সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকার ৮ এলাকায় গণঅবস্থান আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৩ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৩ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ

সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি এবং সমমনা দল ও জোটগুলো। এ আন্দোলনের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে আজ বুধবার একযোগে দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে গণঅবস্থান কর্মসূচি করবে বিএনপি ও মিত্ররা। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বিএনপি ছাড়াও গণঅবস্থান করবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, গণফোরাম এবং আরও ১৫টি সংগঠনের সমন্বয়ে নতুন ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’।
জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা গণসংযোগ, কর্মিসভা, লিফলেট বিতরণসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেছে।
কার অবস্থান কোথায়
রাজধানীর নয়াপল্টনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এখানে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা আব্বাস। এ ছাড়া বিভাগীয় গণঅবস্থানে সিনিয়র নেতারা অবস্থান নেবেন। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রাজশাহী বিভাগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ময়মনসিংহ বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরিশাল বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, রংপুর বিভাগে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কুমিল্লা বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, খুলনা বিভাগে ভাইস
চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং ফরিদপুর বিভাগে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান অবস্থান নেবেন। এর আগে গঠিত সমন্বয় টিমের দলনেতা, সমন্বয়কারী, সমন্বয় সহযোগীসহ বিভাগের অন্তর্গত জেলাগুলোর অধিবাসী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, সম্পাদক, সদস্য, জেলা, উপজেলা ও মহানগরসহ অন্য নেতারা নিজ নিজ বিভাগীয় সদরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এ ছাড়া ‘রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে’ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদী গণঅবস্থান করবে গণতন্ত্র মঞ্চ। প্রেস ক্লাবের পূর্ব প্রান্তে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য গণঅবস্থান করবে। একই সময়ে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গণঅবস্থান করবে ১২ দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’। জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, তারা ১১-৩টা পর্যন্ত গণঅবস্থান করবেন। ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একই সময়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন রাস্তায় ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে গণঅবস্থান করা হবে। এতে জোটের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।
যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর পূর্ব পান্থপথের এফডিসি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ। এ সময় এলডিপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মতিঝিলের আরামবাগে মেইন রোডে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে গণফোরাম। এ ছাড়া বিজয়নগরে আকরাম টাওয়ারের সামনে ১৫ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’ গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।
‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করবে জামায়াত
এদিকে যুগপতের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিলের পর কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় বিএনপির সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে জামায়াতের। যে কারণে ক্ষুব্ধ জামায়াত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে না। জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এমনিতেই মিছিল-সমাবেশ করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ অবস্থায় চার ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে কৌশলগত কারণে গণঅবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে ওয়ান-ইলেভেনের এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করবে দলটি। দেশের সব মহানগরী শাখায় আলোচনা সভা করা হবে।
অনুমতি দিয়েছে ডিএমপি
এদিকে ঢাকায় আজকের গণঅবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর এ অনুমতির কথা জানানো হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা গণঅবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিএনপি অফিসের সামনের এক পাশে গণঅবস্থান করার অনুমতি দিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণঅবস্থান শেষ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
ডিএমপি কমিশনার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, ‘যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে বিএনপি তাদের কর্মসূচি পালন করবে এই শর্তে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে।’
ডিএমপির অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ নগরবাসীর নিরাপত্তায় মাঠে থাকে। যেকোনো কর্মসূচি ঘিরেও সতর্ক থাকে। বুধবারও একইভাবে সতর্ক থাকবে। কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে, জনদুর্ভোগের চেষ্টা করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের সে প্রস্তুতি রয়েছে।
পরবর্তী নতুন কর্মসূচি
জানা গেছে, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি প্রণয়নে কৌশলী বিএনপি। নতুন নতুন কর্মসূচি নির্ধারণে সমমনা বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে দফায় দফায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ‘বিতর্কিত দিবস’ বেছে নিয়ে কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। যেমন—গত ৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সারা দেশে গণমিছিল করেছে বিএনপিসহ মিত্র দলগুলো। ওই দিনকে বেছে নেওয়ার পেছনে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ‘ভোট ডাকাতি দিবস’ হিসেবে পালনের জন্যই গণমিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়। বিএনপি ও জোটের নেতাদের মতে, সেদিন আগের রাতেই সরকার ভোট ডাকাতি করেছে। এটা দেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতেই তারা সেদিন কর্মসূচি পালন করেছেন। এখন যুগপতের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি ‘কালো পতাকা প্রদর্শন’, ‘বিক্ষোভ মিছিল’, মানববন্ধন কিংবা পেশাজীবী সমাবেশ পালন করা হবে। ২৫ জানুয়ারি ‘বাকশাল দিবস’ হিসেবে পালনের জন্যই ওই দিনটিকে ঘৃণা প্রদর্শনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তার আগে নতুন কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১৬ জানুয়ারি ১০ বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। এক্ষেত্রে ঢাকার কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর কার্যালয় ঘেরা কর্মসূচি পালন করা হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও জোট ও দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি হিসেবে ‘লংমার্চ’ বা ‘পথসভা’ কর্মসূচি আসতে পারে। তবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯ জানুয়ারি পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
জনতার আওয়াজ/আ আ