সিলেটের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুন ২০, ২০২২ ৭:২১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুন ২০, ২০২২ ৭:২১ পূর্বাহ্ণ

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পানিবন্দী মানুষের দু:খ-দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেট অঞ্চল পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সিলেটের বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনা প্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এদিকে, সিলেট নগরী ও উজানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাটি এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সিলেটে রোববার বিকেল পৌনে চারটা থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।

বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার সকালে সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রোববার বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো: মজিবর রহমান জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম এখনো পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে’ বলে জানান তিনি।

কাজ করছে ১৪০টি মেডিকেল টিম
সিলেটের বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ১৪০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই)-সিলেট-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, বন্যাক্রান্তদের এর ৪টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় স্থাপিত এসব প্ল্যান্ট থেকে ঘন্টায় ৬০০ লিটার করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, নৌকা দিয়ে আড়াই হাজার জারিকেন ভর্তি পানি বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ। তিনি জানান, পানি নেয়ার ক্ষেত্রে লোকজনের প্রচুর ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সিলেটের সাথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
একদিন পর সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে পানি উঠে যাওয়ায় শনিবার বিকেল থেকে সিলেট রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সিলেট থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। মাইজগাঁও স্টেশনের গুডস অফিসার নাঈমুর রহমান জানান, রোববার দুপুর ১২টায় আন্ত:নগর জয়ন্তিকা ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায়। এরপর বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে ট্রেন সিলেট রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায় বলে জানান নাঈমুর।

ডাকাত আতংক রোধে মোবাইলে মেসেজ দেবে পুলিশ
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ডাকাত আতংক প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক জানান, বন্যা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে সুবিধাভোগী চক্র ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে মেসেজ দেয়া হবে। রোববার রাতে পুলিশ টহল দিয়েছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

কুশিয়ারায় পানি বাড়ছে
সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্ট ও সারি নদীতে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারা দুটি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানিও বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-সিলেট এর বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, সুরমা নদী সিলেট পয়েন্টে রোববার দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। শনিবারের চেয়ে রোববার এ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ২৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এছাড়া, কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি রোববার আরো ৪৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার এ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৯৮ সেন্টিমিটার।
এদিকে, কুশিয়ারা নদী আমলসীদ পয়েন্টে শনিবার পর্যন্ত আমলসীদ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচে থাকলেও রবিবার এ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া, কুশিয়ারা নদী শেওলা পয়েন্টে ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৪৯ সেন্টিমিটার। এছাড়া সারি নদীতে বন্যার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো, সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা জানান, নদীর পানি কেবল সিলেট সদরে এবং সারিঘাটে কমেছে। অন্যান্য স্থানে পানি বাড়ছে। বন্যায় বিভিন্ন স্থানে পাউবো’র বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।

২৪ ঘন্টায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, রোববার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেটে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে, ২টার পর হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে, শনিবারের মতো ভারী বর্ষণ হবে না। সিলেটে সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাবার পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় তাপমাত্রাও বাড়তে পারে-যা বন্যার পানি নেমে যাবার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে রেকর্ড ৩০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ।

প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা
সিলেট নগরী ও উজানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাটি এলাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে সিলেটের সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সুনামগঞ্জ সদরে বন্যা দেখা দিলেও পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুরসহ নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট থেকে বন্যার পানি কিছুটা নেমেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এছাড়া, গোয়াইনঘাট, ছাতকেও পানি কিছুটা কমেছে। তবে, এখনো অনেক মানুষ পানিবন্দী।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ