সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বার্তা দিল বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:১২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বার্তা দিল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুলাই ২৬, ২০২৩ ৫:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুলাই ২৬, ২০২৩ ৫:৫০ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশে বা চাপে পড়ে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এত দিন অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি কাজ করেছেন, তারা এখন থেকে যদি আর এ ধরনের অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি কাজ না করেন, তাহলে তাঁদের আগের ভূমিকা “সহানুভূতি” ও “ইতিবাচক” দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।’

মঙ্গলবার রাতে বিএনপির মহাসচিব এমন আশ্বাস দিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী শাসনামলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, এমনকি জেল-জরিমানার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে হবে’ বলে বিএনপির বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ব্যাপারেই প্রশাসনের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের অতি নগণ্যসংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ ও দলবাজ কর্মকর্তা অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী শাসনামলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, এমনকি জেল-জরিমানার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।
এতে বোঝা যায় যে অনির্বাচিত ও অবৈধ আওয়ামী সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেসব ষড়যন্ত্র করছে, এমন অপপ্রচার সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার একাধিক বক্তব্যে এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। দলের পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে জনগণের সমর্থনে যদি বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দলীয় বিবেচনায় কিংবা আক্রোশমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বা কাউকেই তা করতে দেওয়া হবে না। উপরন্তু বিগত ১৫ বছর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, দীর্ঘদিন ওএসডি রাখা এবং পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যেসব কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশে, কিংবা চাপে পড়ে বিতর্কিত কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, যা প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তীতে অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি বলে পরিগণিত হবে, সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশে বিএনপির আহ্বান হলো-এখন থেকে তারা যদি আর এরূপ অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি কোনো কাজ না করেন, তাহলে তাদের আগের ভূমিকা সহানুভূতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৯ সালের সরকারি বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেবল আইনানুগ আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু বেআইনি আদেশ মানা বা বাস্তবায়নে বাধ্য নন। এ দেশের সন্তান হিসেবেও দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা আমাদের সবার কর্তব্য। বিএনপি একান্তভাবেই প্রত্যাশা করে যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ না করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করবেন।’

বিরোধী দলগুলোকে ডিএমপি কমিশনারের চোখ রাঙানি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি
বিরোধী দলগুলোকে ডিএমপি কমিশনারের চোখ রাঙানি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি
বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ। নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফর করে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবা ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোর বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর পরিস্থিতি নজরে রাখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে চোখ রাঙানি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে বসেছেন রীতিমত।

বুধবার ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, মানুষকে কষ্ট না দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ করা উচিত। ভবিষ্যতে হয়তো এমন সময় আসবে যে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেলে এসব কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা লাগতে পারে।

সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে ২৯ জুলাই পবিত্র আশুরার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ বিফ্রিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‌‘পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে সমাবেশের অনুমতি দেব। রাজনৈতিক সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতও করা ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমি সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, কর্মদিবসে (ওয়ার্কিং ডেতে) সমাবেশ করা মানে রাজধানী অচল করে দেওয়া, লাখ লাখ মানুষকে রাস্তায় যানজটের মধ্যে আটকে রাখা। এসব বিষয় মাথায় রেখে তারা যেন কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন (চেঞ্জ) এনে বন্ধের দিনে নিয়ে যান।’

খন্দকার গোলাম ফারুক আরও বলেন, ‌‌‌‍‘রাজনৈতিক দলের সমাবেশস্থলে যারা আসবেন, তারা কোনোভাবেই লাঠিসোঁটা ও ব্যাগ নিয়ে যেন না আসেন। এতে বিস্ফোরক থাকতে পারে, (সাবোটাজ) নাশকতা হতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব, আপনারা জনগণকে কষ্ট না দিয়ে সমাবেশ করুন।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ