লড়াই যখন শুরু করেছি লড়াই করব: মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

লড়াই যখন শুরু করেছি লড়াই করব: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৪ ৬:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৪ ৬:১৩ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ব‌লে‌ছেন, লড়াই যখন শুরু করেছি লড়াই করব, লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে নিজেদের পাওনা আদায় করে নেব।

শুক্রবার ১২ জানুয়ারী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চ এর আয়োজনে প্রহসনের ডামি নির্বাচন জনগণ মানে না, অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার অধীনে নতুন নির্বাচন দিতে হবে শীর্ষক এক সমা‌বে‌শে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা, মানুষকে গুলি করে হত্যা করা কোন বিচার ব্যবস্থা এ দেশে নাই। এটা কোন ভোটই ছিল না। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেই বেকুব হয়ে গেছে ভোট নাই তাও জিতে গেলাম।বিদেশি পর্যবে ক্ষকরা বলেছে এই ভোট ভুয়া।

তি‌নি ব‌লেন, তড়িঘড়ি করে মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিল এমপিরা শপথ নিল কারণ কখন কি ঘটে যায় বলা যায় না। এই সরকারের তথাকথিত ডাকাতির নির্বাচনের কারণে এই চারদিনেই মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। লড়াই যখন শুরু করেছি লড়াই করব লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে নিজেদের পাওনা আদায় করে নেব। লড়াই করলেই এই সরকার আর টিকতে পারবে না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ৭ তারিখে কেউ ভোট দিতে যায় নাই। ২% ভোট পড়ে নাই। বিদেশি পর্যবেক্ষ গণ বলেছে কোন ভাবেই ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোটের বেশি পড়ে নাই। আওয়ামী লীগ ছাড়া ২৭টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই বলেছে এখানে কোন নির্বাচন হয় নাই। তারা প্রত্যেকেই এই ভোট বর্জন করেছেন। এই দলটির নাম হয়েছে এখন তামাশা লীগ। এই নির্বাচনের কোন বৈধতা নাই। এই মন্ত্রী পরিষদে কিছু চমক আছে কিন্তু ভোট চুরি দিয়ে কি চমক ঢাকা যায়। আওয়ামী লীগের জন্য জনসমর্থন যাচাই করার একটা সুযোগ ছিল আওয়ামীলীগ সেই সাহস করে নেই এবার। আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল ধরার মত। বাংলাদেশকে তারা এক দলীয় শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ভেঙে দিয়ে একটা বাকশালী কায়দার দিকে নিয়ে যাওয়া হল এ দেশকে। এই নির্বাচনকে যদি আপনারা ক্ষমতায় থাকার লাইসেন্স মনে করেন তাহলে ভুল করবেন। আলোচনা করে সংকট উত্তরণের একটা সুযোগ আছে আপনাদের। এখনো সময় আছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সরকার এবং ব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি বলেন, ৭ তারিখের তামাশার প্রহসন হয়েছে। ৭ তারিখে দেশের মানুষ ভোট দিতে যায় নাই। আওয়ামী লীগের মহাজোট সঙ্গী হাসানুল হক ইনু রাশেদ খান মেনন, বলেছে নির্বাচন কারচুপি হয়েছে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আব্দুস সুবাহান গোলাপ বলেছে প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচন কারচুপি করেছে। নির্বাচন কেন্দ্রে ছাগল ভেড়া ছাড়া কিছুই দেখা যায় নাই। ২% পর্যন্ত ভোট করেছে কিনা সন্দেহ। স্বতন্ত্র ওয়ালারা যে যেভাবে পেরেছে সেইভাবে সিল মেরে নিয়েছে। এই দলটি ভয়ংকর মৃত্যুর দিকে চলে গিয়েছে তাদের ন্যূনতম হুশ নাই। এদেশের মানুষ এ দেশ রক্ষা করবে আপনাদের কে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে। মানুষের পকেট হাতিয়ে নিয়ে হাজার হাজার লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই যে লুটপাট তন্ত্র কায়েম করে বিরোধী দলের লোকজন কে হাত পা বেঁধে জেলে রেখে তামাশার নির্বাচন করে দেশটাকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করছে। এই দেশ রক্ষা করা শেখ হাসিনা এবং তার রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুন্ডা বাহিনীর নেই। এই স্বৈরাচারী সরকারকে পতন ঘটানো না পর্যন্ত আমাদের লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

ভাষানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি কারণ তারা ৭ তারিখের ভোট বর্জন করেছিল। আমরা এই কর্তৃত্ববাদি সরকারের বিরুদ্ধে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। এই স্বৈরাচারী সরকারকে যতদিন পর্যন্ত আমরা পদত্যাগ করাতে না পারবো ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কারী এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, অগণ তান্ত্রিক অসামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে জনগণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন থামিয়ে দিতে হবে। নির্বাচন নামক নাটকের প্রয়োজন ছিল সেটি তারা ৭ তারিখে সমাপ্ত করেছে। ৭ তারিখ একটা বাংলাদেশের জন্য কলঙ্কজনক দিন।গণতন্ত্র মঞ্চ, সরকার এবং শাসনতন্ত্র বদলের জন্য লড়াই করেছিল। এই পুলিশ বাহিনী,সেনাবাহিনী, বিচারস বিভাগ, প্রশাসন এইসব সংস্থার শীর্ষে যারা বসে আছে তারা এ দেশের জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। তারা ৭ তারিখে যে ভূমিকা নিয়েছে এটা এ দেশের জনগণের বিপক্ষে চলে গেছে। এরকম বাহিনী এরকম রাষ্ট্রপ্রশাসন এরকম বিচার ব্যবস্থা আগামীতে রেখে এ দেশে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এইসব সংস্কার করার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ এই সরকার বদলাতে চায়।

সমা‌বে‌শে আরো উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন,নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার,জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ