সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৩২, রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর ও পুনর্বাসন করেছে সরকার। ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে অধিকাংশ কর্মকর্তাকে অবসরকালীন পদবি থেকে উপরের এক থেকে দুই ধাপ পদোন্নতি ও সে অনুযায়ী অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় তথা কথিত ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও হাসিনুর রহমান হাসিনসহ বেশকিছু আলোচিত সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে দুই ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয়েছে। তবে তিনি মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় স্বাভাবিক অবসর হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া বিশেষ আর্থিক বা প্রণোদনা সুবিধায় ১ কোটি টাকা, বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে অন্য যেকোনো সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নের বিষয়েও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ওইসব গোপন বন্দিশালা থেকে আযমীসহ আরও অনেকেই মুক্ত হন। পরে তাদের বন্দিদশার নির্মম ও কষ্টের দিনগুলোর বিভিন্ন দিক ব্যাপক আলোচিত হয়।

বন্দিদশায় এমনই করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া আরেকজন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমানকেও দুই ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করা হয়। আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হওয়া এই সেনা কর্মকর্তাকে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ আর্থিক সুবিধায় ৫০ লাখ টাকা এবং বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে অন্য যেকোনো সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নের কথা বলা হয়েছে।


এ ছাড়া এই প্রজ্ঞাপনে ৮৭ নম্বর সিরিয়ালে ‘মরহুম’ মেজর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামকে তিন ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করা হয়েছে, যার চাকরির অবসরের তারিখ আগামী ১ জানুয়ারি। বিশেষ আর্থিক সুবিধায় ১ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জঙ্গিবাদে জড়িত অভিযোগে মেজর জাহিদুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তবে তার পরিবারের দাবি–জাহিদুল ইসলাম পূর্বে নিখোঁজ হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের আমলে তাকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তবে এই প্রজ্ঞাপনে মরহুম মেজর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ওই অভিযানে নিহত কি না বা এমন কিছু লেখা নেই।

ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তা স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সিনা ইবনে জামালী, মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সফিকুল ইসলাম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীসহ বিভিন্ন পদবির তিন বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিক অবসর, বাধ্যতামূলক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পাবেন। সুবিধা পাওয়া ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ