লক্ষ্মীপুরে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:১৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৯, ২০২৩ ২:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৯, ২০২৩ ২:৫৪ অপরাহ্ণ

 

লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের উপপরিদর্শক আবদুর রহিম, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত তিন পুলিশসহ পাঁচজনকে সদর হাসপাতাল ভর্তিসহ অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এই ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শিপন খলিফা, ইব্রাহিম খলিল, ছাত্রলীগ নেতা এম সজিব, রিয়াজ হোসেন ও ইদ্রিস হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
বুধবার (৮ মার্চ) রাতে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সোলাইমান-লিটন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে বাজারে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ চন্দ্রগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। এই প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয় কামাল হোসেনকে। এই কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আফজাল রোডের মুখে একটি আনন্দ মিছিল বের করে কামাল হোসেন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন পক্ষের লোকজন।

এর আগে এই প্রস্তুতি কমিটিকে প্রত্যাখান করে বাজারের নিউমার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবীদার কাজী সোলাইমান ও লিটন পক্ষের লোকজন।

এর জের ধরে কাজী সোলাইমান ও লিটন গ্রুপের লোকজন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন গ্রুপের হামলা করে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুর রহিম, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা শিপন খলিফা, ছাত্রলীগ নেতা এম সজিব, রাসেল হোসেন, রাজু আহেমদ, সুমন হোসেন ও রাজিব হোসেনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত তিন পুলিশসহ পাঁচ জনকে সদর হাসপাতাল ও অন্যদের প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লার্টিচার্জ করে। বাজারে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে কাজী সোলাইমান ও লিটন নিজেদের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক দাবী করে বলেন, ‘কমিটি বাতিল না করে গোপনে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাহা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। এই কমিটি কোনো নেতাকর্মী মেনে নেয়নি এবং নিবে না। এর প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও কামাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে।’

অপরদিকে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বলেন, ‘বিনা উস্কানীতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আনন্দ মিছিলে কাজী সোলাইমান ও লিটনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করেছে।’

চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ‘চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর বাহিরে আর কোনো কমিটি নাই। কেউ কমিটি দাবী করলে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, ‘কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছে ১৫ জন। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে কেউ আইনশৃংখলা অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ