রমজান মাসের আগেই সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

চলমান দফাভিত্তিক আন্দোলনকে আগামী রমজান মাসের আগেই সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ দিতে চায় বিএনপি। এই ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার ১২ দলীয় জোট ও ৭ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। অন্যদিকে ১০ দফা আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা ও রংপুরে গণমিছিল করবে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হবে। এরপর কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামটর গিয়ে শেষ হবে। ওইদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণমিছিল হবে।
গণমিছিলের বিষয়ে অবহিত করতে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল করার বিষয়ে অবহিত করে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে ডিএমপি কমিশনারকে। বৈঠকের পরে জাহিদ হোসেন বলেন, ডিএমপি কমিশনারকে বলেছি, ৩০ ডিসেম্বর কোনো সভা-সমাবেশ নয়, এটা হবে গণমিছিল। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই গণমিছিল শুরু ও শেষ করতে চাই। এ বিষয়ে ডিএমপির সহযোগিতা চেয়েছি। কোথা থেকে শুরু এবং কোথায় শেষ হবে? জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিএনপি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও মো. আবদুল আউয়াল মিন্টু। জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ এলডিপির (বিএলডিপি) শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুসলিম লীগের (বিএমএল) শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় দলের রফিকুল ইসলাম, জাগপার ইকবাল হোসেন, এনডিপির আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম প্রমুখ।
বৈঠকের পর বিএনপি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি তাদের কাছে চলমান
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে মতামত নিয়েছে। বিএনপির নেতারা বলেছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে আর সময় দেওয়া যায় না। এমতাবস্থায় অতিদ্রুত সরকার পতনের লক্ষ্যে এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। সেই আন্দোলন আসন্ন রমজানের আগেই কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জোটের শীর্ষ দুজন নেতা জানান।
বিএলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল কালবেলাকে বলেন, আমাদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কথা বলেছেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত নিয়েছেন। বিশেষত শুক্রবার ঢাকায় গণমিছিল ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ১২ দলীয় জোটের প্রতিটি দল আলাদা আলাদা ব্যানারে নিজস্ব নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করবে। তারা বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির সামনে থেকে গণমিছিল করে কাকরাইল মোড় হয়ে আবার পানির ট্যাঙ্কির সামনে শেষ করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা কালবেলাকে বলেন, তিনি বৈঠকে না গেলেও তার দলের মহাসচিব ছিলেন। বৈঠকে মূলত গণমিছিল সফল করা এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার দলের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে বলে জানান এহসানুল হুদা।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় সমমনা আরও সাতটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান রহমান মোস্তফা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দল, ন্যাপ ভাসানি, পিপলস লীগের প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির নেতারা।
জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল করবে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ১০ দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, গত শনিবার ঢাকা ও রংপুর মহানগর বাদে সারা দেশের বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে গণমিছিল করে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।
জনতার আওয়াজ/আ আ