সিলেটে ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেটে ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ৬, ২০২৪ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ৬, ২০২৪ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

 

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
সিলেটে ভোট নিয়ে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে ভাবতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। পাশাপাশি প্রার্থী ও তার সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখাটাও চ্যালেঞ্জের। চলছে টাকার খেলাও। এই অবস্থায় নির্বাচনের একদিন আগে থেকেই পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে জকিগঞ্জে হুসাম উদ্দিনের গাড়িবহরে ও ফেঞ্চুগঞ্জে ডা. দুলালের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ছাড়া ভোট প্রচারণায় বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- বিভিন্ন জায়গায় ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগসহ সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সিলেটে এখন পর্যন্ত ঘটেনি। কিন্তু ওইসব এলাকায় ঘটনা ঘটার পর থেকে সিলেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

বিট পুলিশিং ও গ্রামের মানুষকে কেন্দ্র পাহারায় রাখা হচ্ছে। এরমধ্যে যদি কেউ কেন্দ্রে গিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধমূলক নীতি গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনে ১৩টি উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে এক হাজার ১৩টি ও ভোট কক্ষ রয়েছে ৬ হাজার ৬টি। এসব কেন্দ্রে গতকাল থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোটের দিন রাত পর্যন্ত এ নজরদারি বহাল থাকবে। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- কেন্দ্রে যাতে নাশকতা না ঘটে সে কারণে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে। যারাই বিশৃঙ্খলা ঘটাতে চাইবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে- সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় দু’টি আসন রয়েছে। সিলেট-১ ও সিলেট-৩। প্রায় ২৯৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন- শুক্রবার বিকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টহল দল কাজ শুরু করেছে।

সাধারণ মানুষকেও এতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এদিকে- সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-১ ও সিলেট-৪ আসনে তেমন কোনো উত্তাপ ছিল না। দুই মন্ত্রীর এ দুটি আসনে শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে সিলেট-৩, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনের ভোট এরইমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এর আগে কানাইঘাট উপজেলা সদরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাম উদ্দিনের সমর্থকরা জানিয়েছেন- গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়ে একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষ। প্রচারণা শেষ হওয়ার পর এ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষের টাকা উড়ানো হচ্ছে এলাকায়। টাকা দিয়ে ভোট কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে টাকা বিতরণকালে পুলিশ কয়েকটি স্থানে ধাওয়াও দিয়েছে। সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগ দু’ভাগে বিভক্ত। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের পক্ষে রয়েছেন বড় অংশের নেতারা। নতুন করে আরেকটি অংশ তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে রয়েছেন।

গোলাপগঞ্জের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেনও ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। সিলেট-৩ আসনের নির্বাচন এরইমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে গত বুধবার হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় মুখোমুখি রয়েছে দু’পক্ষ। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দক্ষিণ সুরমায় নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবকে ছেড়ে স্বতন্ত্র দুলালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ ও চেয়ারম্যান শায়েস্তা। ফলে দক্ষিণ সুরমায়ও আওয়ামী লীগ বিভক্ত। এবং ভোটকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তিক্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সিলেট-২ আসনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান। তিনি গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কার কথা জানান।

ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারার আশঙ্কা প্রকাশ করে মুহিব বলেন- বাতাসে গুঞ্জন রয়েছে, আমাকে ফেল করাতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর্যবেক্ষণে আমি সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছি না। তাই সাংবাদিকদের সহযোগিতা আমার একান্তভাবে প্রয়োজন। এদিকে- সিলেটে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে ১৩টি উপজেলা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকায় ক্যাম্প বসিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা টহলে রয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি’র পক্ষ থেকেও প্রতিটি উপজেলায় ক্যাম্প বসানো হয়েছে। ভোটে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও সমর্থকরা এবং ভোটের বাইরে থাকা বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কর্মীরা যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটাতে পারে, সেজন্য আগে থেকেই সতর্ক অবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ