ভয়ঙ্কর সময় নিয়ে যা বললেন সামিরাহারিছ চৌধুরীর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০৩, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভয়ঙ্কর সময় নিয়ে যা বললেন সামিরাহারিছ চৌধুরীর সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
জীবদ্দশায় তো অবিচার হয়েছে। মৃত্যুর পর আমার পিতা হারিছ চৌধুরীর লাশের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। মৃত্যুর পর আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার লাশ সিলেটের কানাইঘাটে দাফন করতে। এজন্য কতোই না চেষ্টা করেছি। কিন্তু সিআইডি’র তরফ থেকে নিষেধ করা হয়। এমনকি লন্ডনে আমার ভাই নাইম শফি চৌধুরীকে ফোন করে বলা হয়; তোমরা সবাইকে জানাও হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন। গতকাল মানবজমিনকে এ কথা বলছিলেন হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী। সিলেটের মানুষের প্রিয়জন আবুল হারিছ চৌধুরী বিগত বিএনপি’র জমানায় নীরবে সিলেটের উন্নয়ন করে গেছেন। কানাইঘাটের মানুষকে তিনি মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন। এ কারণে দু’হাতে করে গেছেন এলাকার উন্নয়ন। এ কারণে হারিছ চৌধুরী মৃত্যুর আগেই পরিবারের কাছে জানিয়ে গিয়েছিলেন মৃত্যুর পর যেন তার লাশ দাফন করা হয় নিজ এলাকায়। কানাইঘাটের নিজ এলাকায় পিতা শফিকুল হক চৌধুরীর নামে শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা ও মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন হারিছ চৌধুরী। এ এতিমখানা চলতো তার করা ট্রাস্টের টাকায়। এই জায়গাটি ছিল তার প্রিয়। কিন্তু মৃত্যুর পর হারিছ চৌধুরীর লাশ মেয়ে সামিরা সিলেটে নিয়ে আসতে পারেননি। সেটি ছিল সামিরার সবচেয়ে বেশি কষ্টের। তিনি পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেননি। ২০২১ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান আবুল হারিছ চৌধুরী। তখন তিনি সরকারের খাতায় ছিলেন পলাতক। সময় ছিল খুব কঠিন। সামিরা তানজিন চৌধুরী মানবজমিনকে শুক্রবার জানিয়েছেন পিতার মৃত্যুকালীন সময়ের কথা। এই দুঃখ তাকে এখন কুরে কুরে খাচ্ছে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। শেষে পিতার ইচ্ছা পূরণে তিনি সফল হতে যাচ্ছেন।

সামিরা জানান- পিতা হারিছ চৌধুরী গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহে তিনি ঢাকায় আসেন। এসে দেখেন তার পিতা হাসপাতালে ভর্তি। তিনি ৬ দিন পিতার পাশে ছিলেন। শেষ দিন তার কোলেই মারা যান হারিছ চৌধুরী। এরপর পিতার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি কানাইঘাটে লাশ নিয়ে আসতে চান। তখন দেশের কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না সামিরার। লন্ডনে থাকা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। আর লন্ডন থেকে তার স্বামীই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর শুনলেও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কেউ লাশ দেখতে যাননি। লাশ সিলেটে নিয়ে আসতে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কেউই সাড়া দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তরফ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় লাশ যেন সিলেটে না যায়। তবুও পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণে সামিরা চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক স্বজনের মোবাইল ফোনে প্রবাসে থাকা হারিছ চৌধুরীর ছেলেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্দেশ দেন; হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন- সে বিষয়টি প্রচার করতে। দেশে মারা গেছেন সেটি প্রকাশ না করতে হুঁশিয়ার করেন। একই সঙ্গে লাশ সিলেটে না এনে অন্য কোথাও দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। সামিরা জানান- পিতার মৃত্যুর খবর শুনে প্রবাসে থাকা তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওই সময় ওখানে তাকেও চাপ প্রয়োগ করা হয়। এই অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছিলেন সামিরা। শেষ মুহূর্তে তার বড় মামা মাসুম আহমদের সহায়তায় সাভারের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয় হারিছ চৌধুরীর মরদেহ। সবই হয়েছিল গোপনে। কেউ জানতো না সে খবর। মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সাড়া জাগানো অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানাজানি হয় হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন।

এ রিপোর্ট দেশ জুড়ে আলোচিত হয়। সামিরা জানিয়েছেন- তার বড় মামা লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে সাভারের পথ ধরেন। পথিমধ্যে মিরপুরে এসে যোগ দেন বড় মামা, খালু, খালা এবং আরও কয়েকজন স্বজন। এভাবেই হারিছ চৌধুরীর লাশ দাফন করা হয়। এরপর তিনি লন্ডনে চলে যান। সামিরার আফসোস হচ্ছে; স্বজনরা তখন চেষ্টা করলে অনেক কিছুই করতে পারতেন। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। ভয়ে ছিলেন সবাই। এখন তার পিতার কবর সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। রোববার সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দানে জানাজাও হবে। ওইদিন বাদ আসর হারিছ চৌধুরীর শেষ ইচ্ছামতো লাশ এতিমখানার প্রাঙ্গনে সমাহিত করা হবে। তিনি জানান- পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারছি এতে কিছুটা তৃপ্তি রয়েছে। তবে কাজ অনেক বাকি। পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। সামনে অনেক কাজ। তবুও তিনি করবেন। কানাইঘাটকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন হারিছ চৌধুরী। এজন্য কানাইঘাটে উন্নয়ন করে গেছেন। একটি ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে এতিমখানা চলতো। বিগত ১৫ বছর অনেক কিছুরই হিসাব ছিল না। ট্রাস্টের মাধ্যমে এতিমখানা কীভাবে চলতো সেটি কেউ জানতেন না। সামিরা জানান- হারিছ চৌধুরী বনেদি পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক। তার সবকিছুই ট্রাস্টে দিয়ে গেছেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে কানাইঘাটের মানুষের জন্য কিছু করতে চান তিনি। এজন্য প্রথমেই এতিমখানার দিকে নজর দেবেন। হারিছ চৌধুরী যেভাবে মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন, তার সেই স্বপ্ন পূরণকে এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে কাজ করবেন বলে জানান সামিরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ