শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতা সংগঠিত করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ২, ২০২৬ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ২, ২০২৬ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) উদ্যোগে এক শ্রমিক সমাবেশ ও গণসঙ্গীতের আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আবদুস সামাদ ও সুমন মল্লিক, ঢাকা অঞ্চল টাফের সংগঠক রফিক আহমেদ ও রিকশা মজদূর ঐক্যের সংগঠক শামসুল আলম শায়েস্তা।
সমাবেশ শুরু হয় সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তির মঞ্চ কর্তৃক আন্তর্জাতিক পরিবেশনের মাধ্যমে। এছাড়া মুক্তির মঞ্চ মে দিবসের গণসঙ্গীত পরিবেশন করে। হেমন্ত দাসের নেতৃত্বে গণসঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন বর্ষা বিশ্বাস, মো রিপন, অনন্ত সরকার ও প্রণব।
শ্রমিক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, মে দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক ঐক্য,সংগ্রাম ও সংহতির দিন। বিশ্ব জুড়ে শ্রমিক শ্রেণী এ বছর মে দিবস পালন করছে ইরানে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সামরিক হামলা ও অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ভেনেজুয়েলা, কিউবায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে, প্রতিরোধে।
ফয়জুল হাকিম বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন পূর্বে অন্তর্বতীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক অসম, বৈষম্যপূর্ণ ও অধীনতামূলক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করে গেছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের শিল্প কৃষি বিকাশ খর্ব করবে, জাতীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। এই ধরনের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী চুক্তি নিয়ে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকারী ও বিরোধী দলীয় সদস্য এ নিয়ে কোনো আলোচনা উত্থাপন করেনি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অফ অর্ডারে চুক্তি বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবী তুললে জাতীয় সংসদের স্পীকার তা অগ্রাহ্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারী ও বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদলেহন করে চলেছে।
শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতা সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল হাকিম বলেন, সর্বত্র শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে আগামী দিনের গণআন্দোলন গড়ে তুলতে।
আবদুস সামাদ বলেন, মে দিবস আমাদের শ্রমিকদের শ্রেণীগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হবার তাগিদ দেয়। পুঁজিবাদী শোষণ শাসন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহস যোগায়। এই দিনটিকে শোষক শাসকেরা ভয় পায়। এজন্য সংগ্রামের এই দিনটিকে তারা দালালদের মাধ্যমে ঢোল বাদ্য বাজিয়ে শ্রমিকদের একাংশকে দিয়ে আমোদ প্রমোদের দিন হিসেবে মে দিবসকে সামনে আনে।
৮ ঘন্টার বেশী কাজ নয় এবং ৮ ঘন্টায়ই মনুষ্যোচিত মজুরি দেয়ার দাবি তুলে আবদুস সামাদ বলেন, শ্রমিকদের সপ্তাহে এক নাগাড়ে ৩৬ ঘন্টা ছুটি দিতে হবে। ৬ মাসের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে।
সুমন মল্লিক ভবন ধসে, আগুনে পুড়ে শ্রমিক গণহত্যার বিচারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার এসব শ্রমিক গণহত্যার বিচার করেনি।বর্তমান নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে শ্রমিক গণহত্যার বিচার করতে হবে।
রফিক আহমেদ জাতীয় নূন্যতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেন, এই দাবীতে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শামসুল আলম শায়েস্তা বলেন, মহান মে দিবসে আমরা সকল কর্মক্ষম জনগণের জন্য সারা বছরে উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা চাই। বিকল্প কাজের ব্যবস্থা ছাড়া হকার -ইজিবাই উচ্ছেদ বন্ধ চাই। তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল-চিনিকল চালু করার দাবী জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প কারখানা নির্মাণ করে কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ