যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন শাবানা মাহমুদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন শাবানা মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন একজন মুসলিম নারী—পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শাবানা মাহমুদ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, উপপ্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর লেবার পার্টির এই সংসদ সদস্যকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পাওয়ার পর শাবানা বলেন, “জীবনে সবচেয়ে বড় সম্মান আমার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া। সরকারের প্রথম দায়িত্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতিদিন আমি এ লক্ষ্যেই কাজ করব।”

১৯৮০ সালে বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করা শাবানা মাহমুদের বাবা-মা পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরের মিরপুর থেকে বহু বছর আগে ঝেলামের কাছে লুধারের ভোহরিয়ান গ্রামে চলে আসেন। পরবর্তীতে পরিবার নিয়ে তিনি সৌদি আরবে কিছু সময় কাটান, পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। পরে অক্সফোর্ডের লিংকন কলেজ থেকে আইন পড়েন এবং ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

২০১০ সালে তিনি বার্মিংহাম লেডিওয়ুড আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার মুসলিম নারী এমপিদের একজন। এরপর তিনি ছায়া অর্থমন্ত্রী, ছায়া কারাগার বিষয়ক মন্ত্রীসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর শাবানা বিচারমন্ত্রী ও লর্ড চ্যান্সেলর হন। তিনি অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাসা কারাগার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেন এবং বিচারব্যবস্থার জট কমাতে আইন প্রণয়ন করেন। গত সপ্তাহেই কারাগার সংস্কার নিয়ে বড় একটি বিল পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।

অবশ্য এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে আরও কঠিন দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অভিবাসন সংকট, আশ্রয়প্রার্থী হোটেল, রেকর্ড সংখ্যক চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসী এবং সীমান্ত নিরাপত্তা এর মধ্যে রয়েছে। তবে তার নতুন দায়িত্বের বড় অংশ জুড়ে থাকবে অভিবাসন ইস্যুই।

রাজনীতির মঞ্চে তাকে নানা বিদ্বেষ, ভুয়া প্রচারণা ও ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় পাকিস্তানি কমিউনিটির বিরূপ আচরণও সহ্য করেছেন তিনি। তবে নিজের নির্বাচনী এলাকা ও সংসদে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আজ পৌঁছে গেছেন যুক্তরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ ঘোষণার পর লর্ড গ্লাসম্যান তাকে লেবার পার্টির গুরুত্বপূর্ণ অংশের নেতা হিসেবে আখ্যা দেন।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে তিনি বলেন, গাজার যুদ্ধ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, নিরীহ শিশুদের হত্যাকাণ্ড চলছে, যা অমানবিক। তিনি স্পষ্ট করেন, লেবার পার্টি দুই রাষ্ট্র সমাধানে বিশ্বাসী, এটিই একমাত্র শান্তির পথ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ