রসিক নির্বাচন : ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ ৬:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ ৬:৩০ অপরাহ্ণ

রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় মহানগর এলাকায় মোট ২২৯টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে, সময় শেষ হলেও কিছু সংখ্যক ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি বেশি থাকার কারণে এখনো ভোট গ্রহণ চলছে।
শুরু দিকে ইভিএম নিয়ে অভিযোগ তুলেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, তার আগের ভোটার ভোট দিতে গিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগে। ওনি যখন দিতে যান তখন ইভিএমে তার আঙ্গুলের ছাপ মিলে। পরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।
নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণের সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অনেকে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকের আঙ্গুলের ছাপ মিলেনি। কোনো কোন কেন্দ্রে প্রার্থীদের নানান অভিযোগে ছোট-খাটো বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষও বাধে। তবে, ভোটারদের মতে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পরেনি।
উত্তম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা শরিফ উদ্দীন (৬৫) বলেন, পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দিতে পারিনি। কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে ক্ষেতে গিয়ে কাজ করা অনেক ভালো।
উত্তম বারোঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোলজার নামের আরেক ভোটার জানান, মানুষ লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িযে থাকার পরেও ভোট দিতে না পাড়ায় অনেকে বাড়ি চলে গেছে। ওই কেন্দ্রর আরেক নারী ভোটার বলেন, ৩ মিনিটে ভোট দিতে পেরে অনেক খুশি। জীবনে প্রথম মেশিন দিয়ে ভোট দিলাম।
পূর্ব বসুনিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটারদের উপস্থিতি চিত্র চোখে পাড়ার মতো ছিল। কিন্তু সুরুতন নামে এক ভোটারের বলেন, সকালে ভোট কেন্দ্র আসছি কিন্তু এখনো বেশি ভাগ লোক দিতে পারেনি। এই কেন্দ্রে দুই-তিন বার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৪ নম্বর কক্ষের মেশিন অনেক বার নষ্ট হয়েছে, অফিসার আসি ফির ঠিক করে দিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য ভোট দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আগের কাগজেই ভালো ছিল।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ইভিএম মাঝে মাঝে হ্যাঙ্গ (অচল) হয়ে পরছে, সেজন্য একটু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এবার মেয়র পদে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিশের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। কে হবেন জনগণের ভালোবাসার সেই মানুষ? তা জানার অপেক্ষায় ভোটারা।
নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৮ জন করে মোট ২৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরমধ্যে ৩০নং ওয়ার্ডে একজন সাধারণ কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ