সরকারের ১০০ দিন: জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:২৬, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সরকারের ১০০ দিন: জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬ ৪:১০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ২৭ মে। প্রথম ১০০ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখা গেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চাপ। সব চাপ সামলে নিয়ে জনগণের সার্বিক উন্নয়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সফলতাও রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড, প্রবাসী কার্ড, ইমাম ভাতা, খেলোয়াড় ভাতাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজনীতির মাঠে সেই অর্থে কোনো আন্দোলন নেই। তবে বিগত প্রায় দেড় যুগে জনগণের চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান বেড়েছে বহুগুণ। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের প্রতি প্রত্যাশার চাপও বেড়েছে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের চ্যালেঞ্জও অনেক। মোটাদাগে জনগণের আশু বাস্তবায়নের প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে রয়েছে–দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ছয় মাস মেয়াদি একটি ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেশ কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে পাচ্ছে আড়াই হাজার টাকা। কৃষি ও সেচ সুবিধার জন্য খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। কৃষকদের জন্য ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বেশি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকার পাচ্ছেন। শিক্ষা খাত ও মেধা বিকাশে প্রতিটি উপজেলায় দুই লক্ষাধিক প্রাথমিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান। ভর্তিতে লটারি বাতিল ও শিক্ষা নকলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে। সামাজিক নিরাপত্তায় মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানিসংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে এবং বিদ্যুতের অসম চুক্তির সমাধানে কাজ চলছে।

১০০ দিনে সরকারের সফলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো–


জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিরোধিতা ও তীব্র মতপার্থক্য সত্ত্বেও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে সরকার। চলমান এই প্রক্রিয়া সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য রক্ষা করে গণতান্ত্রিক উন্নয়নের একটি দৃশ্যমান সাফল্য বলে প্রতীয়মান হয়। বিরোধিতাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে জাতীয় ইস্যুতে ঐকমত্য তৈরির সহায়ক ভূমিকায় সরকারের অবস্থান দেশের ইতিবাচক রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করেন অনেকেই।

জ্বালানিসংকট সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস

দেশের জ্বালানিসংকটের যৌক্তিক সমাধান খোঁজা ও জাতীয় স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে সরকারি দলের ৫ ও বিরোধী দলের ৫ জনসহ মোট ১০ সদস্যের একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুতের অসম চুক্তিগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা উচ্চমূল্যের ও বিতর্কিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটিও কাজ করছে। বিদ্যুৎ খাতের অসম চুক্তি সমাধানে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো সংশোধন এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালাচ্ছে সরকার।


বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো
ব্যবসার খরচ কমাতে ও বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বন্দরকেন্দ্রিক হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে সার্বিক কর্মদক্ষতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে–২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ছয় গুণ বাড়ানো। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা দ্রুত নিষ্পত্তি করে বিশ্বমানের সেবা ও লজিস্টিক হাব তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষতা বাড়াতে সম্প্রতি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

পে-স্কেল ঘোষণার সাহসী পদক্ষেপ
সরকার নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। এতে সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে। তীব্র আর্থিক সংকট ও বিপুল বাজেট ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাঝেও সরকারের এই পদক্ষেপকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সবাই। তিন বছরে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী দুই ধাপে বাড়ি ভাড়া এবং অন্য ভাতা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যবসায়িক ব্যয় কমানো, ডিরেগুলেশন বা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, খাতভিত্তিক রপ্তানি পরিকল্পনা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা প্রদানের বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মপরিবেশ সহজ করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোবদ্ধ সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কাজ চলছে। বৈশ্বিক বাজারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো নতুন অঞ্চলে দেশের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে সরকার খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতাও দিচ্ছে সরকার।

ঋণনির্ভর অর্থনীতি হবে না
চলতি অর্থবছর থেকে ঋণনির্ভর ও মূল্যস্ফীতি সৃষ্টিকারী বাজেট প্রণয়নের কৌশল থেকে সরে আসার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ধার নেওয়া বা নতুন টাকা ছাপানোর পরিবর্তে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ও দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। নতুন কৌশলের মধ্যে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অতীতে যেভাবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ধার করা হতো, সেই প্রবণতা থেকে সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন না করে দেশের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করে বিভিন্ন মহল।

আর্থিক খাত জোরদার
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিয়েছে। শিল্প খাতে গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। সংশোধিত শ্রম আইন সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যবসা সহজ করতে চট্টগ্রাম বন্দরের অতিরিক্ত মাশুল কমানোর পথে হাঁটছে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তিতে আসতে আলোচনা শুরু করেছে। এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার আগামী দিনে অর্থনীতিতে নতুন নতুন খাত যোগ করবে। নির্বাচিত সরকার দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দিয়েছে। পুরোনো বাজারে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজারের সন্ধানেও কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে নির্বাচনি অঙ্গীকার হিসেবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও সরকার সফলতা দেখাতে পারেনি।

সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট ভাঙতে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের ট্রাকসেল কার্যক্রম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে। বাজার সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য মোকাবিলায় এআই ও টিসিবি ছাড়াও বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে–নির্দিষ্ট উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতা আনা, কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব ছাড়াই বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে গুদামজাত করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া, স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা।

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা
অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ও বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তহবিলটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে ১০ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি আমানত হিসেবে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের গ্যারান্টি সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করছে। ঋণ বিতরণ ও গ্যারান্টি-গ্রাহকরা এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। প্রণোদনার অর্থের অনিয়ম বা অপব্যবহার রোধ করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানাগুলো চালু করতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উত্তরবঙ্গ কৃষি হাবের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার
দেশের সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ (প্রায় ৮০ হাজার) নিয়োগ পাবেন নারীরা। গ্রাম ও শহরের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এই বিশাল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রণয়ন ও টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী গঠন করে টার্গেটভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি এবং ঢাকার বাইরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্যাট্রল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের আটক করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের জন্য দ্রুতগতির মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন
পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও উত্তেজনার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক ও গভীর পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শুল্কহার যৌক্তিকীকরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শ্রম অধিকার উন্নয়ন, অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তি নিয়ে বিতর্ক চলছে।

দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধ
দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন। সেই থেকে কমিশনবিহীন মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন ও নতুন কোনো অভিযোগের অনুমোদন হয়নি। শত অভিযোগ জমা পড়লেও কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। পুরোনো অনুসন্ধান ও তদন্ত চললেও কার্যত স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। অনেকেই মনে করেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে, যে কারণে কমিশন পুনর্গঠনে বিলম্ব করা হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ