তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রবাসী কমিউনিটিতে বিভক্তি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি আমিরাতের কঠোর আইনের মধ্যে এ ধরনের তৎপরতা চলতে থাকলে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রবাসীদের একটি বড় অংশের দাবি, বিলুপ্ত সংগঠন আওয়ামী সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক এবং সাবেক পদধারীদের পরিবারের সদস্যরা সামাজিক অনুষ্ঠানের আড়ালে আমিরাতে অবস্থানরত কর্মী-সমর্থক ও দেশত্যাগী ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কথিত ওই সাংবাদিকদের অনেকে অতীতে বিলুপ্ত সংগঠন ও এর সহযোগী বিভিন্ন ফ্রন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তাদের স্ত্রীদের অনেকে সাবেক মহিলা শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রবাসীদের জোর দাবি, কমিউনিটি বা ‘সুশীল’ পরিচয়ে এসব ব্যক্তি বা তাদের পরিবার যেন বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে কোনোভাবে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়।
এ পরিস্থিতিতে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনে অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে জেল, জরিমানা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর আছে। পাশাপাশি ইন্টারপোলের মাধ্যমেও দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করে থাকে।
প্রবাসীরা বলছেন, তারা চান আমিরাতের আইন মেনে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে গোটা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই তাদের মূল প্রত্যাশা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ