শহীদ জিয়া ও তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৫৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শহীদ জিয়া ও তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০২২ ১:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০২২ ১:০৫ অপরাহ্ণ

 

পহেলা সেপ্টেম্বর । বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । গভীর শ্রদ্ধাভরে স্বরন করছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান , মহান স্বাধীতার ঘোষক , বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ব প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত মহামান্য রাস্ট্রপতি , বহুদলিয় গনতন্ত্রের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা , স্বনির্ভর বালাদেশের রুপকারক , কোঠি কোঠি মানুষের হৃদয়ে চীর জাগ্রত শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে। বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি । মহান রাব্বুল আল্ আমিন যেন তাঁকে তাঁর পরিপুর্ন রহমতের ছাদরে আবৃত রেখে জান্নাতুল ফরদাউসের সর্ব শ্রেষ্ঠ মোকাম এনায়েত করেন সেই দোয়া আমরন থাকবে ইনশাআল্লাহ্ ।
সম্মানিত পাঠক পাঠিকা বৃন্দ ইতপুর্বে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বেশ কিছু লিখনি লিখেছি । আমি দেশের জনগনের মাঝে উঠতি প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আজকের ঐতিহাসিক এই দিনে কিছুটা ব্যতিক্রম লেখার মনস্থ করেছি। আর তা হলো স্বাধীতা অর্যনের পর চার বছর যেতে না যেতে কেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আত্বপ্রকাশ ? কেন শহীদ জিয়ার দল বি এন পি কে দেশের সর্বস্তরের জনগন সাধুবাদ জানিয়েছিল ? কেন সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রশংসিত হয়েছিল ? কেন জাতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকাতলে ঐক্য বদ্ধ হয়েছিল ? কেন দেশের জনগন বি এন পি করেছে এবং কেন করবে? কি কারনে আমি বি এন পি প্রতিষ্ঠার এই দিনকে ঐতিহাসিক দিন বললাম ? তার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা করব। তার পুর্বে সংক্ষিপ্ত আকারে দেশের মহান স্বাধীনতর প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তি দেশের রাজনৈকি , অর্থনৈতিক , সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে একটু তুলে না করলে লিখার মূল উদ্দেশ্য অপরিপূর্ণ থেকে যাবে বলে আমি মনে করি।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র প্রেক্ষাপট ছিল সেই বৃটিশ সম্রাজ্যবাদী শাসন থেকেও পরবর্তি পশ্চিমা শাসকের শোষনে বাংগালী জাতীর ন্যায্য অধীকার হরন , বাকশক্তি রোধ , তদকালিন পুর্ব পাকিস্থানে পশ্চিমারা বিনিয়োগ , নিয়োগ , উৎপাদন , শিক্ষা , স্বাস্থ্য সহ সর্ব ক্ষেত্র বাংগালী জাতিকে শুধু কোণঠাসা করে ক্ষান্ত ছিলনা, আমাদের মায়ে ভাষা বাংলা ভাষার উপর জগন্য ভাবে আঘাত এনে উর্দু ভাষা বাধ্যতামূলক করার রোশানলে থেকে মুক্তি লাভ করে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন স্বার্বভৌম রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এবং দেশে গনতন্ত্র প্রতষ্ঠা করে , ন্যায্য অধিকার — স্বাধিকার , জনগনের বাকশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সহ অন্ন বস্র বাসস্থান , শিক্ষা – স্বাস্থ্য সহ সকল প্রকারের নাগরীক অধিকার শুনিশ্চিত করে বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ ও জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা। ‘৭০ এর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করলেও পশ্চিমা শাসকের দল বিজয় অর্যনকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কে সরকার গঠন করতে দেয়নি। ফলে রাজনৈকি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভীন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছিল। ৭১ এর ৭ই মার্চ তদকালিন বংগবন্ধু শেখ মজিবুর রহমন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষন দিয়েছিলেন। যে ভাসনে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতার মূল দাবী স্বাধীনতার ঘোষনা ছিল অস্পষ্ট । ৭ই মার্চ বংগবন্ধুর ভাসন পরবর্তি পশ্চিমাদের সাথে ৮ ই মার্চ থেকে লিয়াজু চালিয়ে ১৬ই মার্চ থেকে ২৩শে মার্চ পর্যন্ত পশ্চিমা শাসক জুলফিকার আলী ভুট্টো, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খাঁন , ঢাকায় নিযুক্ত মারকিন রাস্ট্রদূত মিস্টার জোসেফ ফারলেন্ডের সাথে রুদ্ধদ্বার কক্ষে বংগবন্ধুর সাথে একটানা বৈঠক চলে। কি প্রয়োজন ছিল কিম্বা কোন উদ্দেশে পশ্চিমা হায়নার সাথে সেই দিন গুলোতে একটান রুদ্ধদ্বার কক্ষে সেই বৈঠক চলেছিল ? বংগবন্ধু কেনই বা হায়নার দলের প্রকিত উদ্দেশ্য একটুও আঁচ করতে পারেননি –

১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ পশ্চিমা হায়নার শোষক দল তদকালিন পুর্ব পাকিস্থানের ঘুমন্ত গনমানুষের উপর চালায় এক নরকিয় গন হত্যা। যে গন হত্যায় এদেশের মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল এক গহীন অমানিশা । কে কি করবে ?কোন দিকে যাবে ? এমন পরিস্থিতিতে যখন দেশের মানুষ কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েছিল ঠিক তখন ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে চট্রগাম কালুরঘাট অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে ইথারে ভেষে এসেছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা। যে ঘোষনা দিয়েছিলেন তদকালিন মেজর জিয়াউর রহমান । মেজর জিয়াউর রহমান তার স্বাধীনতার ঘোষনায় বলেছিলেন ” I Mazor Zia declare the Indipendend of Bangladesh – – – We revolt – – . মেজর জিয়ার সেদিনের এই ঘোষনা দেশের কিংকর্তব্যবিমুঢ় জনগন আশার আলো পেয়ে দলমত নির্বিশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। সে দিনকার মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রানে আশার আলোয় আলোকিত হওয়ার বিষয়টি বেশ গুরত্ব দিয়ে মেজর জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ চিত্বে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ডক্টর ওয়াজেদ মিয়ার লেখা এশিয়ান ডাইজেস্ট পরবর্তি ঢাকা ডাইজেস্ট পাক্ষিক ম্যাগাজিনে তার একটি আর্টিক্যালে প্রকাশিত হয়েছিল। ইনশাহআল্লাহ্ তা নিয়ে আগামীতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার ইচ্ছা আছে । মুক্তি যুদ্ধের মহান ঘোষক মেজর জিয়া ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে দ্বিতীয় বারের মত পুর্বের দেয়া মহান স্বাধীতার ঘোষনায় তাঁর বিচক্ষণতা দিয়ে পুনঃ ঘোষনা দিয়েছিলেন। মেজর জিয়া তাঁর দ্বিতীয় বারের ঘোষনায় একটু পরিবর্তন এনে ছিলেন । তিনি ঘোষনায় বলেছিলেন — ” I Mazor Zia On be half of Our great leader Bongo Bondhu Shk Mozibur Rahaman declare indipendend of Bangladesh – – — –
পশ্চিমা হায়নার বিরুদ্ধে তদকালিন রিভোল্ট করে মেজর জিয়াউর রহমান পর পর দুইদিন মহান স্বাধীতার ঘোষনা দেয়ার সাথে সাথেই দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনতা সহ মুক্তিকামী বাংগালী পুলিশ , ই পি আর , আনসার , সেনাবাহীনির কর্মকর্তার পাশাপাশি শতশত সেনা সদস্য পশ্চিমা হায়নার বিরুদ্ধে স্বসস্র মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন সেক্টরে যার নেতৃত্ব দিয়েছিল তৎকালীন সেনাবাহীনির কর্মকর্তাগন । যুদ্ধ ঘোষনা করে বন্ধুরাস্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়ে সবাই মুক্তিযোদ্ধের হাতিয়ার হিসাবে গড়ে উঠেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধী নায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানি ওসমানির নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযুদ্ধের গুরু দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন। যুদ্ধ চলা কালিন সময়ে বিদ্রোহী সৈনিক ” বিদ্রোহী ফোর্স ” তথা জেড ফোর্স , এস ফোর্স , এবং কে ফোর্সের অধীনায়ক চিলেন সর্ব জনাব মেজর জিয়াউর রহমান , সফিউল্লাহ ও খালেদ মোশাররফ ” । মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক দুর্দান্ত চৌখুশ ও বিচক্ষণ সেক্টর কমান্ডার ( জেড ফোর্স গটনকারী ) জিয়াউর রহমান তাঁর মুক্তিযুদ্ধে কৃতিত্বের সাক্ষর হিসাবে বিজয় পরবর্তি বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর উত্তম খেতাব ভুষিত করেন। বলা বাহুল্য বর্তমান সরকারের সরকার প্রধান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি সহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের নেতারা বলেন মুক্তি যুদ্ধের সময় মেজর জিয়ার মরমান কোন মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেননি। এমন প্রতিহিংসা মুলক বক্তব্যে দেশের মানুষের হৃদয়ের গভীরে অসহনীয় রক্তক্ষয়ী যাতনার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে শুধুই দেশের অভ্যন্তরে নয় শুধু আন্তর্জাতিক ভাবে এমন লাগামহীন বক্তব্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

থাক সে সব বিষয় – – – – – – –
দীর্ঘ নয় মাস লক্ষ প্রানের রক্ত স্নানের ত্যাগে অর্যিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বিযয়।
মহান স্বাধীতা স্বার্বভৌম দেশ বাংলাদেশের বিজয়ের প্রেক্ষাপট কি শুধুই একা একটি দলের ছিল ? না , তা কিন্তু নয়। ছিল দলমত , ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে এ দেশের মুক্তিকামী জনতার প্রানপণ সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধ । কিন্ত বড়ই পরিতাপর বিষয় যে , স্বাধীনতা পরবর্তি এ বিষয়টি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব এবং মূল্যায়ন না করেই আওয়ামীলীগ নিজেদের মনগড়া সরকার গঠন করেন। য়ার ফলে বছর যেতে না যেতে দেশের রাজনীতি ও রাস্ট্রি পরিচালনায় নেমে আসে আরেক অস্থিতি । যে অস্থিতির কারনে দেখা দিয়েছিল ভয়ংকর পরিস্থিতি । অন্যদিকে রাস্ট্র পরিচালনার নামে সৃষ্টি হয়েছিল আরে নৈরাজ্য । তৈরী হয়েছিল দেশের জাতীয়তাবাদের নামে এক ভয়ংকর জাত্যাভিমান। ফলে দেশের অপরাপর সংখ্যালঘু জাতিসত্বার প্রতি প্রতিয়মান হয়েছি তীব্র অবহেলা ও অবজ্ঞা । দেশের সর্বস্তরের গনমানুষ সবাইকে বাংগালী হওয়ার ঘোষনা দেয়া হয়েছিল। যা ছিল বাধ্যতামূলক আদেশ। জাতিয়তাবাদের এমন বাধ্যতামূলক ঘোষনা এবং বাস্তবায়নের কারনেই দেশের অপরাপর সংখ্যালঘু জাতিদের খোবের কারনেই পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি বাহীনির সৃষ্ঠি হয়।
অপরদিকে সমগ্র দেশে চলছিলল নৈরাজ্য , লুট , খুন ,গুপ্ত হত্যা , ডাকাতি , নারী ধর্ষন সহ সব মিলিয়ে বলা চলে তখনকার সরকার ছিল এক ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া ডন সরকার। সরকার সমর্থিত চারটি দৈনিক পত্রিকা ব্যাতিরেকে সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ ঘোষিত হয়েছিল। আওয়ামীলীগ বিলুপ্তি করে বংগবন্ধু শেখ মজিবুর রহমন বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে ঘোষনা করেছিলেন একদেশ একনেতা এবং এক দলিয় শাষন ব্যাবস্থার । যার ফলস্রুতিতে আওয়ামীলীগের একটি অংশ প্রতিবাদী হয়ে জাসদ (জাতিয় সমাজতাত্ত্বিক দলের ) নামের রজনৈতিক দলের ঘোষনা করেন। ফলে দেশে শুরু হয়েছিল গুপ্ত হত্যার হলিখেলা । অন্যদিকে দেশ জাতী ও মহান স্বাধীতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র প্রতিক বাংলাদেশের গর্ব চীরউন্নত মমশীর দেশের সেনাবাহীনি পাশাপাশি রক্ষী বাহীনি তৈরী ছিল জাতীর জন্য মহা এক সড়যন্ত্র বলে আজো দেশের সত্যিকারের দেশ প্রেমিক বুদ্ধীজিবীদর সাথে জন ও গন মানুষের মনে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। সেই সময়ে জনমনে কথিত ছিল – দেশের গর্বিত সেনাবাহিনী কি বিলুপ্তির পথে ? সেই সময় সর্বপ্রথম এন কাউন্টারের শিকার হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা তদকালিন জাসদ নেতা সিরাজ সিকদার। সিরাজ সিকদারকে হত্যর পর বংগবন্ধু দেশের জাতীয় পার্লামেন্টে দাড়িয়ে হুংকার দিয়েছিলে “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার ? বেশি বাড়াবাড়ি করলে ” লাল ঘোড়া দাবরিয়ে দেবো , ইত্যাদি ইত্যাদি । ইতমধ্যেই আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনড্রী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলা বহীন ঝুড়ি বলে আক্ষায়ীত করেছিলেন। ফলে গোটা বিশ্বের মাঝে সদ্য স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ কলংকিত হয়ে পড়ে। দেশে নেমে এসেছিল এক কঠিন দুর্ভিক্ষ । যে দুর্ভিক্ষের কারনে বাংলাদেশের বাসন্তী নামের এক মেয়ে কাপড়ের অভাবে মাছ ধরার জ্বাল পরিধান করতে বাধ্য হয়েছিল। অন্ন বস্র আর সু চিকিৎসার অভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।দেশের এমন তালমাতাল ভয়াবহ শ্বাস রুদ্ধকর পরিস্থিতি কে কঠিন হস্তে দমন করার জন্য বংগবন্ধু শেখ মজিবুর রহমন ১৯৭৪ এর ২৮শে ডিসেম্বর বিশেষ জরুরী আইন জারি করেন । দেখা মাত্র গুলির হুকুম , সকল রাজনৈতিক দলের নিসিদ্ধিকরন , একদলিয় শাষন ব্যাবস্থা কে কঠোর থেকে কঠোর করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
১৯৭৫ এর পনরই অগস্ট দেশে এক পট পরিবর্তন ঘটে। সেদিনের প্রেক্ষাপটে সেনাবাহীনির একটি অসন্তোষ দল স্বপরিবারে বংগবন্ধু কে নির্মম ভাবে হত্যা করে। বড়ই ন্যাক্কারজনক ও ভাবনার বিষয় ছিল যে , বংগবন্ধু কে স্বপরিবারে হত্যার পরপরেই তার বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ এবং দাফন কাপনের কোন ব্যাবস্থা না করেই ধানমন্ডীর ৩২ নং বংগবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সবার মরদেহ পড়ে থাকা অবস্থায় আওয়ামীলীগের খুবেই প্রভাবশালী মন্ত্রী – নেতা ও বংগবন্ধুর খুবেই আস্থা ভাজন তুখোড় রাজনীতিক খোন্দকার মোস্তাক আহাম্মদ মুহুর্তের মাঝে সরকার গঠন করেন । তার মন্ত্রী পরিষদে সেদিন তদকালীন আওয়ামীলীগের ডজন খানিক মন্ত্রী ও আটজন প্রতি মন্ত্রী শপথ করে দেশের দায়িত্বভার গ্রহনে করেছিলেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে , সেই প্রেক্ষাপট তৈরীর একমাত্র কারন ছিল তদকালিন সরকারের রাস্ট্র পরিচালনায় শতভাগ ব্যার্থাতা , অহংকারী আর প্রতিশোধ ও নিধন ব্যাস্থার স্থায়ী ব্যাবস্থা কায়েম করা। সে দিনের সেই পট পরিবর্তনের ফলে দেশ জাতী আরেক দুর্যোগ , অন্ধকারাছন্ন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখ হয়েছিল।
দেশের অভ্যন্তরে ৭৫ এর ১৫ই অগস্ট থেকে ৭ই নবেম্বর পর্যন্ত অনক ঘটনা গটে গিয়েছিল। মহান স্বাধীতার ঘোষক তদকালিন সেনাবাহীনির ডিপুটি চীফ অফ স্টাফ জিয়াউর রহমানকে খালেদ মোশারফ গৃহবন্দী করে নিজেকে সেনাবাহীনির প্রধান ঘোষনা করেন। এক পর্যায়ে দেশে রাজনৈতিক চরম ক্লান্তিকালের কারনে দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখোমুখি হয়ে পড়ে। দেশের এমন ক্লান্তিকালে দেশ রক্ষার প্রতিক গর্বিত সেনাবাহিনীর মাঝে দেখা দিয়েছিল মহা এক আতংক ও অসন্তোষ । ক্যু পাল্টা ক্যু । বলতে গেলে দেশে প্রায় তিন পর্যন্ত কোন সরকার ছিলনা। ছিল শুধু নৈরাজ্যে ভরপুর। এমন পরিস্থিতিতে মহান স্বাধীতা স্বার্বভৌমত্ব – দেশ জাতীকে পরাশক্তির নিখুঁত নিলনকশা ও সড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীর সাধারন সৈনিকরা শিপাহী বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন । যে বিপ্লবে সেদিনের ডাকে দেশের লক্ষ লক্ষ জনতা সামিল হয়েছিল। সেদিন ছিল ৭৫ এর ৭ই নবেম্বর । সিপাহী জনতার বিল্ববের মাধ্যমে সেনা জোয়ানরা তাদের প্রানের চাইতে প্রিয় সেনা কর্মকর্তা ১৯৭২ সালে নিযুক্ত ডিপুটি চীফ অফ স্টাফ জিয়াউর রহমানকে বন্ধীশালা থেকে মুক্ত করে দেশ ও জাতির হাল ধরার জন্য জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন ।
Nazrul
Nazrul Islam
ফলে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনাকারীর সেই কন্ঠ ৭৫ এর ১৫ ই অগাষ্টের পরবর্তিতে ৭ ই নবেম্বর শোনার পর জাতী সুস্থ এবং সবল ভাবে ঘুরে দাঁড়নোর ভরসা পেয়েছিল। তদকালিন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক তার বুদ্ধিমত্তা , মেধা , প্রজ্ঞা ও চৌখুশতা দিয়ে দেশের আভ্যন্তরীণ কলহ , সেনাবাহীনির বিশৃঙ্খলা সহ সর্ব মহলে একটি স্থিতিশলতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। দেশ জাতী রক্ষা পেয়েছিল একটি ফ্যাসিস্ট ও পরাশক্তির কবল থেকে । কবর রচনা হয়েছিল একদলিয় শাষন ব্যাবস্থার । ফিরে পেয়েছিল দলমত নির্বিশেষে মুক্তিকামী বাক স্বাধীনতা ও পুর্ন গনতন্ত্র ও সকল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান পুঃন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গনতন্ত্র। যাহা ছিল বহুদলিয় গনতন্ত্রের প্রথম ভীত। যার কারনে শহীদ জিয়া কে দেশে — বিদেশে বহুদলিয় গনতন্ত্রের একমাত্র স্থপতি হিসাবে আজো শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের স্বনির্ভর জাতি গঠনের রুপকারক হিসাবে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশে বিদেশে একজন দেশ প্রেমের প্রতিক হিসাবে সমাদৃত হয়ে খ্যাতি অর্যন করেছিলেন। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশী ও আন্তর্জাতিক ভাবে নন্দিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতিয়তাবাদের যথাযথ সংজ্ঞা প্রনয়ন করে। তিনি সংখ্যালঘু জাতি সত্বার উপর আরোপিত অবহেলা অপমানকর বাংগালী জাতিয়তাবদের সিদ্ধান্তকে খারিজ করে সৃষ্টি করেছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। মাত্র অল্প কিছুদিনে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবটি স্বনির্ভর দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবং এদেশকে ” তলা বিহীন ঝুড়ির ” কলংক থেকে মুক্ত করে বিশ্ববাসী কে অবাক করে দিয়েছিলেন।
জার্মানী খ্যাতনামা গবেষক ও পর্যালোচক ম্যাক্স ওয়েবার ( Max Weber ) তাঁর এক লিখনিতে লিখেছিলেন , ক্যারিজমা কিম্বা অতিমানবিয় ক্ষমতা যথেষ্ট নয়। ব্যাক্তিগত ক্যারিজমা স্বল্পক্ষণ স্থায়ী এবং অস্থিতিশীল। একে প্রতিষ্ঠানিকীকরন অবশ্য প্রয়োজন। ( Charisma is not enough. Individual charisma is transitory and unstable. It has to be institutionalized.)
শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মাক্স ওয়েবারের ঐ তত্ব যথাযথ প্রয়োগ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে ছেয়েছিলেন। তাই তাঁর কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল – ” ব্যাক্তিকেন্দ্রিক উন্নয়ন একটি সমাজ ও রাস্ট্রে স্থায়িত্ব লাভ করেনা , চাই প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন” আর তাই প্রয়োজন আমরা সকলে একজোট হয়ে দেশ গড়ার লক্ষে মননিবেশ করা। তিঁনি দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহবান করেছিলেন – এদেশ আমার , এদেশ আপনার , এদেশ সবার ” । সবাই মিলমিশে কাজ করলে সকল প্রকারের অসাধ্য সাধ্য ও সকল অসম্ভব সম্ভব হয়ে উঠবে। কোঠি কোঠি হাতকে কর্মির হাতে রুপান্তরিত করতে পারলেই কেবল মাত্র সম্ভব দেশের সার্বিক সমৃদ্ধির স্পর্শে উজ্জ্বল হয়ে উঠা।
হাঁ , এসব অসাধ্য সাধন করেছিলে তিঁনি তাঁর দেশপ্রেম , গনতন্ত্র প্রেমী আর রাজনৈতিক দুরদৃষ্টি , মেধা আর প্রজ্ঞা দিয়ে একটি রাজনৈতিক আদর্শের স্থপতি হিসাবে। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সেনা কর্মকর্তা হয়ে দেশ জাতীর কল্যানে দেশ থেকে সেনা শাষন তুলেদিয়ে এবং সেনা দপ্তর থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আত্বপ্রকাশ করেছিলেন। আর তিনি ছিলেন এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ।
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ শুরুতে আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম মহান বিজয় অর্যনের পর খুবেই স্বল্প সময়ের ব্যাবধানে কেন বি এন পি নামক দলের প্রতিষ্ঠা হলো ?
দেশে স্বাধীনতার পরবর্তিতে যদি বি এন পি প্রতিষ্ঠিত না হতো এই দেশ পরাশক্তির জিঞ্জীরে স্থায়ী ভাবে বন্দী হয়ে পড়ত। দেশের মানুম গনতন্ত্র ফিরে পেতনা। দেশে বহুদলিয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করতোনা। স্থায়ী ভাবে গনতন্ত্রের নামে রাজতন্ত্র কায়েম হয়ে পড়ত। যার সকল নিয়ন্ত্রন থাকত পরাশক্তির হাতে । শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রনিত বহুদলিয় গনতন্ত্র প্রতষ্ঠা না হলে বংগবন্ধুর বিলুপ্তি করা আওয়ামীলীগ আজ দেশের রাজনৈতিক অংগনে পুঃন প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারতনা। শুধুই তাই নয় আজ বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ দেশের প্রধান মন্ত্রী নয় দেশের একজন নাগরিক হিসাবে পুঃন স্থায়িত্ব লাভ করতে পারতেননা। ফিরে পেতেননা তার পৈত্রিক সম্পত্তি । ফিরে পেতেনানা – বংগবন্ধু হত্যার পর ৩২ নম্বর ধানমন্ডীর বাসভনের রক্ষীত সামগ্রী। যে সকল সামগ্রী শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বংগবন্ধুর কন্যা কে সংসদ সদস্য শেখ সেলিম , সাবেক সংসদ সদস্য বেগম সাজেদা চৌধুরী , আরো কয়েকজন নিকটতম আত্বিয় সহ অতিরিক্ত ৯ জন জেলা প্রশাসকের উপস্থিততে হস্থান্তর করেছিলেন। এবং শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বুঝিয়া পাইলাম বলে সবার সামনে সাক্ষর করেছিলেন। সেদিন ছিল ১৯৮১ সালের ১৬ ই জুন। যাহা দেশের শীর্ষ খবর কাগজে প্রকাশিত হয়েছে । গোলাবারুদের বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারনে বাকী সব বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলন গনতন্ত্রের স্থপতি শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার। মালামালের মধ্যে যাহা জব্ধ করা হয়েছিল তা হলো ৫০৩ তোলা স্বর্নালংকার , ৪ হাজার তোলা রুপার অলংকার , নগদ বিপুল পরিমান দেশিয় টাকা ও ভারতিয় রুপি , পাউন্ড , বিপুল গোলাবারুদ সহ ৩ টি মার্ক –৪ রাইফেল , ১ টি ৩০৩ রাইফেল , পয়েন্ট ৩২ বোরের ২টি রাভলবার , ম্যাগজিন সহ ১ টি এস এল আর , ২টি ম্যাগজিন সহ ২ টা এস এস জি ( লাইট মেসিন গান ) , ১ টি চাইনিজ রাইফেল-, পয়েন্ট ২২ বোরের ১ টি রাইফেল , ম্যাগজিন সহ ১ টি ব্রেটা গান , ২৩৭টি তাজা গুলি সহ ১টি জিও থ্রী রাইফেল , ১ টি মার্ক -৩ রাইফেল সহ ২ বাক্স গুলি , ১ টি খোলা গুলির বক্স , ২ টি অ বিশ্পোরিত গ্রেনেট , ১ টি এয়ারগান ।
শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবিত থাকাকালে শেখ হাসিনাকে তাঁর পৈত্রিক বাড়ী পেরত দেয়ার যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করেন এবং বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন রাজনৈতিক না হয়ে আসতেন হয়তবা বংগবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ দেশে আসতে পারতেননা ও তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি এবং মালামাল ফেরত পেতেননা ।
কেন দেশের মানুষ ও সমগ্র বিশ্ব বি এন পি কে সাধুবাদ জানিয়েছিল ? তার প্রেক্ষাপট আমার লিখনিতে নিশ্চই পেয়েছেন। এককথায় আবারো বলছ

এককথায় আবারো বলছি – শহীদ জিয়া ছিলেন একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক এবং দেশ গড়ার কারিগর । নির্লোভ — নিরলস এবং আপাদ মস্তকে তিঁনি একজন গনতন্ত্রের প্রতিক ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় বাংলাদেশ খাদ্যে শতভাগ স্বয়ং সম্পুর্ন ছিল । বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তিতে একমাত্র তাঁর দলিয় সু মহান আদর্শ বাস্তবায়ন করার কারনে বাংলাদেশ খাদ্য রফতানীর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছিলন। য়া তাঁর বিয়োগান্তের পর আর কোন দল বা সরকার সেই সক্ষমতা লাভ করতে পারেনি।
আসছি কেন আমরা বি এন পির পতাকাতলে ঐক্য বদ্ধ হয়েছি , কেন বি এন পি করি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেন বি এন পি করবে ?
১৯৭৭ সালে সর্ব প্রথম শহীদ জিয়ার রহমান দেশে গনতন্ত্র পুংন প্রতিষ্ঠার লক্ষে বাংলাদেশে জাতিয়তাবাদী ঐক্য ফ্রন্টের কার্যক্রমে মননিবেশ করেছিলেন। পরবর্তিতে জাতিয়তাবাদী গনতান্ত্রিক দলের ( জাগদল ) প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে পয়েলা সেপ্টেম্বর আজকের এই দিনে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাগদল বিলুপ্তি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। শহীদ জিয়ার জাতী গঠন , মহান স্বাধীতা স্বার্বভৌমত্বকে পরাশক্তির হাতে থেকে সুরক্ষিত রাখার ঐকান্তিক নয় শুধু মরনপণ সাহসিকতা ও দৃঢ়তার পাশাপাশি কোন প্রভুর সাথে আঁতাত নয় বন্ধুত্বের ঘোষনা , দেশ কে ভিক্ষা ভিত্তি থেকে মুক্ত করা , দেশের জন শক্তিকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে বিদেশ থেকে রেমিটেন্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভীত প্রতিষ্ঠা করা ( বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানীর দ্বার প্রতিষ্ঠা কারী ছিলেন একমাত্র সহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ) দেশের যুবকদের বেকারত্বের হার কমানোর জন্য যুব কল্যান সংস্থার যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা , দেশের মানুদের স্বেচ্ছা শ্রমের আওতায় এনে তাদের শ্রমের সম্মানী প্রদান , হাজার হাজার ক্ষুদ্র শিল্প সহ আজকের পোষাক খাত তথা গার্মেন্টেস প্রতিষ্ঠার রুপকারক , ঔষদ শিল্পকে উন্নয়ন করে দেশের স্বাস্থখাতকে সমৃদ্ধি করে বিদেশে ঔষধ পরতানী করা , শহীদ জিয়া তাঁর প্রশাসনের লোকবল নিয়ে নিজে গ্রামে পর গ্রাম মাইলের পর মাইল হেঁটে সাধারন মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছেন। , দেশকে নিরক্ষর মুক্ত করার প্রথম উদ্যেগ নিয়ে ছিলেন শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান । বর্তমান প্রজন্মের শতভাগ নয় হাজারের মাঝে হাতেগোনা কয়জন জানেন যে দেশে মিডিয়া জগতের প্রান কেন্দ্রস্থল ” প্রেস ক্লাব ” এর প্রতিষ্ঠাতা কে ? তিনি ছিলেন শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান । বলাবহুল্য যে , সদ্য স্বাধীন দেশের প্রেস বা মিডিয়া দেশ জাতীর কল্যানের জন্য জাতিয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে খুবেই গুরুত্বপুর্ন একটি পরতিষ্ঠান। বড়ই পরিতাপর বিষয় স্বাধীনতা অর্যন পরবর্তি সরকার তা কিঞ্চিত পরিমানেও ভাবেননি। আজকের মিডিয়া জগতকে ঢালাও ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন একমাত্র শহীদ জিয়া। আরো শত নয় সহস্র উধাহরন আছে কেন আমরা বি এন পি করেছি , কেন আমরা বি এন পি করি এবং কেন দেশের মানুষ বি এন পি করবে – – – তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক এবং সাংগঠনি ওয়ার্কসফ বা পাঠশালা। যাহা শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বড়ই পরিতাপের বিষয় সেই পাঠশালার যথাযথ কার্যক্রম শহীদ জিয়ার অবর্তমনে আছে বলে আমার মনে হয়না।
একটি কথা না বললেই নয় কোন রাজনৈতিক নেতার বলয় কখনো একটি রাজনৈতিক দলকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেনা। কেবল মাত্র প্রতিটি রাজনৈতিক নেতা কর্মি সহ সবাই দলে ও আদর্শের বলয় শক্তিশালী করলেই সেই দল দেশ জাতীর কল্যানে নিজেকে নিবেদিত রাখলে তবেই সে একজন প্রকৃত রাজনিতিক হিসাবে সু প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ জাতীর নিকট আমৃত্যু বেচে থাখবে।
যেমনি বেঁচে আছেন শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান । তিনি বেচে আচেন এবং আমরন থাকবেন দেশের কোঠি কোঠি কোঠি হৃদয়ে।
পরিশেষ – ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি বংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা না করতেন তা হলে হয়তবা বাংলাদেশ বহু পুর্বে পরাশক্তির নিখুঁত নিলনকশায় জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে যেতে । আর আমি আপনি সবাই জাতী হিসাবে বাংলাদেশী নাগরিক হিসাবে বিশ্বে স্ব স্ব গর্বে গর্বিত হতে পারতামনা। তাই আমি আজকে এই দিনটিকে জাতীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন বলে আক্ষায়ীত করেছি।
আমি আপনি এবং আমরা সবেই বাংলাদেশী জাতি হিসাবে আমৃত্যু শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিকট কৃতজ্ঞ থাকব। তাঁকে হৃদয়ের গভীরে লালন করে যাব ইনশাহআল্লাহ্ ।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী
কলামিস্ট
সাবেক সভাপতি ফেনী জেলা ছাত্রদল।

সাবেক প্রচার সম্পাদক ফেনী জেলা বি এন পি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ