ভারতে লোকসভার ভোট উৎসবে তারকার মেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুন ১, ২০২৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১, ২০২৪ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

বিনোদন ডেস্ক
ভারতে দেড় মাসব্যাপী লোকসভা নির্বাচন একেবারে শেষ পর্যায়ে। আজ (১ জুন) সপ্তম অর্থাৎ শেষ দফার ভোটগ্রহণ দেশজুড়ে। এদিন বাংলার মোট ৫৭ আসনে নির্বাচন। আর অন্তিমদফার ভোটেই গণতন্ত্রের উৎসবে মেতে উঠলেন বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রির তারকারা। শনিবার সকাল থেকেই সেলেবরা বুথমুখী। দেব, কোয়েল মল্লিক, রাজ-শুভশ্রী, নুসরত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, ঋতাভরী চক্রবর্তী, অপর্ণা সেন থেকে শুরু করে সস্ত্রীক অরিন্দম শীল-সহ সৌরভ-দর্শনারাও।
টলিতারকাদের ভোটফ্যাশনে সাদা পোশাকের ধারাই বজায় রইল। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার এক বুথে দেখা গেল রাজ-শুভশ্রীকে। বার্ধক্যের জেরে নুইয়ে পড়লেও হুইলচেয়ারে বসেই ভোটকেন্দ্রে গেলেন রাজ চক্রবর্তী মা।
দুপুরে সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বুথে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন অভিনেতা তথা তৃণমূলের তারকা প্রার্থী দীপক অধিকারী তথা দেব। বেলা-দুপুরে মহিলা দ্বারা পরিচালিত বুথে ভোট দিলেন দু বারের ঘাটালের সাংসদ। বুথ থেকে বেরিয়েই আত্মবিশ্বাসী সুর ঘাটালের তারকা প্রার্থীর কণ্ঠে। সদর্পেই বললেন, ‘২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের থেকে থেকে চব্বিশে তৃণমূলের ভালো রেজাল্ট হবে বাংলায়।’ শুধু তাই নয়! সেইসঙ্গে হাসিমুখে ভোট-আবহাওয়ার খবরও দিলেন তিনি নায়কোচিত সংলাপে। দেবের মন্তব্য, “৪ তারিখ গরমের দাপট কমবে। মানুষ কোথাও গিয়ে শান্তি পাবে।” গরমকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে আমজনতা থেকে সেলেবরা যেভাবে ভোটকেন্দ্রে নিজেদেক ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য লম্বা লাইনে অপেক্ষা করেছেন। সেপ্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই রসিকতা দেবের। তাঁর কথায়, “গরম বেড়েছে, বৃষ্টির অপেক্ষা।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভোটের দিনে উত্তর কলকাতায় অশান্তি নিয়েও মুখ খুললেন দেব। টলিউড সুপারস্টারের কথায়, “নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেবে।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদও জানালেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশের এত কোটি কোটি মানুষকে নিয়ে ভোটের আয়োজন। দেড় মাসব্যাপী এতবড় ইলেকশন করানোটা চারটিখানি কথা নয়। ভারতবর্ষে এত সুন্দরভাবে সাতটা দফার নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হল যে এরজন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ভোট দিয়ে সেই কেন্দ্রের প্রার্থী মালা রায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দেব। বললেন, মালাদির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। প্রচুর কাজ করেন উনি। রাত ১২টার সময়ে সমস্যায় পরে ফোন করলেও পাওয়া যায় ওঁকে। আমি আশাবাদী ২০১৯-এর লোকসভার থেকে ভালো রেজাল্ট করবে এবার তৃণমূল। ২২টা সিটের থেকে মার্জিন বাড়বে।”
সপ্তম দফা ভোটের দিনই সকালে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারে আছড়ে পড়েছে দুঃসংবাদ। প্রয়াত শাশুড়ি। আর সেই শোক বুকে আগলেই শনিবার দুপুরে বুথে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে হাজির রচনা। সেখানেই বাংলা টেলিদর্শকদের প্রিয় ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর কথায় আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ল।
ভোটকেন্দ্রে প্রিয় ‘দিদি’ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে ভোটাররাও উচ্ছ্বসিত। কুশল-মঙ্গল বিনিময়ের মাঝেই এক মহিলা অনুরাগীর মন্তব্য, “দিদি নম্বর ওয়ান যেন দুই না হয় দিদি…।” একথা শুনেই হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে রচনা বললেন, “‘দিদি নম্বর ওয়ান’ দুই কখনও হবে না এক নম্বরেই থাকবে। এটাই তো মানুষের ভালোবাসা। প্রাধান্যটা যেন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’কে দেওয়া হয়। ওটাই বলতে চাইলেন উনি।” চব্বিশের লোকসভা ভোটে হুগলি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমবার ভোটের ময়দানে নামলেও তারকাপ্রার্থীর মন্তব্যের জেরে সোশাল মিডিয়া বারবার সরগরম হয়েছে। এদিন তাঁর আবাসন আরবানার কাছেই একটি স্কুলে দুপুর নাগাদ ভোটদান করলেন তিনি। তার আগেই শাশুড়ির মৃত্যুর খবর। রচনার আক্ষেপ, নির্বাচনের ফলাফল দেখে যেতে পারলেন না তাঁর শাশুড়ি মা।
বাবাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেন নুসরাত জাহান। রাজনীতি থেকে বর্তমানে শতহস্ত দূরে থাকলেও অভিনেত্রীর বার্তা, “দয়া করে সকলে ভোট দিন। এটা আমাদের অধিকার। সকলের ভোট গুরুত্বপূর্ণ।” বাবা রঞ্জিত মল্লিককে নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক কেন্দ্রে ভোট দিলেন কোয়েল মল্লিক। তবে সাদা নয়, ভোটফ্যাশনে তাঁর কাছে বরং প্রাধান্য পেল সবুজ রং। এদিন সকালবেলা থেকেই গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে দেখা যাচ্ছে তারকাদের।
ভোট দিতে গিয়েও তৎপর মিমি চক্রবর্তী। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে যে রাজনীতির রং বা কোনও দলের সান্নিধ্যের প্রয়োজন হয় না, সেই প্রমাণ বরাবরই রেখেছেন অভিনেত্রী। লোকসভা ভোটের আগেই তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি বৈরাগ্য ঘোষণা করেছেন মিমি। তবে বাণপ্রস্থ পর্বেও তৃণমূলের একদা সাংসদকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই! এবার ভোটকেন্দ্রেও ‘দায়িত্ববাণ’ মিমি চক্রবর্তীকে দেখা গেল।
কসবা সারদা একাডেমির বুথে মায়ের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানেই বুথের প্রবেশ পথে দেখতে পান এক বৃদ্ধকে। বার্ধক্যের ভারে নুইয়ে পড়া সেই ব্যক্তি ঠিক করে হাঁটতেও পারছিলেন না। সেটা দেখেই এগিয়ে যান মিমি চক্রবর্তী। তৎক্ষণাৎ ওই বুথে কর্মরত এক পুলিশকে ‘স্যর’ সম্বোধন করে ডাকেন তিনি। বলেন, ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে যেন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা না করতে হয়। একপ্রকার মিমির উদ্যোগেই ওই ব্যক্তি আগেভাগে ভোট দিতে পারলেন। শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধকে আগলে রেখে ধরে ধরে পোলিং বুথের ভিতর নিয়ে যেতেও দেখা গেল মিমি চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর এ হেন মানবিক উদ্যেগ ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ ছাড়েননি ফটোশিকারিরা। আর সেই ভিডিওই বর্তমানে ভাইরাল নেটপাড়ায়।’
শনিবার সকাল সকালই ভোট দিলেন অপর্ণা সেন। পরিবর্তনের প্রতিবাদী ‘পোস্টার গার্ল’ বহুদিনই রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক থেকে দূরে, তবে এদিন গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করে এলেন। সস্ত্রীক গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল পরিচালক অরিন্দম শীলও। তনুশ্রী চক্রবর্তী, ঋতাভরী চক্রবর্তীরাও সোশাল মিডিয়ায় ভোটচিহ্ন দেখিয়ে ছবি পোস্ট করলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ