ভোটের মিছিলে জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভোটের মিছিলে জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলের ২২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তারা ভোটের মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে লাঙ্গল প্রতীককে সম্বল করে নির্বাচনে আগ্রহী জাপার দলছুট অন্য নেতাদের নির্বাচনের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আইনি জটিলতায়।

জাপার দলছুটদের জোট এনডিএফ আইনি জটিলতায় পড়েছে। লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা এখনো জি এম কাদেরের জাপার হাতে। এদিকে জাপার দলছুট নেতারা দাবি করেছেন, তারাই আসল জাতীয় পার্টি, তাই লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা তাদের হাতে থাকা উচিত। সেই প্রতীকেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জাপার দলছুটরা। শুধু তাই নয়, দলছুটদের মনোনয়নপত্রে বৈধ নেতার স্বাক্ষর না থাকায় তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বৈধতাও আর থাকছে না।

ইতিবাচক ফলের আশায় জাপা
বিগত তিনটি জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি কখনো সরকারের অংশীদার, আবার কখনো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও সংসদে ভূমিকার কারণে দলটিকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণ-আন্দোলনে জাপার ভূমিকা ছিল আওয়ামী সরকারবিরোধী। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ঐকমত্য কমিশন বা নির্বাচন কমিশনের কোনো সংলাপেও ডাক পায়নি দলটি। এমনকি জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিও তুলেছে। নির্বাচনি কর্মসূচি চালাতে গিয়ে এখন নানা বাধার মুখে পড়ছে জাতীয় পার্টি। গত কয়েক মাসে একাধিকবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে নির্বাচনে ইতিবাচক ফল আসবে।’ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টি মানুষের সমর্থন পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবার জাপা থেকে ২৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন। সেখান থেকে প্রায় ২২০ জন সারা দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী স্বীকার করেন, বিগত তিন সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকায় সাংগঠনিকভাবে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এবার দল ভাঙলেও ভোটের মাঠে এর বড় প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে জাতীয় পার্টিকে আদৌ ভোট করতে দেওয়া হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় ছিল। আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সেই অধিকার আদায় করতে হয়েছে।’

দলীয় ঐক্য থাকলে আরও বড় মোমেন্টাম তৈরি হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে দিন দিন জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হচ্ছে, অনেক নেতা-কর্মী আবার দলে ফিরছেন।

ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি জানান, এখনো কোনো চূড়ান্ত জোট হয়নি, তবে সম্ভাবনা শেষ হয়নি। স্থানভেদে সমঝোতা হতে পারে। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

তবে বিএনপির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী জাতীয় পার্টি। তার দাবি, জাতীয় পার্টি ভোটে না থাকলে ভোটের নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে জামায়াত বা অন্য ইসলামী দলের হাতে চলে যেতে পারে, যা বিএনপিকেও চাপে ফেলতে পারে।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।’

লাঙ্গল প্রতীক না পেলে সরে যাবেন জাপার দলছুটরা
জাপার দলছুট নেতা-কর্মীদের গঠিত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট-এনডিএফের অবস্থা এখন সঙ্গিন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন অনুযায়ী, লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা এখনো জি এম কাদেরের। এমনটি জানার পরও এনডিএফ জাপার দলছুটদের লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন। জাপার দলছুট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ইসির আইন অনুযায়ী তার সেই এখতিয়ার নেই। তাই দলছুটদের নির্বাচন করার এখতিয়ার আর থাকছে না।

এনডিএফ জোটে ১৮টি দল রয়েছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি) ছাড়াও নিবন্ধিত দলগুলো হলো– তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। এই দলগুলো নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।

এনডিএফে থাকা অনিবন্ধিত দলের কয়েকজন নেতা নিবন্ধিত দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা ভোটের মাঠে থাকবেন কি-না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ