শি জিনপিং-প্রধানমন্ত্রী বৈঠকবাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোরের প্রস্তাব - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:২০, শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শি জিনপিং-প্রধানমন্ত্রী বৈঠকবাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোরের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬ ৫:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬ ৫:০১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে চীন।

শুক্রবার (২৫ জুন) সকালে গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আজ কানেক্টিভিটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত কথা হয়েছে। সেখানে প্রস্তাবনা এসেছে যে, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি ইকোনমিক করিডর তৈরি করা যায়। যে ইকোনমিক করিডরের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ইকোনমিক ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনটাকে আরও এনহ্যান্স করা।


চট্টগ্রাম বন্দর আরও আধুনিকায়নে চীন কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, এই বন্দরকে আধুনিকায়ন করে কীভাবে এটাকে আমরা রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি এবং যেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য দেশের জন্য সার্ভ করবে— সেটা নিয়ে যেমন আমরা কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে মোংলা পোর্টকে আপগ্রেড করার জন্য এবং মোংলা পোর্টকে আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ করার জন্য, সার্ভিস অরিয়েন্টেড করার জন্য চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।

এর আগে শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের মাঝে বহুপাক্ষিক যে সম্পর্ক তার অংশ হিসেবে আমরা পিপল টু পিপল সম্পর্ক গড়তে চাই। সংস্কৃতি, মিডিয়া, টেকনোলজি, সামগ্রিকভাবে নলেজ ট্রান্সফার এবং এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন নিয়ে আমরা পিপল টু পিপল অর্থাৎ দুই দেশের ভিতরে সম্পর্ক আরো বাড়াতে চাই। সেখানে ঐতিহ্যের বিষয় রয়েছে, তথ্যের বিষয় রয়েছে, প্রযুক্তির বিষয় রয়েছে-প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা চাই দুই দেশের জনগণের ভেতর আরো সম্পর্ক বৃদ্ধি হোক এবং এগুলো নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিংকে প্রায়োরিটাইজ করা হচ্ছে, টেকনিক্যাল এবং ভকেশনাল এডুকেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দুই ক্ষেত্রেই চীন তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে করতে চায়। চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদেরকে শিক্ষক এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল সাপোর্ট উনারা প্রোভাইড করবেন।

মাহাদী আমিন বলেন, হেলথকেয়ারের ক্ষেত্রে কিভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বাংলাদেশে আমরা প্রয়োগ করতে পারি। বিভিন্ন ধরনের রোবটিক সার্জারি এবং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা থেকে অন্যান্য বিষয়ে চীন তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে যান চীন সেখানে ভিসা প্রসেসিং ইজি করবার মাধ্যমে এবং অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশী যারা বিদেশে চিকিৎসা করতে চান তাদের জন্য দ্বার উন্মোচন করতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, সংস্কৃতি, মিডিয়া, টেকনোলজি, সামগ্রিকভাবে নলেজ ট্রান্সফার এবং এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন নিয়ে আমরা পিপল টুপিপল অর্থাৎ দুই দেশের ভিতরে সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাই। সেখানে ঐতিহ্যের বিষয় রয়েছে, তথ্যের বিষয় রয়েছে, প্রযুক্তির বিষয় রয়েছে— প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা চাই দুই দেশের জনগণের ভেতর আরও সম্পর্ক বৃদ্ধি হোক এবং এগুলো নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বে আলোচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা চাই সেফ ভলেন্টারি এবং ডিগনিফাইড মাধ্যমে যারা আমাদের দেশে রোহিঙ্গা রয়েছেন উনারা নিজ দেশে ফেরত যাক। এ বিষয়ে চীন আমাদেরকে কথা দিয়েছে যে, আমরা যখন চাই ওনারা (চীন) মায়ানমারের সাথে আমাদেরকে কোন ডায়লগ প্রয়োজনহলে সেখানে ফ্যাসিলিটেট করবে এবং আমরা সেই ভলেন্টারি এবং ডিগনিফাইড ওয়েতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেটা ইতিপূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে শুধু সম্ভব হয়েছিল। আমরা এ বিষয়ে সামনে আলোচনা শুরু করব।

মাহদী আমিন বলেন, ফরেন এবং ডিফেন্স এই দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফর দা ফার্স্ট টাইম বাংলাদেশের সাথে চায়নার টু প্লাস টু একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। যেখানে দুই দেশের ফরেন মিনিস্ট্রি এবং ডিফেন্স মিনিস্ট্রি থেকে রেপ্রেজেন্টেটিভ যারা রয়েছেন ওনাদের নিয়মিত ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে ডায়লগ শুরু হবে। এই ইন্স্ট্রুমেন্টের ডিটেলসটা ওয়ার্ক আউট করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সোভারেন্টি বা সার্বভৌমত্ব, ইন্ডিপেন্ডেন্স বা স্বাধীনতা এবং টেরিটোরিয়াল ইন্টিগ্রিটিকে সম্মান জানিয়ে চীন বলেছে, গণতন্ত্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশে যেভাবে গণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে-একটি সরকার। যার পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বহিঃপ্রকাশ, সেটি নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেকটা দেশকে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশও চায় যেমন স্বাধীন সার্বভৌমত্ব চীনও চায় তার মত করে স্বাধীন সার্বভৌমভাবে দেশ পরিচালনা করতে— এটা একটা গ্লোবাল ভ্যালু যেটা আমরা হোল্ড করতে চাচ্ছি।

মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের বাইল্যাটারাল টাইস এর পাশাপাশি মাল্টিটারাল টাইস অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউএন বিভিন্ন বডি বাংলাদেশে এসপারেশনস রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন আমরা ইউএনজিতে কিছু দিন আগে অনুষ্ঠিত ইলেকশনে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে, সেখানেও চীন সহযোগিতা করেছে। চীন বাংলাদেশকে কংগ্র্যাচুলেট করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে উনাদের সহযোগিতার জন্য। ব্রিক্সস মেম্বারশিপের জন্য বাংলাদেশ যখন অপ্লিকেশন করবে চীন সেটাকে স্বাগত জানিয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ