মিথ্যাচারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের অবদান মুছে ফেলা যাবে না : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ১৮, ২০২৩ ১:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, আগস্ট ১৮, ২০২৩ ৩:৪০ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
মিথ্যাচার করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই কথাও ভুলতে পারি না যে শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ তার বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে ছিল, তারপরও আওয়ামী লীগের নেতারা সরকার গঠন করেছিলেন। যারা আজকে মিথ্যা প্রচারণা চালায় যে এখানে জিয়াউর রহমান সাহেব জড়িত ছিলেন তাদের একটাই উদ্দেশ্য- জিয়াউর রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং তাকে একেবারে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা।’
‘তবে সেটা সম্ভব নয়। আজকে কত বছর হয়ে গেল জিয়াউর রহমানের নাম কি মুছে ফেলতে পেরেছে? পারে নাই, পারবেও না। যে সমস্ত মানুষ ক্ষণজন্মা, যারা ইতিহাস তৈরি করে, যারা একটা রাষ্ট্রের জন্মের জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করে, যারা জনগণের কল্যাণের জন্য একটা রাষ্ট্র নির্মাণের সমস্ত ভিত্তি তৈরি করে তাদের এভাবে মুছে ফেলা যায় না, ভুলিয়ে দেয়া যায় না,’ বলেন তিনি।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এখন ওরা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে শহীদ জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে অলিক গল্প ফাঁদছে। এটা হচ্ছে শুধুমাত্র ইতিহাসকে বিকৃত করা, যে আন্দোলন শুরু হয়েছে জনগণের গণতন্ত্র ফেরাতে সেই আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করা।’
‘তখন তো বিএনপির জন্মই হয়নি। শহীদ জিয়াউর রহমান তখন সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন না। তিনি ছিলেন ডেপুটি প্রধান। যে সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন অর্থাৎ সেনা বাহিনীর প্রধান, নৌ বাহিনীর প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান- তারা ওই দুর্ঘটনার পরে যখন খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছিল, তখন তারা সবাই স্যুালুট করে খন্দকার মোশতাকের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেছিল।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এদেশটাকে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পরে বলা যেতে পারে এককথায় দুঃশাসনের রাজ্য তৈরি করেছিল। তারা তাদের মতো করে এদেশকে একটা লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করেছিল।’
‘একের পর এক তাদের নিজেদের তৈরি সংবিধান ভেঙে-চুরে জরুররি অবস্থা জারি, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সবশেষে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লবে যখন জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হলো তখন তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে আওয়ামী লীগ করেছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, সমস্ত পত্রিকার বন্ধ, মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল।’
‘আর জিয়াউর রহমান করলেন বহুদলীয় গণতন্ত্র… সবাই রাজনীতি করবে, সংবাদপত্রের ওপর বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হবে, মানুষ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের কথাগুলো বলতে পারবে, মুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।’
এ সময় বিএনপি মহাসচিব সাড়ে তিন বছরে জিয়াউর রহমানের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে নেয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘দেশ গভীর সংকটে আছে। এই সংকট থেকে মুক্তির পথ আমাদেরকে দেখান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। কারণ ১৯৭১ সালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি যারা তখন পাকিস্তান সরকার ইয়াহিয়া খানের সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করছিলেন… কিভাবে একটা আপসরফা করা যায়, ফেডারেশন করা যায় কিনা সেই কথাগুলো বলছিল, সেই সময়ে জিয়াউর রহমান বুকে সাহস নিয়ে, বল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন- এটা একটা বিরল ব্যাপারে, কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।’
‘অন্যদিকে তিনি (জিয়াউর রহমান) তার মেধা, দক্ষতা, সততা দিয়ে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে, বাংলাদেশেকে হেনরি কিসিঞ্জার যে বলছিলেন বটমলেস বাসকেট…, সেটাকে তিনি তুলে দিয়ে এসে সেটাকে একটা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ তৈরি করেছিলেন। তার এই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সেটাকে বলা হয়েছে ইমার্জিং টাইগার…। আর এখনকার সরকারকে বলা হচ্ছে ফ্যাসিবাদী, লুটেরা ও জনগণের সম্পদহরণকারী।’
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীর এই অনুষ্ঠান হয়। এতে তিন পর্বে মোট ৬৯ জনকে পুরস্কার দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে জিহাদ ইবনে ইমরান, মোস্তাকিম হাসান, হুমায়রা জান্নাত প্রার্থনা, মাধ্যমিক স্তরে এফতেখার এনাম নাহিদ, তালাম মাহমুদ নিবাস, আবু হাসান নাহিয়ান এবং উচ্চতর ও উন্মুক্ত স্তরে কানিজ ফাতেমা কনিক, আজম ইকবাল শিপন ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল নোমান নিজ নিজ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন।
রচনা প্রতিযোগিতা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দারের সভাপতিত্বে ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক লুতফুর রহমান, অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ইসরাফিল প্রামাণিক, শামসুজ্জামান মেহেদী প্রমুখ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ