শেখ হাসিনার ‘আয়নাঘর’  গুড়িয়ে দিয়ে  গণভবন উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবী:তারেক রহমান – জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৩, বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার ‘আয়নাঘর’  গুড়িয়ে দিয়ে  গণভবন উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবী:তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, আগস্ট ২১, ২০২২ ২:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, আগস্ট ২১, ২০২২ ২:০৪ অপরাহ্ণ

 

ইয়াসমিন আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি,জনতার আওয়াজ,
লন্ডন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের নেতৃত্ব-কতৃত্ব দেশের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে শেখ হাসিনার ‘আয়নাঘর’ গুড়িয়ে দিয়ে ‘গণভবন’ উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবী।

গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার (২০ আগস্ট) দেশের হিন্দি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অমলেন্দু দাস অপু। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসময় ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম চক্রবর্তীর স্ত্রী দীপালি চক্রবর্তী।

দেশে বিদেশের মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোর হিসেবে মতে, বিনাভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা গত একদশকে ছয় শতাধিক মানুষকে গুম করে রেখেছে। গণতন্ত্রকামী মানুষকে গুম করে যেখানে রাখা হয় শেখ হাসিনার সেই গোপন আস্তানার নাম ‘আয়নাঘর’। গুম থেকে ফিরে আসা একাধিক সৌভাগ্যবান মানুষ, হুইসলব্লোয়ার এবং বিভিন্ন তথ্য প্রমান দিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশের গুম অপহরণ নিয়ে সুইডেনভিত্তিক একটি নিউজ মিডিয়ায় প্রচারিত ‘আয়নাঘর’ নামে ডকুমেন্টারী প্রচার করা হয়।

প্রচারিত ডকুমেন্টারীর উদ্বৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আয়নাঘর’ নামে একটি গোপন আস্তানা বানিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে সেখানে বছরের পর বছরে ধরে গণতন্ত্রকামী মানুষকে আটকে রাখা হচ্ছে। অবৈধভাবে গণভবন দখল রেখে, ‘আয়নাঘর’ বানিয়ে মাফিয়া চক্র উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর ধরে মানুষের স্বাধীনতা-নিরাপত্তা হরণ করে চলছে। এ যেন নবরূপে ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াতে’র আদলে ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, জনগণ এখন যেন নিজ দেশেই পরাধীন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে ক্ষমতাসীন মাফিয়া চক্র এখন নির্লজ্জের মতো অন্যদেশের হস্তক্ষেপ চাইছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে প্রকাশ্যে অন্যদেশের হস্তক্ষেপ চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রমান করেছে তাদের শেকড় বাংলাদেশে নয়। তাদের শক্তি জনগণ নয়। সুতরাং পরগাছা আওয়ামীলীগের কবল থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করা না গেলে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান তথা কোনো মানুষই দেশে নিরাপদ থাকবেনা।

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী মাফিয়া চক্রের হাতে প্রিয় মাতৃভূমি আর নিরাপদ নয়। মাফিয়া চক্রের কবল থেকে দেশটাকে মুক্ত করার বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই জনগণ শ্লোগান তুলেছে ‘হঠাও মাফিয়া বাঁচাও দেশ ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, মাফিয়া চক্র দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে একটি হাস্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিচার বিভাগ পরিণত হয়েছে আইনমন্ত্রণালয়ের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে । দুদক, নিজেই এখন নিশিরাতের সরকারের নেতা মন্ত্রীদের দুর্নীতির রক্ষকের ভূমিকায় লিপ্ত। লুটপাট করে দেশের ব্যাংকগুলোকে প্রায় দেউলিয়া করে দেয়া হয়েছে।

মাফিয়া সরকারের অবাধ দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে জনগণ এখন মহাসংকটে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম
মানুষের নাগালের বাইরে। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, দিন দিন জ্বালানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দেশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, বলেন তারেক রহমান।

খাগড়াছড়িতে অভাবের তাড়নায় একজন ‘মা’ তার প্রিয় সন্তানকে বিক্রির জন্য হাটে তুলেছেন, গত ১১ আগস্ট জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এমন একটি খবরের উদ্ধৃতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যেখানে অভাবের তাড়নায় একজন মা তার প্রিয় সন্তানকে সাধারন পণ্যের মতো বাজারে তুলতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে নিশিরাতের সরকারের এক মন্ত্রী বলছেন, বাংলাদেশের মানুষ নাকি ‘বেহেশতে’ আছে। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে এমন উপহাস একমাত্র আওয়ামী লীগকেই মানায়।

তারেক রহমান বলেন, দেশ এখন মাফিয়া চক্রের কবলে। গণতন্ত্রহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। দেশে এখন মানুষের অধিকার নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। নেই মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। ভুলুন্ঠিত মানবাধিকার, ভোটাধিকার। এখন দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের দিন-রাত কাটে গুম-খুন-অপহরণ আতঙ্কে। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকরা বর্তমানে প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসাপরায়ণ এক কংস-রানীর কবলে।

জন্মাষ্টমী সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় শাস্ত্রমতে কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন, হিন্দু ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রী-কৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে ‘মথুরা’য়, এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন ‘মথুরা’র ক্ষমতায় ছিল অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর শাসক স্বৈরাচারী রাজা ‘কংস’ । শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর ধ্বংস হয় স্বৈরাচারী রাজা ‘কংস’। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত ছিল, ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’। সুতরাং রাষ্ট্র ও সমাজে চলমান গুম-খুন-অপহরণ, অন্যায় অবিচার, স্বৈরাচার-দুরাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি ধর্মীয় শিক্ষাও বটে, বলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, শুধু হিন্দু ধর্মই নয়, যুগে যুগে প্রতিটি ধর্মই অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধের কথা বলে। সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবতার কথা বলে। মানুষের স্বাধীনতার কথা বলে। ফলে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, বিশ্বের প্রতিটি নাগরিকই এমন একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকই তাদের নিজ নিজ ধর্মীয়-রাজনৈতিক-সামাজিক অধিকারগুলো বিনাবাধায় স্বাচ্ছন্দে পালন করতে পারবেন। তাই, প্রত্যেক সচেতন নাগরিক বিশেষ করে যারা রাজনীতি করেন এমন একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ রাজনীতিকদের প্রধান দায়িত্ব এবং কর্তব্য। এমন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই মুসলমান-হিন্দু,বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।

তারেক রহমান আরো বলেন, কে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান মুক্তিযুদ্ধের সময় কারো এমন জিজ্ঞাসা ছিলোনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক ন্যায় বিচার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ ‘সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক ন্যায় বিচার’ কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশে যখনই সংকটময় পরিস্থিতি তৈরী হয় তখনই মাফিয়া চক্র মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নদিকে নিতে নানারকম ইস্যু তৈরী করে নানারকম কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়।

তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ সাক্ষী স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ কিংবা বর্তমানের অরক্ষিত বাংলাদেশ, যখনই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ক্ষমতা জবর দখল করে তখনই অনিরাপদ হয়ে পড়ে দেশের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী কিংবা ভিন্ন ধর্ম এবং দল-মতের মানুষ। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে জোর করে বাঙালি বানাতে গিয়ে তাদেরকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী চক্র দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মানুষদের ধর্মীয় পরিচয়কে নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে দেশে প্রায়শঃই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন করে বলেন, গত একযুগের বেশি সময় ধরে দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে কিংবা বাড়িঘরে অসংখ্যবার হামলা হয়েছে। রামুর বৌদ্ধ মন্দির, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে, সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে নড়াইলে হিন্দু সম্প্রদায় এবং তাদের বাড়িঘরে কারা হামলা করেছে? এসব হামলার ঘটনার বিচার করতে তাদেরকে কে বাধা দিয়েছে?

তারেক রহমান আরো বলেন, ৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে ক্ষমতা দখলের পর একটানা একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখলেও তারা একটি ঘটনারও বিচার করেনি। এর কারণ, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু যখন যাদের উপরই হামলা কিংবা নির্যাতন হয়েছে – হচ্ছে, প্রতিটি সংঘর্ষে -প্রতিটি ঘটনায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা জড়িত।

বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তাদের ঘরবাড়ির উপর হামলার ঘটনার পর দেখা যায়, হামলার বিচার না করে আওয়ামী লীগ ব্লেইম গেইমে লিপ্ত হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা আওয়ামী লীগই যদি ব্লেইমগেইমে লিপ্ত হয় তাহলে হামলার ঘটনার তদন্ত করবে কে? বিচার করবে কে?

বিএনপির অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চরিত্র উল্লেখ করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কখনোই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনা। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায়না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেনা। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায়না। বিএনপি বিশ্বাস করে দল-মত-ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। বিএনপি বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার নিরাপত্তার অধিকার সবার।

মানুষকে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিভাজনের অসারতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বেশি। ভারতে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বেশি। অপরদিকে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বেশি।
সেখানে মুসলমান এবং হিন্দু উভয় ধর্মাবলম্বীর সংখ্যাই কম। অর্থাৎ একই মানুষ ভৌগোলিক কারণে কখনো কোনো দেশে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর সদস্য। সুতরাং, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু এটি মানুষের পরিচয় হতে পারেনা।

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারেক রহমান বলেন, নিজেদেরকে ‘সংখ্যালঘু’ নয় ‘বাংলাদেশী’ভাবুন। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি গর্বিত পরিচয় নির্ধারণে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশী জাতীয়বাদ। সুতরাং, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী একজন বাংলাদেশী হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সকলক্ষেত্রে সমানাধিকার ভোগ করবে এটাই বিএনপি’র নীতি এটাই বিএনপির রাজনীতি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের পারস্পরিক সম্পর্কের অভিন্ন সূত্র ‘বাংলাদেশী’। একইভাবে গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে বিশ্ব নাগরিকতায় বর্তমানে এক দেশের সঙ্গে অপর দেশের ঐকসূত্র ‘ডেমোক্রেসি এন্ড হিউমান রাইটস’। সুতরাং, শুধুমাত্র নিজ দেশের জন্যই নয়,গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতেও দেশে ‘গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। অথচ, দেশে ‘গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার’ প্রতিষ্ঠা দূরে থাক, বর্তমানে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের বর্তমান নিশিরাতের সরকারের পরিচয় ‘গভর্নমেন্ট অফ দ্যা মাফিয়া, বাই দ্যা মাফিয়া ফর দ্যা মাফিয়া’ ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা এমন একটি বাংলাদেশ, এমন একটি রাষ্ট্র ও সরকার, যেখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ। তেমন একটি রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসতে হবে। শুধুই চার দেয়ালের সভা সমাবেশ নয় বরং এই মুহূর্তের প্রত্যয় হোক ‘বাংলাদেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে’।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, ড. সুকোমল বড়ুয়া, সুব্রত চৌধুরী, সুশীল বড়ুয়া, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, রামকৃষ্ণ মিশনের পূর্ণধানন্দ, ইসকন ঢাকার দ্বিজমণি দাস ব্রহ্মচারী, বিশ্বনাথ সরকার, গৌরাঙ্গ দাস, পুরোহিত বিজয় পাণ্ডে, স্বাধীন কুণ্ডু, সুকৃতি মণ্ডল, মিলটন বৈদ্য, তরুণ দে, কামাক্ষা চন্দ্র দাস, দেবাশীষ রায় মধু, রমেশ দত্ত, সুরঞ্জন ঘোষ প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ