সঙ্গীতাঙ্গনের প্রথিতযশা কণ্ঠশ্রমিক কনক চাঁপার জন্মদিন আজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সঙ্গীতাঙ্গনের প্রথিতযশা কণ্ঠশ্রমিক কনক চাঁপার জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

 

বিনোদন ডেস্ক

‘কি জাদু করেছো বলোনা’, ‘একবিন্দু ভালোবাসা দাও’, ‘ভাল আছি ভাল থেক’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’, ‘নীলাঞ্জনা নামে ডেকনা’-এমনি অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। আজ (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সঙ্গীতাঙ্গনের প্রথিতযশা এ কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন।

জীবনের ৫৪ বসন্ত পেরিয়ে এসে নন্দিত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা আজ পা রাখলেন ৫৫ বছরে। তার এবারের জন্মদিনটিও উদযাপন হবে ঘরোয়া পরিসরে। ১৯৬৯ সালের এইদিনে রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় কনক চাঁপা।

একেবারে ছোট বেলাতেই তার গানে হাতেখড়ি। রেডিওতে কলকাকলি অনুষ্ঠান দিয়ে গান গাওয়া শুরু। বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে ৭৮ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার।

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ কণ্ঠশিল্পী চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েই শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন। চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতিসহ প্রায় সবধরনের গানে কনকচাঁপা সমান পারদর্শী। অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন।

নিজেকে সবসময় একজন কণ্ঠশ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সঙ্গীতের এই বিরল প্রতিভা। আমাদের সঙ্গীত-বাগানে কনকচাঁপা যেন বৈচিত্র্যময় সৌরভ ছড়ানো এক ফুল। সঙ্গীতাকাশের উজ্জ্বলতম এক নক্ষত্র।

জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই জন্মদিন পালন করার অভ্যাস ছিল না। সত্যিকার অর্থেই জন্মদিন এর প্রতি আলাদা কোন দুর্বলতা আমার নেই। আমরা তো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। ছোটবেলায় মা হয়ত একটু পায়েস রান্না করে খাওয়াতেন। তখন তো কেক-টেকের কালচারই ছিল না। পারিবারিকভাবেই আসলে কখনোই ঘটা করে আমরা জন্মদিন পালন করিনি বা করি না। তবে বাচ্চারা যখন বড় হয়েছে তখন তারা ১২টা ১মিনিটে মায়ের জন্য কেক কেটে জন্মদিন পালন করে। সেটাও ঘরোয়াভাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ ৫৫ বছরে পা রাখলাম। মনে হচ্ছে জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় তো কাটিয়েই দিলাম। এখন জন্মদিন আসা মানেই জীবন থেকে আরও একটা বছর চলে যাওয়া। এটা ভাবতেই মনের ভেতর কষ্ট হয়। কাজের মাঝেই এবং কাজের জন্যই আমার জন্ম। কেননা আমি একজন আপাদমস্তক কণ্ঠশ্রমিক।

কর্মহীন দীর্ঘজীবন আমার খুবই অপছন্দ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে চাই, গানের সাথে সত্যের সাথে ভালো কাজের সাথেই থাকতে চাই। আমার জন্মদিন এবং মৃত্যু দিন পালন করা হবে সেটি আমি কখনোই চাই না। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যেন সুস্থ থাকতে পারি সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

কনকচাঁপা এক দশক ধরে সঙ্গীতাঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত হয়েছে ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম। কনকচাঁপা বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বশীর আহমেদের ছাত্রী। দীর্ঘদিন তার কাছে উচ্চাঙ্গ, নজরুল সঙ্গীতসহ অন্যান্য ভারতীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। তার ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম রয়েছে। চলচ্চিত্রের গান নিয়ে তার সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যালবাম ‘আবার এসেছি ফিরে’।

সঙ্গীতশিল্পীর বাহিরে লেখক হিসেবেও তার সুখ্যাতি রয়েছে। ২০১০ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘স্থবির যাযাবর’, ২০১২ সালের বইমেলায় ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ ও ২০১৬ সালের বইমেলায় ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ নামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে কনক চাঁপার। তিনি একটি অনলাইন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ‘কাটাঘুরি’ নামে ধারাবাহিক একটি লেখা লিখে যাচ্ছেন।

কনকচাঁপার জনপ্রিয় গানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন, তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই, ভাল আছি ভাল থেকো, যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয় (খালিদ হাসান মিলুর সাথে), আমার নাকেরই ফুল বলে রে তুমি যে আমার, তোমায় দেখলে মনে হয়, আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে, তুমি আমার এমনই একজন।

গানের জন্য রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননা পেয়েছেন।

‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে/জীবনে অমর হয়ে রয়। সেই প্রেম আমাকে দিও, জেনে নিও/তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়।’ -মনের মানুষকে নিয়ে এটি কনকচাঁপার গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। বাংলার সঙ্গীতাঙ্গনে এই গানের মতোই সুরের যেই সৌরভ ছড়িয়ে দিয়েছেন কনকচাঁপা তা বহুকাল সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।

একইভাবে সুরের এই রাজকন্যা তার অনন্য কণ্ঠবীণায় আরো দীর্ঘ সময় আমাদের সঙ্গীত পিপাসুদের মন রাঙ্গিয়ে যাবেন। সুরে-গানে আরো আলোকিত করবেন বাংলার সঙ্গীত ভুবন। কীর্তিমান এই সঙ্গীতশিল্পীর জন্মদিনে থাকলো নিরন্তর শুভেচ্ছা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ