সিলেট-রাজশাহী সিটি নির্বাচন : ইভিএম নিয়ে যা বলছেন ভোটাররা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৩৮, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট-রাজশাহী সিটি নির্বাচন : ইভিএম নিয়ে যা বলছেন ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ২১, ২০২৩ ২:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ২১, ২০২৩ ২:৫৯ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে সিলেট-রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দুই সিটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলছে। কোন কোন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে এবারই প্রথম ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলছে। ফলে অনেকের ভোটদানে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে ইভিএমে ভোট প্রদান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ভোটাররাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহীর শতবর্ষী ভোটার শ্রী ভদ্র রানী। নগরীর মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘আমার বয়স ৯৮ বছর। এবার প্রথম ভোট দিলাম ইভিএমে। এর আগে আমি ব্যালটে ভোট দিয়েছি। আমার কাছে ইভিএম সহজ মনে হলো। শেষ বয়সে এসে ইভিএমে ভোট দেওয়ার স্বাদ পেলাম।’

নতুন ভোটার সাকিলা ইসলাম (১৯)। তিনি বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। অনেক ভালো লাগছে। সকালে মায়ের কাছে শুনে এসেছি ভোট কীভাবে দিতে হবে। তার পরেও প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না। পরে বুঝে শুনে ভোট দিয়েছি। জীবনের প্রথম ভোট। আশা করছি, যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। তিনি জয়যুক্ত হবেন।

আরেক ভোটার শামসুজ্জামান বলেন, ভোটার হওয়ার পর থেকে সব ভোট ব্যালট পেপারে দিয়েছি। টেলিভিশনে ইভিএম মেশিন দেখেছি। অনেকের মুখে শুনেছি ইভিএমে ভোট দেওয়ার কথা। কিন্তু এই প্রথম ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। শুধুমাত্র আমাদের প্রজন্মই বলতে পারবে একই সঙ্গে ব্যালট পেপার ও ইভিএমে ভোট দেওয়ার কথা। আমার ছেলে এবার নতুন ভোটার হলো। সে কখনও ভোট দেয়নি। এবার প্রথম ভোট তার। সে ইভিএমে ভোট দেবে।

রবিউল ইসলাম নামে একজন বলেন, গত নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট দিয়েছি। এবার ইভিএমে ভোট দিলাম। অনেক ভালো লাগছে। খুব দ্রুত ভোট দেওয়ার দুই ধরনের স্বাদ পেলাম। বাবা-দাদাদের যুগ শেষ। তাদের ব্যালট পেপারের যুগ ছিল। আমাদের ডিজিটাল যুগ। কোনো সিল মারামারি নাই। শুধু বোতাম টিপে ইভিএমে ভোট দিতে হবে।

এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অনেক নবীনরা বেশ উৎসাহ নিয়েই ইভিএমে ভোট দিচ্ছেন। নগরীর মদীনামার্কেট পল্লবী এলাকার বাসিন্দা ইয়াহিয়াদুল মনোয়ার। এবার তিনি নতুন ভোটার। প্রথম ভোট ইভিএমএ দিবেন প্রচুর উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন। শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা সেন্টারে পুরুষ বুথের প্রথম ভোট দেন তিনি।

ভোট দিয়ে এসে মনোয়ার বলেন, আমার প্রথম ভোট ইভিএমএ দিব বলে অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। ভালোভাবে ভোট দিতে পেরেছি। যদি সারাদিন মেশিন সচল থাকে তাহলে মনে হচ্ছে ভোটের জন্য ইভিএমএ পদ্ধতি ভালো। নগরীর ৮ নং ওয়ার্ড পনিটুলা এলাকার বাসিন্দা মুরাদ আহমদ। ব্যালটে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। তবে এবার ইভিএমে প্রথম ভোট দিবেন বলে অন্যরকম অনুভূতি তার। মুরাদ বলেন, প্রথমবার ভোট দেওয়ার সময় যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল, এবারও ইভিএমএ ভোটের কারণে একইরকম অনুভূতি হচ্ছে।

নগরীর পনিটুলা এলাকার অর্নাস পড়ুয়া রিয়া হালদারও এবার প্রথম ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি ভোট ব্যালট পেপারে হয়। কিন্তু আমি ভোট দিচ্ছি ব্যালট সিল ছাড়া। বিষয়টা অন্যরকম লাগছে। দেশ যে ডিজিটাল হয়েছে ইভিএম ভোটিং তার প্রমাণ। নগরীর নতুন ওর্য়াড হচ্ছে ৩৮ নম্বর। ওই ওয়ার্ডের ভোটার গৃহিণী শান্তনা আক্তার (২৩)। তিনি বলেন। ভোট দেওয়ার আগে কিছুটা ভয় লেগেছে। ভোট দেওয়ার পর ভালা লাগছে। কম্পিউটারে ভোট দেওয়া সহজই।

এদিকে দুই সিটি নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবন থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোট পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন। দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেন, ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। চার ঘণ্টায় ২০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। আর দুই সিটিতে সব মিলিয়ে ৪০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এ তিনি।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন ভোটের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ইভিএম নিয়ে অসন্তোষের কথা বলেছেন। এদিন সকাল সোয়া ১০ টার দিকে নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের আটকষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমি ইতোমধ্যে নগরীর পলিটেকনিক স্কুল কেন্দ্র, টিটিসি, নওদাপাড়াসহ ছয়টি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এ সময় আমি দেখেছি- ইভিএম খুবই ধীরগতিতে কাজ করছে। একটা ভোট দিতেই লাগছে সাত থেকে আট মিনিট। এক ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০টি ভোট নেওয়া হচ্ছে। এভাবে ইভিএম কাজ না করলে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা সময়ে অর্ধেক ভোট গ্রহণ করতে পারবে না ইভিএম।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ