রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৮, ২০২২ ১:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৮, ২০২২ ১:৩৫ অপরাহ্ণ

 

রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ আগামীকাল শনিবার। আজ শুক্রবার সকাল থে‌কেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। দুই দিনের বাস ধর্মঘটের কারণে নেতাকর্মীরা যে যেভাবে পারছেন আগেভাগেই রওনা দিয়েছেন। এরই মধ্যে অনেকে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছে গেছেন। আগত‌দের মু‌খে ‘চলো চলো, রংপুর চলো’, ‘কে ব‌লে রে জিয়া নাই, জিয়া আ‌ছে বাংলায়’ ইত্যাদি স্লোগান।

এ ছাড়াও অনেকে আবাসিক হোটেল, ছাত্রবাস, স্বজন, পরিজন ছাড়াও রংপুর নগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলার আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন।

শুক্রবারও কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চল‌ছি‌ল। রংপুর নগরীসহ বিভাগের সব জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড-গ্রাম পর্যন্ত বিএনপির পোস্টার- ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। এরই মধ্যে পায়ে হেঁটে রংপুরের গণসমাবেশে অংশ নি‌তে হাজির হচ্ছেন নেতাকর্মীদের অনেকে।

বিএনপির গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতা‌রা বলছেন, রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে একটি পরিচ্ছন্ন সমাবেশ। স্বরণকালের সর্ববৃহৎ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু বিএনপি নেতাকর্মী নয়, তৃণমূল, নগর, শহর এবং বন্দরের সাধারণ মানুষও এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে। ছবি: সমকাল
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘পুলিশ চেষ্টা কর‌লেও মানুষের স্রোত আটকাতে পারবে না। সমাবেশস্থলে লোকজন বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসতে শুরু করেছেন। ত‌বে আমা‌দের কা‌ছে অ‌ভি‌যোগ আ‌ছে, নেতাকর্মীদের আটক বা গ্রেপ্তার করা না হলেও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে পুলিশের বিশেষ-বিশেষ দল জেলাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ক্রাইম) আবু মারুফ হেসেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার নুরে আলম মিনা সাংবাদিকদের জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা যেকোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ‘উসকানি বা কোনো ধরনের উত্তেজনা যেন সংঘাতে রূপ না নেয় সেজন্য সাদা পোষাকে নগরীতে ও সমাবেশস্থলের চারপাশে গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ সদস্যেরা যেন ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং কোনো উসকানিতে যাতে পা না দেন। দেড় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে কী করতে হবে সে সম্পর্কে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে সমাবেশের দুদিন আগেই পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেছে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতি। অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এ ধর্মঘট। শুক্রবার ধর্মঘট ডাকা হলেও বৃহস্পতিবার থেকে সড়ক পথে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি একে এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আইন করেছে। কিন্তু রংপুরের মহাসড়কগুলোতে এখনো নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। এ জন্য প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন অবস্থায় মহাসড়কে এসব যান চলাচল বন্ধের জন্য আমরা কয়েকটি সংগঠন মিলে সভা করে রংপুরের সকল সড়কে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ